হারিয়ে যাওয়া বিকেল!!
আমার বাংলা ব্লগে,সবাইকে স্বাগতম।
আমি @emon42.
বাংলাদেশ🇧🇩 থেকে
মানুষের জীবন থেকে সময় ঠিক কীভাবে চলে যায় এটা যেন ঐ মানুষটাই বুঝতে পারে না। কোনভাবেই না। কিন্তু পরবর্তীতে যখন পিছনে ফিরিয়ে তাকায় তখন দেখে কতকিছু ফেলে এসেছে। সেগুলো হয়তো আর কখনোই ফিরে পাবে না। জীবনের সেরা সময় তো তখনই ছিল। গতদিন আমি আমার ফোনের পুরাতন গ্যালারি ঘাছটিলাম। ঐ একটা ডকুমেন্ট খুজছিলাম আর কী। ঐ মূহূর্তে হঠাৎ এই চায়ের কাপের ছবিটা দেখি। তখনই মনে পড়ে গেল সেই বিকেল টার কথা। সেই বিকেল না বলে সেই সময়ের বিকেল বলা হয়তো বেশি ভালো হবে। তখন কোন নিয়মের মধ্যে ছিলাম না। কারো আদেশ নিষেধ মেনে চলা লাগতো না। তখন ছিলাম একেবারে স্বাধীন। ২০২১ সালের কথা। অক্টোবর নভেম্বর মাসের কথা হবে সম্ভবত। সারা টা দিন কাটলেও বিকেল টা বেশ বিরক্তিকর লাগতো।
বিরক্তি কাটানোর জন্য আমি আর আমার বন্ধু লিখন ঘুরতে বের হতাম। এদিক সেদিক ঘোরাঘুরি করে শেষ বিকেলের দিকে আমরা ফিরে আসতাম গড়াই নদীর পাড়ে এই জায়গাটাই। তখন অবশ্য ওখানে অনেক মানুষের সমাগম থাকতো। প্রথমত দিনের একেবারে শেষ ভাগ সূর্য তখন পশ্চিম আকাশে হেলে পড়েছে। দ্বিতীয়ত নদীর পাশে। একেবারে স্বয়ংসম্পূর্ণ একটা পরিবেশ। আমি লিখন ওখানে বসে গল্প করতাম আড্ডা দিতাম। বিভিন্ন বিষয়ে কথা চলতো। এবং আমাদের সেই পছন্দের গরুর দুধের চা। এই কাপে সেই চা' ই দেখছেন। জাহিদ মামার দোকানের চা খেতে খেতে কতগুলো বিকেল আর সন্ধ্যা আমরা এভাবে কাটিয়েছি তার কোন ঠিক নেই। তখন অনূভুতি টা এমন ছিল ঐভাবে যেন অগণিত সময় আমরা কাটিয়ে দিতে পারব কোন বিরক্তি ছাড়া।
এরপর বেশ কিছু বছর কেটে গিয়েছে। ঘটনাচক্রে জাহিদ মামার দোকান আর ওখানে নেই। আমরা ওখানে যাই বিকেলে সময় কাটাই তবে জাহিদ মামার চা আর খাওয়া হয় না। আমি যখনই বাড়ি যায় বেশ কয়েকটা বিকেল কাটায় এম এন স্কুলের পেছনে এই গড়াই নদীর পাড়ে। ওখানে গেলে যেন আমার কৈশোর আমি ফিরে পায়। বন্ধুদের স্মৃতি ফিরে আসে। কতশত বদমাইসির কথা মনে পড়ে যায়। গতকাল ছবিটা দেখে যতটা না ভালো লাগছিল তার চেয়েও বেশি আফসোস হচ্ছিল। আমরা শান্তির জন্য সুখের জন্য নিজের এলাকা ছেড়েছি। কিন্তু সেই শান্তি সেই সুখ তো পড়ে রয়েছে আমার নিজের শহরেই। এখন আমার বিকেল গুলো নদীর পাড়ে সূর্যাস্ত দেখতে দেখতে আর চা খেতে খেতে কাটে না। এখন আমার বিকেল গুলো কাটে হয় ঢাকার রাস্তার সুদীর্ঘ যানজট দেখে অথবা বিভিন্ন যন্ত্রপাতির সাথে।
এই মাসে বাড়ি যাওয়ার একটা পরিকল্পনা আছে। কিন্তু এখন বাড়ি গিয়েও আর আগের মতো আনন্দ পায় না উপভোগ করতে পারি না মোটেও। আমার সব বন্ধুরা এখন এলাকার বাইরে। বিশেষ করে লিখনের কথা বলতে হয়। কুমারখালীতে আমরা দুজন সবচাইতে বেশি সময় একসঙ্গে কাটিয়েছি। লিখন এখন দেশের বাইরে বলা যেতে পারে। ও আবার কবে আসবে ঠিক নেই। এবার বাড়ি গেলেও ওখান যাব। বিকেল টা পুরোপুরি একা একা বসেই কাটিয়ে দেব। কিন্তু সেই সময় আর ফিরে পাব না কোনভাবেই। সেই হারিয়ে যাওয়া বিকেল আর কখনোই ফিরে আসবে না। সময়ের সাথে আমাদের বয়স বাড়ে আমরা বুঝতে শিখি অনেক দায়িত্ব এসে পড়ে আমাদের উপর। আর আমরা আমাদের সেই সুন্দর জীবন ছেড়ে দিয়ে ছুটতে থাকি এক অনিশ্চিত সুখের পেছনে। কিন্তু সেই বিকেল গুলো আর আমরা ফিরে পায় না।
সবাইকে ধন্যবাদ💖💖💖।
অনন্ত মহাকালে মোর যাএা অসীম মহাকাশের অন্তে। যারা আমাদের পাশে আছে তারা একটা সময় চলে যাবেই, এটা তাদের দোষ না। আমাদের জীবনে তাদের পার্ট ওইটুকুই। আমাদের প্রকৃত চিরশখা আমরা নিজেই, তাই নিজেই যদি নিজের বন্ধু হতে পারেন, তাহলে দেখবেন জীবন অনেক মধুর।তখন আর একা হয়ে যাওয়ার ভয় থাকবে না।
আমি ইমন হোসেন। আমি একজন বাংলাদেশী। আমি একজন ছাএ। তবে লেখাপড়া টা সিরিয়াসলি করি না হা হা। লেখালেখি টা বেশ পছন্দ করি। এবং আমি ফুটবল টা অনেক পছন্দ করি। আমার প্রিয় লেখক হলেন জীবনানন্দ দাস। আমি একটা জিনিস সবসময় বিশ্বাস করি মানিয়ে নিতে এবং মেনে নিতে পারলেই জীবন সুন্দর।।




.png)



Daily task
https://x.com/Emon423/status/1996128303665828199?t=ZknfsPT5G191IBTgrarTZw&s=19
https://x.com/Emon423/status/1996128560093036637?t=rEUH-eV7QtmQ6nehIauQOg&s=19