সব ঠিক তবুও যেনো মানসিক অশান্তিতে আক্রান্ত আমরা!

আজকে আমি এসেছি আপনাদের সকলের সাথে একটি জেনারেল রাইটিং পোস্ট শেয়ার করতে। আমার লেখার মাধ্যমে আমার চিন্তা ভাবনা গুলো আপনাদের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্যে এই লেখাগুলো শেয়ার করা।

IMG_0378.jpeg


আশা করছি যে আপনারা আপনাদের মূল্যবান মন্তব্যের মাধ্যমেই আমার এই লেখাটি সৌন্দর্য বৃদ্ধি করবেন এবং আপনাদের মতামত ব্যক্ত করবেন। আমি যদি কোনো কিছু ভুল বলে থাকি। তাহলে অবশ্যই আমাকে শুধরে দিতে ভুলবেন না।

সবকিছু ঠিকঠাক চলছে, বাইরে থেকে দেখলে মনে হয় জীবনে কোনো সমস্যা নেই। পড়াশোনা হচ্ছে, কাজ চলছে, পরিবার পাশে আছে, বন্ধু-বান্ধবও আছে তারপরও যেনো ভেতরে একটা অজানা অশান্তি কাজ করে। মনটা ঠিক শান্ত হতে চায় না। সবকিছু থাকার পরেও মনে হয় যেনো কিছু একটা নেই, কিছু একটা অপূর্ণ। এই অদৃশ্য অশান্তিটাই আসলে আমাদের আজকের সময়ের সবচেয়ে বড় মানসিক সমস্যা। আমরা এখন এমন একটা সময়ে আছি, যেখানে সব কিছু খুব দ্রুত বদলাচ্ছে। প্রযুক্তি, সোশ্যাল মিডিয়া, চারপাশের প্রতিযোগিতা সব কিছু যেনো আমাদেরকে সবসময় ব্যস্ত করে রাখে। মাথায় চাপ, মনে চাপ সব একসাথে মিলে যায়। একটা অদ্ভুত তাড়াহুড়া, সবকিছু পাওয়ার একটা দৌড়। আর সেই দৌড়ে আমরা নিজের সঙ্গে থাকা ভুলে যাই।

আমাদের মনের অনেক কথা আমরা কাউকে বলি না, হয়তো বলার মতো মানুষ পাই না। অনেকে ভাবি বলার দরকার কী, কেউ বোঝেও না।এই না বলা কথা জমতে জমতে একসময় ভেতরে ভার হয়ে যায়। তখন বাইরে হাসলেও, ভেতরে একটা চাপা কষ্ট লেগেই থাকে।তাছাড়া এখনকার সমাজে সবকিছুকে তুলনা করার একটা প্রবণতা আছে। কার জীবনে কী আছে, কে কতটা সুখে আছে, সেটা দেখে নিজেরটা ছোট মনে হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় সবাই সবসময় সুখী, সফল এমন একটা ছবি তুলে ধরে যেটা দেখে আমাদের নিজের জীবনের প্রতি অসন্তুষ্টি জন্মায়। আসলে সবাই ভালো নেই, কিন্তু কেউ তা প্রকাশ করে না।

আরও একটা ব্যাপার হলো নিজেকে সময় না দেওয়া। সারাদিন ফোন, কাজ, মানুষ, দায়িত্ব এসবের মাঝে নিজের জন্য একটু সময় রাখি না। নিজের মনকে জিজ্ঞেস করি না, তুই ঠিক আছিস তো?এই দূরত্বটাই মনের শান্তি কেড়ে নেয়।এই মানসিক অশান্তি থেকে মুক্তি পেতে হলে আমাদের দরকার নিজের সঙ্গে সময় কাটানো, নিজের অনুভূতিগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া, নিজের কথা বলার মতো একজন মানুষ থাকা, আর নিজের জীবনটা অন্যের সঙ্গে তুলনা না করা।

সব ঠিক থাকলেও, মন যদি ঠিক না থাকে, তাহলে কিছুই ঠিক মনে হয় না। তাই নিজের মনকে বোঝা, তার কথা শোনা, এইটুকুই সবচেয়ে বেশি জরুরি।

ABB.gif