তারিখ-০৯.০১.২০২৩
নমস্কার বন্ধুরা
আশা করি ঈশ্বরের আশীর্বাদে সকলে ভালো আছেন।আমিও ভালো আছি। আজকে আমি আপনাদের সামনে একটি গ্রিটিংস কার্ড বানানোর উপস্থাপনা নিয়ে হাজির হলাম। সামনেই আমার সবথেকে প্রিয় মানুষগুলোর মধ্যে একজনের জন্মদিন। প্রিয় মানুষগুলোর মধ্যে একজন বললাম কারণ সেই প্রিয় মানুষগুলোর লিস্টে বাবা-মা ভাই-বোন এরাও পড়ে। তেমনি সেই মানুষটাও পড়ে যার সঙ্গে আমার মনের সম্পর্ক। আমি জীবনে কখনো সেই ভাবে কার্ড বানাইনি। তবে ইচ্ছে হয় নিজের হাতে কিছু বানিয়ে দি। আমার ক্রাফটসের কাজ অত আকর্ষণীয় নয়। তবুও চেষ্টা করি আমার বাংলা ব্লগের সদস্যদের কাছ থেকে একটু অনুপ্রাণিত হওয়ার। জানিনা কতটুকু পারি। তবু আমি মনে করি নিজের মধ্যে অনেকটাই পরিবর্তন আমি লক্ষ্য করতে পেরেছি। যেহেতু আগে কখনো গ্রিটিংস কার্ড বানাইনি। তাই কার্ডটিকে আমি খুব সাধারণ রাখার চেষ্টা করেছি। যাতে করে অতিরিক্ত হাবিজাবি করতে গিয়ে জিনিসটা নষ্ট না হয়ে যায়। এত সাধারন কার্ড যে কেউই বানাতে পারবে। কিন্তু যেহেতু আমার অতটা দক্ষতা নেই।প্রথম নিজের হাতের কাজ, সেই কারণে আপনাদের সঙ্গে ভাগ করে নিলাম। আর সত্যি বলতে লাখ লাখ টাকার জিনিস ভালোবাসার মানুষকে উপহার দিলেও, নিজের হাতের বানানো সাধারণ জিনিসের প্রতি আকর্ষণ সব সময় বেশি থাকে। তেমনটা আমারও। গিফ্ট আরো অনেক কিছুই কিনেছি তাকে উপহার দেবো বলে। কিন্তু মনটা কোথাও একটা পড়েছিল যদি একটা কার্ড বানাতে পারতাম! ভাবতে ভাবতে নিজে থেকেই এইভাবে বানাবো ঠিক করলাম।পদ্ধতি আপনাদের সঙ্গে নিচে ভাগ করে নিলাম।

| ক্রমিক | উপকরণ |
| ১ | আর্ট পেপার |
| ২ | রঙিন কাগজ |
| ৩ | মার্কার |
| ৪ | পেন্সিল |
| ৫ | মার্কার |
| ৬ | স্কেল |
| ৭ | আঠা |
| ৮ | কেঁচি |
| ৯ | কালো অয়েল প্যাস্টেল রং |
প্রণালী
প্রথম ধাপ
একটি A4 সাইজের আর্ট পেপার নিয়ে নিলাম।

দ্বিতীয় ধাপ
আর্ট পেপারটির প্রস্থ বরাবর মাঝখান থেকে একটি ভাজ করে নিলাম। যাতে দেখতে অনেকটা কার্ডের মত হয়।

তৃতীয় ধাপ
কার্ডের উপরে চারদিকে এক সেন্টিমিটার করে ফাঁকা দিয়ে দিলাম এবং তা পেন্সিল দিয়ে মার্ক করে দিলাম।

চতুর্থ ধাপ
এবার পেন্সিল দিয়ে চারদিকে সমান দাগ কেটে নিলাম। আমি এখানে ডাবল দাগ দিয়েছিলাম কারণ অন্যরকম প্ল্যান ছিল কিন্তু যেহেতু পরে প্ল্যান চেঞ্জ করেছি,তাই আপনারা একটা দাগ দিলেও পারেন।

