অন্যের যত্নে!

আজকে আমি এসেছি আপনাদের সকলের সাথে একটি জেনারেল রাইটিং পোস্ট শেয়ার করতে। আমার লেখার মাধ্যমে আমার চিন্তা ভাবনা গুলো আপনাদের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্যে এই লেখাগুলো শেয়ার করা।

IMG_0378.jpeg


আশা করছি যে আপনারা আপনাদের মূল্যবান মন্তব্যের মাধ্যমেই আমার এই লেখাটি সৌন্দর্য বৃদ্ধি করবেন এবং আপনাদের মতামত ব্যক্ত করবেন। আমি যদি কোনো কিছু ভুল বলে থাকি। তাহলে অবশ্যই আমাকে শুধরে দিতে ভুলবেন না।

আমার কাছে মনে হয় অন্তত নিজের যত্ন করাটা আসলে খুবই বেসিক একটা বিষয়।এর জন্য খুব বড় কোনো আয়োজনের দরকার হয় না।মানে নিজের শরীর,মন,রেস্ট,প্রয়োজন আর ভালো লাগার বিষয়গুলো একটু খেয়াল রাখাই নিজের যত্নের মধ্যে পরে।কিন্তু আমার মাঝে মাঝে মনে হয় যে আমরা মেয়েরা এই সাধারণ বিষয়টাই সবচেয়ে বেশি ভুলে যাই।কারণ আমাদের মাথায় দিনের বেশিরভাগ সময় ঘুরতে থাকে অন্যদের কীভাবে ভালো রাখা যায়,কার কী দরকার,কে কী চায়,কার কোনো সমস্যা হচ্ছে কিনা।সবার কথা ভাবতে ভাবতেই একটা সময় নিজের কথাটাই বেমালুম ভুলে যাই।আর আমাদের অনেকের মধ্যেই ছোটবেলা থেকে একটা অভ্যাস তৈরি হয়ে যায় যে আগে অন্যদের কথা ভাবতে হবে।পরিবারের কার কী প্রয়োজন,ঘরের কী কাজ বাকি,কার জন্য কী করতে হবে,কে অসুস্থ,কে মন খারাপ করে আছে এসব নিয়ে আমরা খুব সহজেই চিন্তা করি।কিন্তু নিজের শরীর খারাপ লাগছে কিনা,ঠিকমতো খাওয়া হচ্ছে কিনা,এনাফ রেস্ট হচ্ছে কিনা,নিজের মনটা আসলে কেমন আছে মানে এসব প্রশ্ন করার সময় যেনো আমাদের থাকে না।ঠিক বললাম তো?

আর সবচেয়ে অবাক করার বিষয় হচ্ছে অন্য কেউ নিজের যত্ন না নিলে আমরা খুব সহজেই তাকে বুঝাতে পারি যে নিজের দিকে একটু খেয়াল রাখা দরকার।কিন্তু একই কথা যখন নিজের ক্ষেত্রে আসে তখন নানা অজুহাত চলে আসে।এখন কাজ আছে পরে বিশ্রাম নিবো।আর এখন সবাইকে সামলাই, পরে নিজের জন্য সময় বের করবো।এখন এই দায়িত্বটা শেষ করি তারপর নিজের দিকে তাকাবো।এই করতে করতে সেই পরে আর আসে না।অনেক সময় আমরা নিজের প্রয়োজনকে খুব ছোট করে দেখি।একটু ঘুম দরকার হলেও কাজ চালিয়ে যাই।মন খারাপ থাকলেও কাউকে বুঝতে দিই না।শরীর ক্লান্ত হলেও দায়িত্ব পালন করতে থাকি।নিজের পছন্দের কিছু করার ইচ্ছা থাকলেও মনে হয় এগুলো পরে করা যাবে। লঅথচ একটা মানুষকে দীর্ঘদিন ভালো রাখতে হলে তার নিজের যত্ন নেওয়াটাও জরুরি।আর নিজের যত্ন মানে শুধু সাজগোজ করা বা বাইরে গিয়ে সময় কাটানো না। লনিজের যত্ন মানে নিজের শরীরকে গুরুত্ব দেওয়া,সময়মতো খাওয়া,রেস্ট নেওয়া, প্রয়োজন হলে না বলা, লনিজের মানসিক চাপকে গুরুত্ব দেওয়া, লনিজের জন্য কিছু সময় রাখা।এমনকি কোনোদিন কিছু না করেও শান্তিতে বসে থাকা নিজের যত্নের অংশ হতে পারে।

আর একটা বিষয় আমাদের মেয়েদের বিশেষভাবে মনে রাখা দরকার, লঅন্যদের যত্ন করা আমাদের দায়িত্ব হতে পারে।কিন্তু সবসময় নিজেদের বাদ দিয়ে না।আমরা পরিবারের জন্য করবো,প্রিয় মানুষদের জন্য করবো,যাদের প্রয়োজন তাদের পাশে থাকবো।কিন্তু এর মাঝেও নিজের জন্য কিছুটা জায়গা রাখতে হবে।কারণ নিজের যত্ন নেওয়া স্বার্থপরতা না।এটা নিজের প্রতি একটা বেসিক দায়িত্ব।আমরা যদি সবসময় অন্যদের ভালো রাখার চিন্তায় নিজেদের শরীর আর মনকে অবহেলা করতে থাকি।তাহলে একটা সময় গিয়ে নিজেরাই ক্লান্ত হয়ে যাবো।আর অন্যদের যত্ন করার পাশাপাশি নিজেদের যত্ন নেওয়াটাকেও স্বাভাবিক অভ্যাস বানানো দরকার।সবার জন্য সময় থাকবে,সবার প্রয়োজন বুঝবো,সবার পাশে থাকবো।কিন্তু সেই তালিকায় নিজেকেও রাখতে হবে।কারণ আমরা নিজেরাও যত্ন পাওয়ার যোগ্য আর সবচেয়ে মেইন বিষয় হচ্ছে নিজের যত্নটা অন্তত নিজের কাছ থেকে পাওয়ার অধিকার আমাদের আছে।

ABB.gif