অন্যের মতামতের ভয়ে আমরা নিজের মতো চলতে ভয় পাই কেনো?
আজকে আমি এসেছি আপনাদের সকলের সাথে একটি জেনারেল রাইটিং পোস্ট শেয়ার করতে। আমার লেখার মাধ্যমে আমার চিন্তা ভাবনা গুলো আপনাদের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্যে এই লেখাগুলো শেয়ার করা।
আশা করছি যে আপনারা আপনাদের মূল্যবান মন্তব্যের মাধ্যমেই আমার এই লেখাটি সৌন্দর্য বৃদ্ধি করবেন এবং আপনাদের মতামত ব্যক্ত করবেন। আমি যদি কোনো কিছু ভুল বলে থাকি। তাহলে অবশ্যই আমাকে শুধরে দিতে ভুলবেন না।
সবসময় ই আমরা নিজেদের মতো করে চলতে চাই, নিজের পছন্দ অনুযায়ী জীবন কাটাতে চাই, কিন্তু সবসময় পারি না। এর পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হলো অন্যের মতামতের ভয়। আমরা ভাবি, মানুষ কী বলবে? তারা কীভাবে নেবে? আর এই ভাবনাটাই ধীরে ধীরে আমাদের নিজের চাওয়া-পাওয়া, পছন্দ-অপছন্দ সব কিছু ছাপিয়ে যায়। তখন নিজেকে ভুলে গিয়ে অন্যের ইচ্ছামতো চলতে বাধ্য হই।ছোটবেলা থেকেই আমাদের শেখানো হয়, ও এটা বললে খারাপ দেখাবে,লোকে হাসবে,মানুষ কী ভাববে?। সেই জায়গা থেকেই এক ধরণের ভয় তৈরি হয়। একটা সময় এই ভয়টা আমাদের অভ্যাসে পরিণত হয়ে যায়। ফলে আমরা নিজের মতো করে চিন্তা করলেও, তা প্রকাশ করতে সাহস পাই না। নিজের সিদ্ধান্তে চলার জন্য যা দরকার সেই আত্মবিশ্বাসটা তৈরি হয় না। কারণ চারপাশের মানুষজন ঠিকই বোঝাতে থাকে যে তুমি ভুল করছো,তোমার এমনটা করা ঠিক না,এইভাবে চললে কেউ তোমাকে গ্রহণ করবে না
আসলে সবাই চায় সমাজে গ্রহণযোগ্য হতে। নিজের পরিবার, বন্ধুবান্ধব, পরিচিতরা যেন খারাপ কিছু না ভাবে এই চিন্তাটা অনেক বড় হয়ে যায়। তখন নিজের ইচ্ছাগুলো ছোট হতে হতে এক সময় হারিয়েই যায়। আর যারা এই সামাজিক বাধা ভেঙে নিজের মতো করে চলতে চায়, তাদের অনেক ক্ষেত্রেই কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়। ফলে কেউ কেউ এক পর্যায়ে হাল ছেড়ে দেয়।তবে এটাও ঠিক, সবসময় অন্যের মতামতের ভয়কে দোষ দিলেই হবে না। আমাদের নিজেদের ভেতরে যে আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি, সেটাও একটা বড় কারণ। যদি নিজেকে নিয়ে নিশ্চিত থাকা যায়, নিজের সিদ্ধান্তের পেছনে যুক্তি থাকে, তবে অন্যের কথা শুনেও নিজের পথে চলা সম্ভব।অবশ্যই সামাজিক মতামতকে সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করাও ঠিক না। কিন্তু এমনও না যে অন্যের কথাই সব। নিজের ইচ্ছা, নিজের চাওয়া পাওয়াগুলোকেও গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ দিনের শেষে জীবনটা নিজের, অন্য কারো না। আপনি যদি নিজের মতো করে না চলেন, তাহলে জীবনের শেষ প্রান্তে গিয়ে আফসোসটা আপনারই থাকবে।

