দূর্নীতি এবং স্বজনপ্রীতি।

in আমার বাংলা ব্লগ2 months ago


আমার বাংলা ব্লগে,সবাইকে স্বাগতম।

আজ বৃহস্পতিবার, ৩০ ই অক্টোবর ,২০২৫।

আমি @emon42.

বাংলাদেশ🇧🇩 থেকে


1000586602.jpg


কিছু কিছু সমস্যা কখনোই পরিবর্তিত হবে না। সবসময় সেটা সেইরকমই থাকবে। যেই আসুক না কেন আমাদের মানসিকতা পরিবর্তন করতে না পারলে কিছুই সম্ভব না। এই দেশের মানুষের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঘুন ধরে গেছে। এদের কে আর হয়তো ঠিক করা একেবারেই সম্ভব না। ক্ষমতাসীন অধিকাংশ মানুষের মধ্যে সেই সেচ্ছাচারিতা সেই দূর্নীতি রয়েই গিয়েছে। যাইহোক ব‍্যাপার টা একেবারে প্রথম থেকে বলি। আমার বন্ধু লিখনের কথা অনেক বার বলেছি আপনাদের কে। লিখন এবং আমি এসএসসি পযর্ন্ত একসঙ্গে লেখাপড়া করলেও এসএসসির পরে ভিন্নপথে চলে যায়। লিখন মেরিন ইনস্টিটিউটে ভর্তি হয়। তবে আমাদের যোগাযোগ অব‍্যাহত থাকে আগের মতোই। মেরিনের লেখাপড়া শেষ করার পরে লিখন বেশ প্রায় দেড় বছর বসে ছিল।

আমি ততদিনে জবে ঢুকে গিয়েছি। কিন্তু লিখন তখনও শীপে উঠেনি। ওর সবকিছু ঠিক থাকলেও ঐভাবে শীপ পাচ্ছিল না। অবশেষে গত সেপ্টেম্বর মাসে ও শীপে উঠে। শীপে উঠার পরে জয়েন করে সবকিছু ঠিকঠাক যাচ্ছিল। কিন্তু একসপ্তাহ পরেই লিখনের একটা সমস্যা হয়ে যায়। ও শারীরিক ভাবে কিছুটা অসুস্থ হয়ে যাওয়াই শীপ থেকে ওকে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এবং বলা হয় সুস্থ্য হলে আবার উঠতে। লিখন পরবর্তী কিছুদিনের মধ্যে সুস্থ্য হয়ে গেলে আবার যোগাযোগ শুরু করে শীপিং কোম্পানির সাথে। ও কাগজপত্র আবার সব জমা দেয়। অবশেষে তারা আবার গতকালকে ওকে ডাকে জয়েন করার জন্য। মোটামুটি কিছু ফর্মালিটি শেষ করেই জয়েন করবে এমন ছিল অবস্থা টা।



চট্টগ্রাম শীপিং কর্পোরেশন অফিসে গিয়ে লিখন যথারীতি নিজের স‍্যালারি শীটে সাইন করে সবকিছু ঠিকঠাক করে ফেলেছে। ঠিক তখনই লিখনকে ঐখানের এক কর্মকর্তা বলে তোমাকে এই শীপে পাঠানো সম্ভব না। কারণ জিজ্ঞেস করলে উনারা বলে ঢাকা থেকে এক সচিব ফোন করেছে তার বোনের ছেলের জন্য। সে এসেছে এই শীপে তাকেই দিতে হবে। অর্থাৎ লিখনের পরিবর্তে ঐ ছেলে উঠবে লিখন প্রথমত সেটা মেনে নেয়নি। ফলাফল হুমকি ধামকি চলে আসে। সে একজন সচিব চাইলে তোমার ক‍্যারিয়ার নষ্ট করে দিতে পারে তুমি আর কখনোই কোন শীপে উঠতে পারবা না এই সেই। তারপর উনারা বলে ঠিক আছে তোমাকে পরবর্তীতে শীপে ১৫ দিনের মধ্যে হয়ে যাবে। কোন উপায় না দেখে লিখন সেটা মেনে নেয়।

এখানে একজন সচিব তার অবৈধ শক্তি প্রয়োগ করে এমনটা করলো। গতকাল রাতে যখন লিখনের সাথে কথা হচ্ছিলো তখন ও বাসের মধ্যে কুমারখালীতে ফিরছে। তখন এভাবেই কথাগুলো বলছিলো। ব‍্যাপার টা আমি নিজেও বুঝতে পারলাম। সাধারণ মানুষেরা ঠিক এইভাবেই অবহেলিত হয়ে যাচ্ছে। তাদের প্রাপ‍্য জিনিস তারা পাচ্ছে না। নিজেদের ক্ষমতার জোরে অন‍্যরা সেটার সুবিধা নিচ্ছে। দেশের অধিকাংশ সরকারি দপ্তরের অবস্থা ঠিক এমন। এইজন্যই বললাম এই জাতি পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গিয়েছে। এরমধ্যে পজেটিভ আর কিছু আমি একেবারেই খুজেঁ পায় না। পঁচে গিয়েছে সবকিছু। এখন আর কোন ঔষধে কাজ হবে না। এখন প্রয়োজন সার্জারি। কিন্তু সেই সার্জারি করবে কে সেরকম সার্জন কোথায়??



সবাইকে ধন্যবাদ💖💖💖।



IMG-20231027-WA0008.jpg

Facebook
Twitter
You Tube



অনন্ত মহাকালে মোর যাএা অসীম মহাকাশের অন্তে। যারা আমাদের পাশে আছে তারা একটা সময় চলে যাবেই, এটা তাদের দোষ না। আমাদের জীবনে তাদের পার্ট ওইটুকুই। আমাদের প্রকৃত চিরশখা আমরা নিজেই, তাই নিজেই যদি নিজের বন্ধু হতে পারেন, তাহলে দেখবেন জীবন অনেক মধুর।তখন আর একা হয়ে যাওয়ার ভয় থাকবে না।


আমি ইমন হোসেন। আমি একজন বাংলাদেশী। আমি একজন ছাএ। তবে লেখাপড়া টা সিরিয়াসলি করি না হা হা। লেখালেখি টা বেশ পছন্দ করি। এবং আমি ফুটবল টা অনেক পছন্দ করি। আমার প্রিয় লেখক হলেন জীবনানন্দ দাস। আমি একটা জিনিস সবসময় বিশ্বাস করি মানিয়ে নিতে এবং মেনে নিতে পারলেই জীবন সুন্দর।।





Amar_Bangla_Blog_logo.jpg

Banner(1).png

3jpR3paJ37V8JxyWvtbhvcm5k3roJwHBR4WTALx7XaoRovUdcufHKutmnDv7XmQqPrB8fBXG7kzXLfFggSC6SoPdYYQg44yvKzFDWktyjCspTTm5NVQAdTm7UoN34AAMT6AoF.gif



Heroism_Second.png


1000561739.png