নিজেকে ভালোবাসা কি স্বার্থপরতা?
আজকে আমি এসেছি আপনাদের সকলের সাথে একটি জেনারেল রাইটিং পোস্ট শেয়ার করতে। আমার লেখার মাধ্যমে আমার চিন্তা ভাবনা গুলো আপনাদের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্যে এই লেখাগুলো শেয়ার করা।
আশা করছি যে আপনারা আপনাদের মূল্যবান মন্তব্যের মাধ্যমেই আমার এই লেখাটি সৌন্দর্য বৃদ্ধি করবেন এবং আপনাদের মতামত ব্যক্ত করবেন। আমি যদি কোনো কিছু ভুল বলে থাকি। তাহলে অবশ্যই আমাকে শুধরে দিতে ভুলবেন না।
নিজেকে ভালোবাসা অনেকের কাছে হয়তো স্বার্থপরতা মনে হতে পারে। অনেক সময় শুনতে হয়, নিজেকে বেশি ভালোবাসিস, বা সব সময় নিজের কথা ভাবিস। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, নিজেকে ভালোবাসা মানেই কি সব সময় অন্যদের উপেক্ষা করা? আসলে বিষয়টা এমন না। আপনি যদি নিজেকে ভালো না বাসেন, তাহলে অন্য কাউকে ভালোবাসার শক্তিটাই তো আসবে না।আমাদের সমাজে এমন একটা ধারণা অনেক আগে থেকেই গেঁথে বসে আছে যে, সবসময় অন্যদের আগে ভাবতে হবে, তবেই আপনি ভালো মানুষ। কিন্তু আপনি নিজেই যদি ভিতরে ভিতরে ভেঙে পড়েন, তাহলে বাইরের কারো উপকারে কীভাবে আসবেন? নিজের অনুভূতি, নিজের প্রয়োজন, নিজের স্বস্তি এই জিনিসগুলো অস্বীকার করে আপনি শুধু একটা মুখোশ পরে বাঁচবেন, সেটা তো কারো জন্যই ভালো না।
নিজেকে ভালোবাসা মানে হচ্ছে নিজের প্রতি যত্নশীল হওয়া। নিজের মানসিক আর শারীরিক শান্তিটাকে গুরুত্ব দেওয়া। আপনি যদি একটা সময় নিজের জন্য না রাখেন, নিজের অনুভূতিগুলো না বোঝেন, তাহলে আপনি ধীরে ধীরে বিরক্ত, হতাশ আর ক্লান্ত হয়ে পড়বেন। তখন আবার তার প্রভাব পড়বে আপনার চারপাশের মানুষের উপরেও।অনেক সময় দেখা যায়, মানুষ নিজের সবটা দিয়ে অন্যদের জন্য করে যাচ্ছে, কিন্তু নিজের জায়গাটাই একদম ফাঁকা। কেউ যখন একটু নিজের কথা ভাবে, নিজের জন্য কিছু সময় চায়, তখনই তাকে স্বার্থপর বলা হয়। অথচ এটা খুবই স্বাভাবিক একটা মানবিক চাহিদা। আপনি তো রোবট না, যে শুধু কাজ আর দায়িত্ব পালন করে যাবেন। আপনি মানুষ, আপনারও আবেগ আছে, আপনারও নিজের প্রয়োজন আছে।
তবে হ্যাঁ, এমন না যে শুধু নিজেকেই ভালোবেসে আপনি অন্যদের কষ্ট দেবেন। বা শুধু নিজের স্বার্থ দেখবেন, সেটাই স্বার্থপরতা। কিন্তু যেখানে আপনি নিজেকে একটু সময় দিচ্ছেন, নিজের ভালোলাগা, মন্দলাগা বুঝছেন, সেখানে তো দোষের কিছু নেই। এটা বরং আপনাকে আরও ভালো মানুষ করে তোলে।সবশেষে একটা কথাই বলা যায়, নিজেকে ভালোবাসা মানে অন্যকে কম ভালোবাসা না। বরং যিনি নিজেকে ভালোবাসেন, তিনিই অন্যকে ভালোবাসার ক্ষমতা রাখেন বেশি। তাই এটা নিয়ে অপরাধবোধ করার কিছু নেই। বরং গর্ব হওয়া উচিত যে আপনি নিজেকে বুঝতে শিখেছেন।

