বাংলাদেশের রাষ্ট্রিয় এপস্টিন

এপস্টিন সম্পর্কে জেনে সুপেরিয়রিটি কম্পলেক্সে ভুগা বাংলাদেশিদের জন্য-

শিশুদের ওপর যৌন সহিংসতার পরিসংখ্যান

• ঐতিহাসিক চিত্র (২০০১-২০১২): ২০০১ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে দেশে মোট ৯,৯৪৫টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটে, যার মধ্যে মামলা দায়ের করা হয়েছিল মাত্র ৪৭.৭০% ক্ষেত্রে।
• ২০১৩-২০১৭ (শিশুদের উচ্চ ঝুঁকি): এই সময়ে ধর্ষণের শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে ৮৬% ছিল শিশু (১৮ বছরের নিচে)। এর মধ্যে ৪৯% ছিল ৭-১২ বছর বয়সী কন্যাশিশু। ২০১৬ সালে ২৮০টি এবং ২০১৭ সালে ৪৭০টি শিশু ধর্ষণের ঘটনা ঘটে।
• ২০১৮-২০১৯ (সংখ্যার দ্রুত বৃদ্ধি): ২০১৮ সালে শিশু ধর্ষণের সংখ্যা ছিল ৪৪৪টি। ২০১৯ সালে এই সংখ্যা ভয়াবহভাবে বেড়ে ১,৩৮৩টি হয়, যা পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় ৭২.৩২% বেশি।
• ২০১৯ সালের বয়সভিত্তিক তথ্য: ২০১৯ সালে ৬ বছরের নিচে ১৫৫ জন, ৭-১২ বছর ১৯৫ জন এবং ১৩-১৮ বছর বয়সী ১৫৭ জন শিশু ও কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়। এই বছর প্রতিদিন গড়ে অন্তত ৩টি শিশু ধর্ষিত হয়েছে।
• ২০২০ (মহামারি ও ঢাকা মেট্রোপলিটন): ২০২০ সালের প্রথম ১০ মাসে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার ৫০টি থানায় ধর্ষণের ৫২৫টি মামলার মধ্যে ২৩৫টিই ছিল শিশু ধর্ষণের। ২০২০ সালে মোট ধর্ষণের শিকার ১,৬২৭ জনের মধ্যে একটি বড় অংশ ছিল শিশু।
• ২০২১-২০২২ (সাম্প্রতিক তথ্য): ২০২১ সালে সারা দেশে ৮১৮টি শিশু ধর্ষণের ঘটনা ঘটে, যা ২০২০ সালের তুলনায় ৩১% বেশি। ২০২২ সালে ৫৬০টি শিশু ধর্ষণ এবং ৯৮টি ধর্ষণের চেষ্টার ঘটনা রেকর্ড করা হয়।
• ২০২৫-২০২৬ সালের সর্বশেষ প্রতিবেদন: 'স্টেট অফ চাইল্ড রাইটস ২০২৫' শীর্ষক প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিশুদের নিয়ে প্রকাশিত নেতিবাচক সংবাদগুলোর ৬২.৬৬% ঘটনাই ছিল ধর্ষণ ও হত্যা সংক্রান্ত। এছাড়া ৮.৭৫% খবর ছিল শিশু পাচার ও যৌন শোষণ বিষয়ক। ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ সংখ্যক অপরাধ ও দুর্ঘটনার খবর পাওয়া গেছে, যেখানে ২,৩৭৬ জন শিশু ভিকটিম হিসেবে শনাক্ত হয়েছে।

