আবহাওয়া পরিবর্তন ও বাংলাদেশের কৃষি ব্যবস্থা

আজকে আমি এসেছি আপনাদের সকলের সাথে একটি জেনারেল রাইটিং পোস্ট শেয়ার করতে। আমার লেখার মাধ্যমে আমার চিন্তা ভাবনা গুলো আপনাদের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্যে এই লেখাগুলো শেয়ার করা।

IMG_0378.jpeg


আশা করছি যে আপনারা আপনাদের মূল্যবান মন্তব্যের মাধ্যমেই আমার এই লেখাটি সৌন্দর্য বৃদ্ধি করবেন এবং আপনাদের মতামত ব্যক্ত করবেন। আমি যদি কোনো কিছু ভুল বলে থাকি। তাহলে অবশ্যই আমাকে শুধরে দিতে ভুলবেন না।

বাংলাদেশের অর্থনীতি অনেকাংশেই কৃষি নির্ভর। দেশের অধিকাংশ মানুষ এখনও কৃষিকাজের উপর নির্ভর করে বাঁচে। কিন্তু যেভাবে দিনকে দিন আবহাওয়া বদলাচ্ছে, সেটা বাংলাদেশের কৃষির উপর এক বিশাল প্রভাব ফেলছে। আগে যেখানে নির্দিষ্ট ঋতুতে বৃষ্টি হতো, সেখানে এখন সময় মতো বৃষ্টি হয় না। আবার যখন দরকার নেই, তখন হঠাৎ বন্যা, ঘূর্ণিঝড় বা অতিবৃষ্টি এসে ফসল নষ্ট করে দেয়।

এই কারণে অনেক কৃষক ফসল ফলাতে ভয় পাচ্ছে। কেউ আবার আগের মতো ফলাতে পারছে না। ধান, পাট, গম, ভুট্টা, শাকসবজি সব কিছুর উৎপাদনে এখন অনিশ্চয়তা চলে এসেছে। আগে একটা মৌসুমে যা ফলত, এখন সেটা অনেক কমে গেছে। কখনো অতিরিক্ত গরমে ধান শুকিয়ে যায়, আবার কখনো ঠান্ডায় বীজ নষ্ট হয়ে যায়।

বিশেষ করে উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততা বেড়ে গেছে। সাগরের পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ার কারণে অনেক জমি এখন আর আগের মতো চাষ করা যাচ্ছে না। চাষাবাদ বন্ধ হয়ে গেছে অনেক জায়গায়। ফলে কৃষকরা বাধ্য হয়ে পেশা বদলাচ্ছে, কেউ কেউ শহরে চলে যাচ্ছে কাজের খোঁজে। এতে করে গ্রামও পিছিয়ে পড়ছে।

আবহাওয়ার এই পরিবর্তনের কারণে পোকামাকড়ের আক্রমণও বেড়ে গেছে। ফসলে নানা রকম রোগবালাই দেখা দিচ্ছে। ফলে উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে, কিন্তু লাভ কমে গেছে। কৃষকরা দিন শেষে লোকসান গুনছে।

তবে এই পরিস্থিতি থেকে বের হওয়ার জন্য কিছু ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। প্রথমত, সরকার ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত জলবায়ু সহনশীল বীজ উদ্ভাবন করা। দ্বিতীয়ত, কৃষকদের সচেতন করা এবং প্রশিক্ষণ দেওয়া প্রয়োজন, যেন তারা নতুন পদ্ধতিতে কৃষিকাজ করতে পারে। তৃতীয়ত, কৃষকদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ ও প্রণোদনা দিতে হবে, যাতে তারা ক্ষতির পর আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারে।

আবহাওয়ার পরিবর্তন থামানো না গেলেও এর সাথে মানিয়ে নেওয়ার উপায় খুঁজে বের করতে হবে। কৃষক বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে। তাই কৃষির দিকে বেশি মনোযোগ দেওয়া এখন সময়ের দাবি।

ABB.gif