পরিবর্তন!!
আমার বাংলা ব্লগে,সবাইকে স্বাগতম।
আমি @emon42.
বাংলাদেশ🇧🇩 থেকে
গতমাসে বাড়ি থেকে ঘুরে আসলাম। তবে এবার বাড়ি গিয়ে সময়টা ঐভাবে মোটেই কাটেনি। না যে শীত উপভোগ করতে বাড়িতে যাওয়া সেটা অবশ্য পড়েছিল বেশ। তবে আগের মতো আনন্দ পাইনি। প্রথমত আমার সব বন্ধুরা এখন সেরকম আর কেউই বাড়িতে থাকে না। সবাই যে যার নিজের মতো বাইরে। বাড়িতে গিয়ে এবার আমার পুরোটা সময় কেটেছে সাবিতের সাথে। সাবিত আমার এলাকার ছোট ভাই বলতে পারেন। এবার ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষা দেবে। ছাএ হিসেবে খুব ভালো। ওর ইচ্ছা ভবিষ্যতে কম্পিউটার সাইন্স ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়বে। আমার থেকে বছর ৫ এর ছোট হলেও আমাদের মধ্যে মিল বেশ। সেপ্টেম্বরে বাড়ি গিয়ে ওর সাথে দেখা হয়নি আমার। এইজন্য এবার আমি কবে যাব এটা বলে দেওয়াই ও আগে থেকেই চলে এসেছিল বাড়িতে। তারপর দুইজন মিলেই কেটেছে ঐ কয়েকটা দিন।
বাড়িতে গিয়ে রুটিন ছিল একঘেয়ে। সকালে একটু দেরিতে ঘুম থেকে উঠা। তারপর ফ্রেশ হয়ে আমরা দুজন চলে যেতাম শরিফ ভাইয়ের দোকানে। শরিফ ভাইয়ের সেই লেবু চা। আহ সে কী স্বাদ। লেবু চা ঢাকায়ও পাওয়া যায়। কিন্তু শরিফ ভাইয়ের লেবু চা এর স্বাদ পুরোপুরি অন্যরকম। সেই চা খাওয়া শেষ করে বাড়িতে ফিরে আমি কিছুক্ষণ বাচ্চাদের সাথে সময় অতিবাহিত করি। আমার চাচাতো বোনের দুই মেয়ের সাথে। আপার সাথে আমার দেখা প্রায় ৮-৯ মাস পরে। আপার দুই মেয়ে নাযাত এবং সাইফা ওদের সাথে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলা মজা করা। এটা আমি বেশ উপভোগ করতাম। এরপরই সময় চলে আসতো গোসল করার। না গ্রামে গেলে আমি আর সেই আমি থাকি না। বাড়িতে গোসল করিনি ঐকদিন। যদিও প্রচণ্ড ঠান্ডা ছিল কিন্তু তারপরও চলে গিয়েছি পুকুরে গোসল করতে।
পুকুরে গোসল করার মজাই আলাদা। একটা সাঁতার দিলে সবকিছু একেবারে সমাধান হয়ে যায়। তখন কিসের শীত আর কিসের ঠান্ডা হা হা। বাড়ি গিয়ে চারদিনই পুকুরে গোসল করেছি। যদিও পানি খুব ঠান্ডা হওয়াই সাঁতার টা বেশি দিতে পারিনি। না হলে পুকুরের এপার ওপার ঠিকই করতাম। দুপুরের খাবারে অবশ্য ছিল অন্যরকম ব্যবস্থা। বাড়ি গেলে এটাই সুবিধা। আমার মা আমার পছন্দের সবকিছু তৈরি করতে থাকে। আমার পছন্দের পুইশাকের ফল ভাজি, বড় সাইজের পুটিমাছ ভাজি, হাঁসের মাংসস, চিংড়ি মাছ ভুনা আরও অনেক কিছু। সবকিছুই আমার জন্য তৈরি করে। ঐকদিন আর খাওয়ার চিন্তা একেবারেই করা লাগে না। বরং মনে হয় কোনটা রেখে কোনটা খাব। বিকেলের দিকে আমি আর সাবিত বের হতাম। দুজনেই চলে যেতাম আমার সেই পছন্দের জায়গা টাই। এম এন স্কুলের পেছনে গড়াই নদীর পাড়ে।
বিকেল থেকে সন্ধ্যা। সন্ধ্যা থেকে বেশ কিছুটা রাত সময় টা আমাদের ওখানেই কাটতো। ওখানে চা খাওয়া। আলম ভাইয়ের সেই ফুসকা ঝালমুড়ি তো ছিলই। পাশাপাশি কুমারখালীতে থাকতে যেগুলো মিস করি বাজারে গিয়ে সেগুলো খাই। যেমন হালিম মামার মাংসের চপ। চিকেন ফ্রাই আরও কত কিছু। সবমিলিয়ে দিনগুলো বেশ কেটে গিয়েছে। যদিও এবার বাড়ি গিয়ে কুষ্টিয়া যাওয়া হয়নি। প্রথমত কুষ্টিয়া সেরকম কোন কাজ ছিল না। দ্বিতীয়ত সেরকম ইচ্ছা হয়নি। কুষ্টিয়া গেলেই অনেক প্রত্যাশিত স্মৃতি অনূভুতি ভেসে উঠে। এইজন্যই ঐটা স্কিপ করে গিয়েছি ইচ্ছা করেই। খারাপ লাগছিল লিখনের জন্য। ও এখন শহরের বাইরে। আবার নাভিদ বাড়িতে থাকলেও ওর সাথে দেখা হয়নি। প্রতিবার বাড়ি থেকে ঢাকা ফেরার সময় প্রচণ্ড খারাপ লাগে। কিন্তু এবার যেন আর খারাপ লাগছিল না। ধীরে ধীরে আমার অনূভুতির আমার অভ্যাসের পরিবর্তন ঘটছে।
সবাইকে ধন্যবাদ💖💖💖।
অনন্ত মহাকালে মোর যাএা অসীম মহাকাশের অন্তে। যারা আমাদের পাশে আছে তারা একটা সময় চলে যাবেই, এটা তাদের দোষ না। আমাদের জীবনে তাদের পার্ট ওইটুকুই। আমাদের প্রকৃত চিরশখা আমরা নিজেই, তাই নিজেই যদি নিজের বন্ধু হতে পারেন, তাহলে দেখবেন জীবন অনেক মধুর।তখন আর একা হয়ে যাওয়ার ভয় থাকবে না।
আমি ইমন হোসেন। আমি একজন বাংলাদেশী। আমি একজন ছাএ। তবে লেখাপড়া টা সিরিয়াসলি করি না হা হা। লেখালেখি টা বেশ পছন্দ করি। এবং আমি ফুটবল টা অনেক পছন্দ করি। আমার প্রিয় লেখক হলেন জীবনানন্দ দাস। আমি একটা জিনিস সবসময় বিশ্বাস করি মানিয়ে নিতে এবং মেনে নিতে পারলেই জীবন সুন্দর।।









.png)



Daily task
https://x.com/i/status/2007723041099596211
https://x.com/i/status/2007723201200373886