এক্সচেঞ্জ শোরুমে গিয়ে বন্ধুর ফোন কেনা

in আমার বাংলা ব্লগ2 months ago

শুভেচ্ছা সবাইকে! আমার আজকের পোস্টটিতে আপনাদের স্বাগতম। এই প্ল্যাটফর্মে আমি নিয়মিতভাবে ফটোগ্রাফি, প্রকৃতির মনোমুগ্ধকর দৃশ্য এবং আমার দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতার কথা আপনাদের সাথে শেয়ার করে থাকি। আশা করছি আজকের বিষয়বস্তুও আপনাদের ভালো লাগবে। চলুন, শুরু করা যাক।

Raju20251117_192323_Vivid Human Portrait By Light Editz.jpg

গতকালের সন্ধাটা বন্ধুদের একটা দরকারি কাজ দিয়ে শুরু হলো। আমার বন্ধুটার অনেকদিনের পুরোনো একটা ফোন ছিল, সেটা বদল করে একটা ভালো ফোন নেওয়ার কথা চলছিল। তাই আমরা দু'জন মিলে শহরের একটা বড় এক্সচেঞ্জ শোরুমে গেলাম। একদম সন্ধা সময় বের হয়েছি যাতে দোকানে খুব বেশি ভিড় না থাকে আর আমরা নিজেরা সময় নিয়ে ফোন দেখতে পারি। শোরুমে ঢোকার পর দেখলাম কাঁচের আলমারিগুলোতে নতুন ফোনের খালি বাক্সগুলো সুন্দর করে সাজানো। এইগুলি দেখে শোরুমটা বেশ গোছানো মনে হলো। তবে আমরা যেহেতু এক্সচেঞ্জ ফোন দেখবো, তাই এই বাক্সগুলো আমাদের জন্য নয়।

আমরা একজন সেলসম্যানকে ডেকে আমাদের আসার কারণ বললাম। বললাম যে বন্ধুর পুরনো ফোনটা দিয়ে একটা ভালো সেকেন্ড-হ্যান্ড ফোন দরকার, যেন দামটাও নাগালের মধ্যে থাকে। ছেলেটা খুবই ভদ্র ছিল, হাসি মুখে আমাদের অনেকগুলো ফোন বের করে দেখালো। সে জানালো, এই ফোনগুলো সবই কাস্টমাররা নতুন ফোন নেওয়ার সময় বদলে দিয়ে গেছে। টেবিলে পাঁচটা ফোন রাখা হলো—একটা নীল রঙের ইনফিনিক্স, একটা কালো রিয়েলমি, দুটো অপ্পো আর একটা হালকা আকাশি রঙের রিয়েল মি ফোন।

Raju20251117_191418_Vivid Human Portrait By Light Editz.jpg

আমরা প্রত্যেকটা ফোন হাতে নিয়ে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখলাম। সবগুলোর পেছনেই ব্যবহারের কিছু ছাপ বা সামান্য দাগ ছিল, যা এক্সচেঞ্জ ফোনের ক্ষেত্রে স্বাভাবিক। বন্ধু প্রতিটি ফোনের ক্যামেরা আর ধরার অনুভূতি কেমন, সেটা দেখছিল। আমি বললাম, দেখ, ক্যামেরাটা যেন অন্তত ভালো হয় আর ব্যাটারিটা যেন বেশিক্ষণ চলে।

অনেকক্ষণ ধরে যাচাই করার পরে বন্ধুর নজর পড়ল একটা কালো অপ্পো ফোনের ওপর। ও ফোনটা হাতে ধরে দেখল, বলল যে এইটার ডিজাইনটা বেশ স্মার্ট আর হাতে ধরেও আরাম লাগছে। সেলসম্যান তখন জানালো, এটাই হলো অপ্পো A38 মডেলের ফোন। ফোনটা অল্প কিছুদিন আগে একজন দিয়ে গেছেন, তাই কন্ডিশন ভালো আছে। আমি নিজেও ফোনটা নিয়ে পরীক্ষা করলাম, সত্যিই দেখতে খুব একটা খারাপ নয়।

Raju20251117_191405_Vivid Human Portrait By Light Editz.jpg

এরপর দামের কথা উঠলো। অনেক দর কষাকষির পর, শেষ পর্যন্ত ফোনটার দাম ঠিক হলো ৯,৫০০ টাকা। বন্ধুর পুরনো ফোনটার দাম বাদ দিয়ে বাকি টাকাটা আমরা সেলারকে দিলাম। সব কাগজপত্র বুঝে নিলাম। ফোনটা হাতে পেয়ে বন্ধুর মুখে একগাল হাসি, দেখে আমারও খুব ভালো লাগলো। একটা ভালো এক্সচেঞ্জ ফোন কম দামে পাওয়া গেল।

শোরুম থেকে বের হয়ে আসার সময় মনটা ভরে গেল। একটা দরকারি কাজ শেষ হলো আর বন্ধুও খুশি। এখন নতুন 'পুরনো' ফোনটা দিয়ে ছবি তোলা শুরু হবে।

আমার পোস্টটি মনোযোগ দিয়ে পড়ার জন্য আপনাদের অশেষ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা। আমার এই প্রচেষ্টা আপনাদের ভালো লাগলে আমি আনন্দিত হব। আপনাদের মূল্যবান মতামত, মন্তব্য এবং সমর্থন আমার এই যাত্রাকে আরও অর্থবহ করে তোলে। আপনাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ আমার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে আরও নতুন ও সুন্দর কনটেন্ট নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হব। সবাই ভালো থাকবেন এবং নিরাপদে থাকবেন—এই কামনা রইল।

6VvuHGsoU2QBt9MXeXNdDuyd4Bmd63j7zJymDTWgdcJjnzypkjVaA1HxMD7ENGGMZvR8Uis5cJ5LRnBM8ysTCwym6JQm9iGoXM8ANyog7D7jMa4pw1WjbVZrerdqaW.png

Posted using SteemX