"“বৃষ্টিভেজা পথের প্রেম”
কলেজ ছুটির ঠিক পরের সময়। আকাশ তখনই ভারী হয়ে উঠছিল। রায়হান তার সাইকেল নিয়ে বাড়ি ফিরছিল। হঠাৎ ঝুমঝুম বৃষ্টি শুরু হয়ে গেল। কাছের একটা গাছের নিচে দাঁড়াতেই সে দেখল—একটি মেয়ে ইতিমধ্যে সেখানে আশ্রয় নিয়েছে।
মেয়েটির নাম মেহরীন। চশমার ওপর বৃষ্টির ফোঁটা পড়ে ঝাপসা হয়ে গিয়েছে। রায়হান একটু হাসি নিয়ে বলল,
“চশমাটা মুছতে দিবেন? না হলে কিছুই দেখবেন না।”
মেহরীন লাজুক হাসি দিল।
“বৃষ্টি তো আমার দোষে এল না!”
গাছের নিচে দুজন পাশাপাশি দাঁড়িয়ে রইল। বৃষ্টি আরও জোরে পড়ছে, আর তাদের মাঝে অদ্ভুত এক নীরব কথা।
রায়হান খেয়াল করল মেয়েটির হাত কাঁপছে। ঠান্ডায় নাকি লজ্জায়—সে বুঝতে পারল না।
“ছাতা আছে, চাইলে দু’জনে মিলে যাব…”
রায়হানের প্রস্তাবে মেহরীন একটু থমকাল—তারপর মাথা নেড়ে সম্মতি দিল।
ছোট ছাতার নিচে দু’জন পাশাপাশি হাঁটতে লাগল। বৃষ্টি তাদের খুব কাছাকাছি এনে দিল। মাঝে মাঝে হাত ছুঁয়ে যাচ্ছে, আবার আলতো সরে যাচ্ছে।
হাঁটতে হাঁটতেই রায়হান বলল,
“আপনি যদি প্রতিদিন এই বৃষ্টিতে একই গাছের নিচে দাঁড়াতে রাজি থাকেন… তবে আমিও ছাতা নিয়ে আসতে রাজি আছি।”
মেহরীন হেসে বলল,
“দেখা যাক… বৃষ্টি হলে ভাববো।”
সেদিনের সেই হাঁটা ছিল তাদের প্রথম পরিচয়। এরপর বহুদিন বৃষ্টি হল, আর তারা দু’জনই একই গাছের নিচে দেখা করল।
ধীরে ধীরে কথা বাড়ল, হাসি বাড়ল, আর হৃদয়ের দূরত্ব কমতে লাগল।
একদিন বৃষ্টির ভেতরেই রায়হান বলল,
“আজ আমি ছাতা আনিনি। কারণ… চাই তুমি পাশে থেকে আমাকে ভিজতে দাও।”
মেহরীন আর কিছু বলল না। শুধু ছাতাটা রায়হানের মাথার ওপর তুলে দিল।
তার চোখে তখন শুধু একটাই কথা—
“হ্যাঁ, আমিও তোমাকে চাই।”
বৃষ্টিভেজা সেই পথটাই হয়ে গেল তাদের প্রেমের শুরু।"