ধর্ষক ও অপরাধীদের প্রোফাইল ও আচরণ

• পরিচিত অপরাধী: প্রায় ৮০% ক্ষেত্রে ধর্ষক ভুক্তভোগীর পূর্ব পরিচিত হয়ে থাকে। অপরাধীদের মধ্যে ১১.৮% চাচা/মামা, ৫.৯% চাচাতো/মামাতো ভাই এবং ১০.৩% প্রতিবেশী। ২৫টি চার্জশিট বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অপরাধীদের গড় বয়স ৩১ বছর (সীমা ১২ থেকে ৫৫ বছর)।
• অপরাধের কারণ: জাতিসংঘের একটি সমীক্ষা অনুযায়ী, গ্রামবাংলার ৮২% এবং শহরের ৭৯% পুরুষ স্বীকার করেছে যে তারা শুধুমাত্র "যৌন আনন্দ" বা বিনোদনের জন্য ধর্ষণ করেছে। এছাড়া ৬৬% গ্রামীণ এবং ৫৮% শহুরে পুরুষ 'মজা করার জন্য' ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে।
• দৃষ্টিভঙ্গি: গ্রামাঞ্চলের ৫৩.৯% এবং শহরাঞ্চলের ৪৪.৭% পুরুষ মনে করে যে ধর্ষণের জন্য নারীরাই দায়ী।
• দণ্ডহীনতা: প্রায় ৮৮.১% অপরাধী নিশ্চিত করেছে যে তারা অপরাধ করার পরও কোনো আইনি পরিণতির মুখোমুখি হয়নি। একটি গবেষণা অনুযায়ী ৯৫.১% ধর্ষক কোনো আইনি শাস্তির আওতায় আসে না।
আইনি ও বিচারিক পরিসংখ্যান
• বিচারের হার: বাংলাদেশে ধর্ষণের মামলায় সাজার হার অত্যন্ত হতাশাজনক। ২০০১ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে মাত্র ৩.৫৬ শতাংশ মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে এবং সাজা হয়েছে মাত্র ০.৩৭ শতাংশ মামলায়। অন্য একটি সূত্রমতে, এই সাজার হার মাত্র ৩ শতাংশ।
• মামলা ও সাজার ব্যবধান: ২০১৩ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে ৭,৩৪৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছিল, যার মধ্যে মাত্র ১,১৯৪টি নিষ্পত্তি হয় এবং সাজার সংখ্যা ছিল মাত্র ১৪০টি।
• চিকিৎসা বনাম মামলা: ২০০১ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত ১৬,৮০৪ জন ভুক্তভোগী চিকিৎসা নিলেও আইনি জটিলতা ও সামাজিক সম্মানের ভয়ে মামলা করেছেন মাত্র ৩,৭৪৭ জন।
• সুপারিশ ও বর্তমান অবস্থা: বিশেষজ্ঞরা শিশু ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন। সুবিধাবঞ্চিত এলাকার শিশু, বিশেষ করে পথশিশু এবং নিম্ন আয়ের পরিবারের শিশুরা বর্তমানে সবচেয়ে বেশি নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে। শিশুদের জন্য একটি স্বতন্ত্র অধিদপ্তর গঠনের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

এগুলো হলো শুধু যেসব তথ্য রিপোর্ট হয়েছে সেসব৷ আর যেসব রিপোর্ট হয়নি তা কতটুকু হতে পারে? বাংলাদেশে যেখানে ভিকটিমকেই দোষারোপ ও সামাজিক কটুকথার মুখোমুখি হতে হয়, সেখানে ৫ ভাগের ১ ভাগ যদি রিপোর্ট হয় তাও অনেক।
পক্ষান্তরে ইউরোপীয় দেশগুলোতে ৫টার মধ্যে হয়তো একটা আনরিপোর্টেড। কিন্তু সেখানের অবস্থা বুঝতে হলে দেখতে হবে বিচার ও আইনে।

ইউরোপে আইনের আশ্রয় নিলে কতজন পারপেট্রেটর পালিয়ে যেতে পারে? বাংলাদেশে ০.৩৭ শতাংশ রেপিস্ট সাজা পায়। মানে প্রায় ৩০০জন রেপিস্টে মাত্র ১ জন সাজা পায়। বাকিরা মুক্ত বাতাসেই আছে।

তাই, বাংলাদেশিরা নিজেদের এতো সুপেরিয়র মনে করার কিছু নেই।

Sort:  
Loading...