বিশ্বাস!
আজকে আমি এসেছি আপনাদের সকলের সাথে একটি জেনারেল রাইটিং পোস্ট শেয়ার করতে। আমার লেখার মাধ্যমে আমার চিন্তা ভাবনা গুলো আপনাদের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্যে এই লেখাগুলো শেয়ার করা।
আশা করছি যে আপনারা আপনাদের মূল্যবান মন্তব্যের মাধ্যমেই আমার এই লেখাটি সৌন্দর্য বৃদ্ধি করবেন এবং আপনাদের মতামত ব্যক্ত করবেন। আমি যদি কোনো কিছু ভুল বলে থাকি। তাহলে অবশ্যই আমাকে শুধরে দিতে ভুলবেন না।
আচ্ছা কিছু কিছু মানুষকে না আসলে আমি দেখেছি যারা স্বাভাবিক সময়ে সৃষ্টিকর্তাকে বিশ্বাস করে না। ওরা মনে করে পৃথিবীর সবকিছু যুক্তি দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় যে ধর্ম বা সৃষ্টিকর্তার ওপর বিশ্বাস করার কোনো প্রয়োজন নেই।কিন্তু মজার বিষয় হচ্ছে কি যখন জীবনে বড় কোনো বিপদ আসে বা যখন নিজের হাতে আর কিছু থাকে না বা যখন কোনো রাস্তা খুঁজে পাওয়া যায় না।তখন আবার সেই মানুষগুলোকেই সৃষ্টিকর্তার কাছে সাহায্য চাইতে দেখি।যে মানুষটাকে স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বাস করা হয় না,বিপদের সময় তাকেই মনে পরে।তো এই বিষয়টা আমার কাছে মাঝেমধ্যে সত্যিই চিন্তার মনে হয়।আসলে আমার প্রশ্নটা কাউকে ছোট করা বা কারো বিশ্বাস নিয়ে প্রশ্ন তোলা না বরং আমি বিষয়টা অন্যভাবে দেখি।যদি একজন মানুষ বিপদের সময় নিজের ধর্ম অনুযায়ী সৃষ্টিকর্তার কাছে সাহায্য চায়।তাহলে অন্তত তার মনের কোথাও একটা বিশ্বাস বা ভরসা তো আছে।হয়তো সেই বিশ্বাসটা সে স্বাভাবিক সময়ে প্রকাশ করে না বা হয়তো নিজেও সেটা নিয়ে খুব বেশি ভাবতে চায় না।কিন্তু বিপদের সময় যখন সবকিছু নিজের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।তখন তার মন স্বাভাবিকভাবেই সৃষ্টিকর্তার দিকে ফিরে যায়।
আমাদের অনেকের ক্ষেত্রেই হয়তো এমন কিছু বিষয় আছে যেগুলো নিয়ে আমরা নিজেরাই পুরোপুরি পরিষ্কার না।স্বাভাবিক সময়ে আমরা অনেক আত্মবিশ্বাসী থাকি।মানে মনে হয় যে সবকিছু নিজেরাই সামলে নিতে পারবো।নিজের সিদ্ধান্ত,নিজের পরিশ্রম আর নিজের পরিকল্পনার ওপরই ভরসা করি।কিন্তু হঠাৎ এমন কোনো পরিস্থিতি আসে যেখানে কোনো কিছুই আমাদের হাতে থাকে না।তখন বুঝতে পারি যে লাইফে এমন অনেক বিষয় আছে যেগুলো আমরা চাইলেও নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না।তো সেই জায়গা থেকেই হয়তো বিপদের সময় সৃষ্টিকর্তাকে মনে পরে।কারণ তখন মানুষের নিজের শক্তির সীমাটা বুঝতে পারে।আর তখন সে এমন একটা শক্তির কাছে যেতে চায় যার ওপর পুরোপুরি ভরসা করা যায় বলে তার মনে হয়।তো তাই আমার কাছে মাঝে মাঝে প্রশ্ন আসে যদি বিপদের সময় সৃষ্টিকর্তার কাছেই সাহায্য চাইতে হয়।তাহলে স্বাভাবিক সময়ে সেই বিশ্বাসটা স্বীকার করতে সমস্যা কোথায়?বিশ্বাস মানে তো সব প্রশ্নের উত্তর জানা না। বিশ্বাসের মধ্যেও প্রশ্ন থাকতে পারে,দ্বিধা থাকতে পারে,নিজের মতো করে বোঝার চেষ্টা থাকতে পারে। কিন্তু নিজের ভেতরে কোনো বিশ্বাস থাকলে সেটা স্বীকার করতেও তো সমস্যা হওয়ার কথা না।আবার এটাও সত্যি যে প্রত্যেক মানুষের বিশ্বাসের ধরন আলাদা।কেউ খুব গভীরভাবে বিশ্বাস করে,কেউ আবার অনেক প্রশ্নের মধ্য দিয়ে বিশ্বাসকে বোঝার চেষ্টা করে।কেউ প্রকাশ্যে ধর্ম পালন করে,কেউ নিজের মতো করে সৃষ্টিকর্তার সঙ্গে সম্পর্ক রাখে।তো তাই বাইরে থেকে কারো বিশ্বাসের মাত্রা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়াও ঠিক না।কিন্তু আমার চিন্তার জায়গাটা অন্যখানে।আমরা অনেক সময় নিজের ভেতরের কিছু সত্যকে স্বীকার করতে চাই না।হয়তো সমাজ কী বলবে,অন্যরা কী ভাববে বা নিজের পুরোনো ধারণার সঙ্গে সেটা মেলে না বলেই।কিন্তু নিজের ভেতরে যে অনুভূতিটা আছে সেটা অস্বীকার করলেই তো সেটা চলে যায় না।
আসলে বিপদের সময় যখন আমরা সৃষ্টিকর্তার কাছে সাহায্য চাই তখন হয়তো সেটাই আমাদের ভেতরের একটা সত্যকে সামনে নিয়ে আসে।সেই সত্যকে স্বীকার করা বা না করা অবশ্যই প্রত্যেক মানুষের নিজের বিষয়।কিন্তু আমার কাছে মনে হয় যে নিজের ভেতরের বিশ্বাসকে নিজের কাছেই অস্বীকার করে রাখার চেয়ে সেটাকে বোঝার চেষ্টা করাই বেশি স্বাভাবিক।কারণ শেষ পর্যন্ত মানুষ নিজের ভেতরের বিশ্বাস,প্রশ্ন আর অনুভূতিগুলোকে যতো ভালোভাবে বুঝতে পারে নিজের অবস্থান সম্পর্কেও ততো পরিষ্কার হতে পারে আরকি।