পঞ্চম ধাপ
এবার হলুদ কাগজটিকে ১৬"৯" মাপে কেটে নিলাম।*

ষষ্ঠ ধাপ
কাটার পরে কাগজটি দেখতে ঠিক এরকম হবে।

সপ্তম ধাপ
কাগজের চারমাথা অল্প করে আঠা লাগিয়ে দিলাম।

অষ্টম ধাপ
এবার কাগজটিকে মাঝ বরাবর কার্ডের উপরে বসিয়ে দিলাম।

নবম ধাপ
তুঁতে রঙের কাগজটিকে হার্ট শেপে কাটলাম।বড় থেকে ছোট হিসেবে ।

দশম ধাপ
হার্ট শেপে কাটার পরে কাগজটা দেখতে এরকম হবে ঠিক।

একাদশ ধাপ
এবার হার্ট শেপের কাগজগুলোকে ঠিক এইভাবে বড় থেকে ছোট আকারে বসিয়ে দেবো। মাঝে অল্প অল্প করে আঠা দিয়ে।

দ্বাদশ ধাপ
পেন্সিলের দাগের বাইরের অংশটিতে কালো প্যাস্টেল রং দিয়ে চারদিক রং করে দিলাম।

ত্রয়োদশ ধাপ
এবার কার্ডের ভেতরে একটা ১৬"৯" মাপের হলুদ কাগজ আঠা দিয়ে লাগিয়ে দিলাম। তার উপরে মনের মত করে বার্তা লিখে দিলাম। আপনারা চাইলে এখানে বাংলাও লিখতে পারেন। কিন্তু আমার ইংলিশ লিখতে ইচ্ছে করলো তাই আমি ইংলিশে লিখলাম।*

চতুর্দশ ধাপ
কার্ডের বাঁ দিকটা একটু ফাঁকা ফাঁকা লাগছিল। তাই লাল কালি দিয়ে তারিখটা লিখে দিলাম। যাতে আরেকটু স্মরণীয় হয়ে থাকে দিনটি।
জানি ঐদিন ভ্যালেন্টাইনস ডে। কিন্তু জন্মদিনের কার্ড বানিয়েছি বলে আর ভ্যালেন্টাইন্স ডের কথা লিখিনি।

আজ এখানেই শেষ করছি। আবার আসবো নতুন কোন উপস্থাপনা নিয়ে। আপনাদের কেমন লাগলো অবশ্যই জানাবেন। সকলে খুব ভালো থাকবেন।
🌸🌸🌸ধন্যবাদ🌸🌸🌸

আমি পায়েল।ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের রাজধানী কলকাতার কাছাকাছি ডাক্তার বিধান রায়ের স্বপ্নের শহর কল্যাণীর বাসিন্দা।একসময় যদিও চাকরী করেছি কিন্তু বর্তমানে ফুলটাইম ব্লগার এবং ভ্লগার।যদিও নিজেকে এখনও শিক্ষানবিশ মনে করি। আর তা ই থাকতে চাই ।সফল হয়েছি কিনা বা কতদিনে হব তা জানি না, কিন্তু নিজের প্যাশনকেই লক্ষ্য করে এগিয়ে চলেছি।বাকিটা আপনাদের হাতে।আশাকরি আমার সাথে যুক্ত থাকলে আশাহত হবেন না।
Facebook
Instagram
YouTube


