গুপ্ত হইলে এমনই গুপ্ত হওয়া উচিত আসলে। ব্রাভো।steemCreated with Sketch.

in #bd2017 days ago

1000441431.jpg

আজকে দুটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটেছে—(16.2.26)

১। বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথবাক্য পাঠ করেননি।

২। উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, যাকে বিএনপিবিরোধী মনে করা হতো, তিনি বিএনপি সরকারের মন্ত্রীত্ব লাভ করেছেন।

বিএনপি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তারা এখনই সংবিধান সংস্কারক হিসেবে শপথ নেবে না। এ বিষয়ে তারা যে অজুহাত দেখিয়েছে তা হলো— বর্তমান সংবিধানে সংস্কারবিষয়ক শপথ কে পাঠ করাবেন তার উল্লেখ নেই, তাই তারা শপথ গ্রহণ করবে না। অর্থাৎ, যে সংবিধানকে পরিবর্তন করতে চায় জনগণ, সেই সংবিধানকেই ব্যবহার করে “সংস্কার” প্রক্রিয়াকে স্থগিত রাখা হচ্ছে। শুরু থেকেই বিএনপির মধ্যে সংবিধান পরিবর্তনের তেমন কোনো স্পষ্ট আগ্রহ দেখা যায়নি; এখন তাদের কর্মকাণ্ডে সেটিই আরও পরিষ্কার হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে গণভোট তার কার্যকারিতা হারাতে যাচ্ছে। মূলত এই আশঙ্কার কারণেই এনসিপি ‘জুলাই সনদে’ স্বাক্ষর করা থেকে বিরত ছিল। যে দলের সরকার গঠনের সম্ভাবনা প্রবল, তাদের নোট অব ডিসেন্টসহ জুলাই সনদ ঘোষণার দায় ইন্টেরিম সরকারকেই নিতে হবে। সেই সনদে স্বাক্ষর করে এর গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর দায় জামায়াতে ইসলামীরও এড়ানোর সুযোগ নেই। সব মিলিয়ে, জুলাই আন্দোলনে করা “সংস্কার” আনার অঙ্গীকারটির মৃত্যু ঘটতে যাচ্ছে।

অন্যদিকে, ইন্টেরিম সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান— যাকে কিছুদিন আগে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে গাজায় মার্সেনারি হিসেবে পাঠানোর অনুরোধ করতে দেখা গিয়েছিল— তিনি এবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। অথচ অল্প কিছুদিন আগেও জামায়াতপন্থী পিনাকিদা তাকে নিজের “শ্রীকৃষ্ণ” এবং কট্টর ভারতবিরোধী হিসেবেও উপস্থাপন করা হয়েছিল। বিএনপি থেকেও তার বিরুদ্ধে একাধিকবার মন্তব্য এসেছিল, ফলে সাধারণভাবে ধারণা করা হয়েছিল তিনি বিএনপির সঙ্গে যুক্ত নন। সেই খলিলুর রহমানের সঙ্গে বিএনপির সম্ভাব্য জোট অনেকের কাছেই অপ্রত্যাশিত। এখানে বলে রাখি, জানুয়ারিতে ওয়াশিংটন ডিসিতে আমেরিকার স্টেট অফিশিয়ালসদের সাথে দেখা করে তিনি বাংলাদেশের নির্বাচনের জন্য আমেরিকার সমর্থন ও সহযোগিতা চেয়েছিলেন। যে ব্যক্তি এক মাস আগেও নির্বাচনের জন্য আমেরিকার সহায়তা চেয়েছেন, নির্বাচনের পর তাকেই বিএনপির পররাষ্ট্রমন্ত্রী করা ব্যক্তিগত যোগ্যতার মূল্যায়ন নাকি বিশেষ কোনো স্বার্থসংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত— এ প্রশ্ন থেকেই যায়। মোট কথা, তাকে টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রীত্ব দেওয়া নিছক স্বার্থহীন পদক্ষেপ কিনা তা নিয়ে আমার যথেষ্ট সন্দেহ আছে।


দারুণ একটা মন্ত্রীসভা!
যোগ্যতার এমন “সৃজনশীল” সংজ্ঞা আগে দেখিনি।

আসাদুজ্জামান সাহেব যিনি আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ না করার পক্ষে অবস্থান নিয়ে আলোচনায় ছিলেন।
পুরস্কার? আইন মন্ত্রণালয়!
আইন যে নমনীয় তা প্রমাণে এর চেয়ে ভালো উদাহরণ আর কী হতে পারে!

ব্যারিস্টার কায়সার কামাল যিনি বিতর্কিত হ/ত্যা মামলার আসামির পক্ষে আইনি লড়াই করে সমালোচিত। পুরস্কার? ভূমি প্রতিমন্ত্রী! নৈতিকতার জমি দখল কি এখান থেকেই শুরু?

আব্দুল আউয়াল মিন্টু যিনি বন ধ্বংস নিয়ে সমালোচনা ছিল। পুরস্কার? পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন!
বন রক্ষা করবেন নাকি বনকে বিদায় জানাবেন সেটাই
দেখার বিষয়।

শেখ রবিউল আলম যিনি একাধিক বিতর্কের নামের সাথে যুক্ত। পুরস্কার? সড়ক, সেতু, রেল, নৌ সব পরিবহন তার হাতে! সম্ভবত বিতর্ক সামলাতে যানবাহনের দরকার হয় বেশি।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির যিনি ঋণখেলাপীর অভিযোগে আলোচিত। পুরস্কার? বাণিজ্য ও শিল্প! ঋণ ব্যবস্থাপনায় অভিজ্ঞতা তো আছেই!

খলিলুর রহমান যার বিদেশি নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তারাই। পুরস্কার? পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়! আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বুঝতে হলে আন্তর্জাতিক নাগরিক হওয়াই কি শর্ত?

সব মিলিয়ে এটা মন্ত্রীসভা নাকি রাজনৈতিক আনুগত্যের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান?

যদি এটাই নতুন রাজনীতি হয় তাহলে পুরোনোটা এত খারাপ ছিল কিভাবে? যদি এটাই পরিবর্তন হয় তাহলে পরিবর্তনটা কার জন্য? ধন্যবাদ দেবো নাকি স্মৃতি সংরক্ষণ করবো যাতে সময় হলে প্রশ্নগুলো আবার তোলা যায়?

জনগণ দেখছে।
ইতিহাস লিখছে।

Coin Marketplace

STEEM 0.06
TRX 0.29
JST 0.050
BTC 70699.72
ETH 2057.98
USDT 1.00
SBD 0.46