OR
Set @rme as your proxy


টাইটেলটা দেখেই ভালো লাগছে প্রিয় মানুষের জন্য এটা গিফট তৈরি করছেন তিনি পেয়ে সত্যিই খুব খুশি হবেন, তার জন্য অগ্রিম জন্মদিনের শুভেচ্ছা রইল।
ধন্যবাদ ভাই। আশা করি ও খুশি হবে।
প্রিয় দিভাই নমস্কার
প্রিয় মানুষের জন্মদিন উপলক্ষে এতো সুন্দর একটি কার্ড বানিয়েছেন ৷ সত্যি অনেক সুন্দর ছিল ৷ আসলে দিদি ভালোবাসা অর্থ সম্পদ কিংবা কেনা বেচার জিনিস নয়৷ যদি মুল্যই হতো তাহলে ২০ টাকার গোলাপ দিয়ে ভালোবাসার প্রকাশ করা যেত না ৷
যা হোক আপনার প্রিয় মানুষটির জন্য অনেক অনেক শুভকামনা রইল অবিরাম ৷
একদম ঠিক বলেছো ভাই। ধন্যবাদ।
আপু আপনি আপনার প্রিয়জনের জন্য যা কিছুই তৈরি করেন না কেন এর মাঝে মিশে আছে অনেক ভালোবাসা। আসলে দেখতে যেমনই হোক না কেন আপনার পরিশ্রম কিন্তু সার্থক হয়েছে। আমার কাছে তো ভালই লাগছে। হয়তো বাজার থেকে আমরা অনেক কিছুই কিনতে পারি। কিন্তু প্রিয়জনকে দেবার জন্য নিজের হাতে তৈরি করা কিছু আলাদা রকমের প্রশান্তি এনে দেয়। আপু আপনার তৈরি করা কার্ড খুবই সুন্দর হয়েছে। সেই সাথে আপনার প্রিয়জনকে জানাই জন্মদিনের অগ্রিম শুভেচ্ছা।
মনের কথা গুলো বলে দিলে। ধন্যবাদ। ☺
আবেগ ভালোবাসা মিশ্রিত এই কাজগুলো বরাবরই অন্যরকম একটা ছাপ ফেলে।এই কাজগুলোর ভেতর কখনোই খারাপ উদ্দেশ্য থাকেনা,কেবোল লোভ থাকে ওপর প্রান্তের মানুষটাকে পাওয়ার,তাকে ভালো রাখার।
দাদার জন্য দোয়া রইলো,ভালো থাকুক সবসময়। আপনাদের বন্ধন দৃঢ় হোক।
ধন্যবাদ ভাই। আবেগের বশেই তো আমরা সবটা করি।
আসলে আপু আপনি ঠিকই বলেছেন যত টাকা দিয়ে জিনিস কেনাই হোক না কেন নিজের হাতে বানানো জিনিসের মূল্য অন্যরকম ।আপনার ভালবাসার মানুষের জন্য তৈরি কার্ডটি সত্যি চমৎকার হয়েছে ।খুব সুন্দর করে কার্ডটি তৈরি করেছেন আপনি। দেখেই বোঝা যাচ্ছে কার্ডটি মন থেকে তৈরি করেছেন। আসলে এ ধরনের নিজ হাতে তৈরি জিনিস পেলে যে কেউই খুশি হয়ে যাবে। প্রতিটি ধাপ খুব সুন্দর করে দেখিয়েছেন ।ভালো ছিল। ধন্যবাদ।
ধন্যবাদ দিদি সহমত পোষণ করার জন্য।
আপনি খুব সুন্দর করে রঙিন কাগজের মধ্যে জন্মদিনের শুভেচ্ছা বার্তা তৈরি করেছেন। দেখে খুব ভালো লাগলো।জন্মদিনের কার্ড তৈরি করার প্রক্রিয়া বেশি দুর্দান্ত হয়েছে। আপনি খুব সুন্দর করে উপরে এবং নিচে কাগজ দিয়ে ডিজাইন করেছেন এবং কার্ডের ভিতরে সুন্দর জন্মদিনের শুভেচ্ছা বার্তা লিখেছেন । এতো সুন্দর ডাই পোস্ট শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ আপনাকে।
অনেক ধন্যবাদ আপনাকে ভাই।
দারুণ তো,এই কার্ড পেলেই সে খুশি হবে দিদি।কারণ ভালোবাসাময় দিনে এত সুন্দর একটি উপহার তার কাছে অনেক বেশি মূল্যবান হবে।মেসেজটা দারুণ লিখেছেন।প্রথমবার হিসেবে বেশ সুন্দর করে তৈরি করেছেন দিদি।
ধন্যবাদ দিদি
বাহ! দিন টা তো বেশ ভাল দিনে পড়েছে তাও ১৪ ফেব্রুয়ারি তে হা হা হা জমবে।আপনি খুব সিম্পল করে একটি বার্থডে কেক তৈরি করেছেন দেখতে কিন্তু অসাধারণ লাগছে।ঠিক বলছেন অনেক গুলো হাবিজাবি না দিয়েই সিম্পল রাখা অনেক ভালো।ঠিক বলছেন প্রিয় মানুষের মধ্যে মা-বাবা, ভাই-বোন ও তালিকাতে আছে।আপনার প্রিয় মানুষের জন্য অনেক শুভকামনা রইল অনেক বেশি ভালো থাকবেন।
হ্যাঁ। ভালোবাসার দিন আর তার জন্মদিন একই দিনে।
আপনার তৈরি জন্মদিনের কার্ডে আমার খুব ভালো লেগেছে। সুন্দরভাবে তৈরি করে অনেক মূল্যবান কথা লিখেছেন, পড়ে খুবই ভালো লাগলো।
নিজের চেষ্টায় বানানো কিছু সব সময়ই অমূল্য।
অনেক সুন্দর একটি জন্মদিনের কার্ড তৈরি করেছেন আপু। আপনি সবসময়ই অসাধারণ অসাধারণ পোস্ট আমাদের সাথে শেয়ার করেন। সেগুলো আমার কাছে খুব ভালো লাগে। আপনার আজকের পোস্টটি ও আমার খুব ভালো লেগেছে। আপনি অনেক সুন্দর করে উপস্থাপন করেছেন। এত সুন্দর একটি পোস্ট আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।
অনেক ধন্যবাদ দিদি। 😍