করাইল বস্তির আগুন।।
বাংলা ভাষার কমিউনিটি
হ্যালো বন্ধুরা, কেমন আছেন সবাই? আশা করি সবাই অনেক ভালো এবং সুস্থ আছেন
আমি প্রায় সময় বাংলাদেশের মানুষের আইন কানুন না মানার বিষয়টি নিয়ে লেখা লেখি করি। অনেক ব্লগও শেয়ার করেছি। আজকেও সেই বিষয়ে কিছু লেখার ইচ্ছে করলাম। আমরা সবাই জানি যে সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকার প্রাণকেন্দ্র করাইল বস্তিতে ভয়াবহ আগুন লেগে মুহূর্তের মধ্যেই শত শত ঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়। আগুন লাগার কারণ হিসেবে যে বিষয়গুলো সামনে এসেছে, তা শুধু করাইলেই সীমাবদ্ধ নয় বরং বাংলাদেশের বহু শহর, উপশহর কিংবা গ্রামাঞ্চলেও একই ধরনের ঝুঁকি বিদ্যমান। করাইল বস্তির ঘটনাটি যেন দেশের অপরিকল্পিত নগরায়নের এক নির্মম প্রতিচ্ছবি।
করাইল বস্তিতে অসংখ্য ছোট ছোট ঘর গড়ে উঠেছিল একেবারে এলোমেলোভাবে। বস্তি কেমন হয় সবাই জানেন, কোন স্থাপত্য নকশা নেই, দূরত্ব নেই, বাতাস চলাচলের সুযোগও নেই সবাই যার যার মতো জায়গা দখল করে ঘর তুলেছে। ঘরগুলো কাঠ, টিন, প্লাস্টিক, বাঁশ তথা আগুন জ্বলার উপকরণ দিয়ে নির্মিত। এর সাথে ছিল বিপজ্জনকভাবে ঝুলে থাকা বৈদ্যুতিক তারের জট। সেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা তো দূরের কথা একটি শর্ট সার্কিটেই কয়েক মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ার মতো পরিবেশ।
এবার যে মূল বিষয়টি সামনে এসেছে তা হলো নিম্নমানের ডেইট-অভার গ্যাস সিলিন্ডার। ঐ এলাকায় গ্যাস না থাকায় কম দামের আশায় বস্তিবাসীর অনেকেই এই অবৈধ ও নিম্নমানের সিলিন্ডার কিনে ব্যবহার করতেন। এসব সিলিন্ডার বিস্ফোরণ-প্রবণ, ক্ষতিগ্রস্ত বা মেয়াদোত্তীর্ণ হয়। করাইলে আগুনের সূত্রপাতও হয়েছে একটি ডেইট-অভার সিলিন্ডার থেকে। একটি সিলিন্ডার বিস্ফোরণ পুরো বস্তিকে মুহূর্তেই জ্বলে উঠতে বাধ্য করে।
আর আগুন লাগার পরে যে বড় সমস্যা দেখা দেয়, তা হলো ফায়ার সার্ভিসের প্রবেশ করতে না পারা। বস্তির ভেতর ঢোকার মতো কোনো সড়কই সেখানে নেই। সরু গলি, এলোমেলো ঘর আর অগোছালো নির্মাণের কারণে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেনি। গাড়ি তো দূরের কথা অনেক জায়গায় মানুষও ঢুকতে পারেনা। ফলে আগুন নেভাতে দেরি হয়, ক্ষয়ক্ষতিও বহুগুণ বেড়ে যায়।
এবার অাসি মুল বিষয়ে এই ঘটনাটি শুধুমাত্র করাইলের সমস্যা নয় বরং বাংলাদেশের নগর কাঠামোর সামগ্রিক দুর্বলতার প্রতিফলন। ঢাকা শহরের অসংখ্য এলাকায় একই সমস্যা। কোথাও বিল্ডিং গড়া হয়েছে রাস্তা দখল করে, কোথাও ড্রেন পর্যন্ত নেই, কোথাও আবার ফায়ার সার্ভিস প্রবেশের জন্য ন্যূনতম ১২ ফুট রাস্তা রাখার নিয়মও মানা হয়নি। ঢাকা শহরের অনেক পুরনো এলাকা যেমন চকবাজার, নবাবপুর, গাবতলী, মিরপুরের কিছু অংশ, কল্যাণপুর, গেন্ডারিয়া, বংশাল, যাত্রবাড়ি, সনির অাখরা এসব জায়গায় গলি এতটাই সরু যে দুর্ঘটনা হলে উদ্ধারকর্মীরা আটকে যায়। বৃষ্টি হলে জলাবদ্ধতা, ড্রেনের সমস্যা তো আছেই। আমি যে এলকায় থাকি তার আশেপাশের এলাকাও এমন। চিকন রাস্তা। রিকশাও য্ায় না।
আমাদের দেশে যা খুশি তাই করার প্রবণতা এখনো খুব বেশি। আইন আছে, কিন্তু মানার লোক নাই। বিল্ডিং কোড আছে, কিন্তু বাস্তবায়ন নেই। কোথায় রাস্তা রাখতে হবে, কোথায় ফাঁকা জায়গা রাখতে হবে, কি ভাবে বৈদ্যুতিক সংযোগ নিতে হবে এসবের কোনো নিয়ম অনেকেই মানে না। ব্যক্তিগত লাভের জন্য জনস্বার্থকে অবহেলা করা হয় সবচেয়ে বেশি।
করাইল বস্তির ঘটনাটি আমাদের কাছে একটি বড় সতর্কবার্তা যদি এখন পরিকল্পনাহীন নগরায়ন বন্ধ না করি, যদি আইন না মানি, যদি নিরাপত্তাকে গুরুত্ব না দিয়, তাহলে এ ধরনের দুর্ঘটনা আরও ঘটবে, ক্ষয়ক্ষতিও হবে আরও বড়। ভূমিকম্পের সময় দুর্ঘটনা ঘটলেও নিরাপত্তা কর্মীরা যেন যেতে পারে, কমপক্ষে সে রাস্তাটা রাখা দরকার।
আমাদের দেশের মানুষ যদি ব্যক্তিগত সুবিধার চেয়ে সামাজিক দায়িত্বকে বেশি গুরুত্ব দিত, নিয়ম-কানুন মেনে চলত, তবে নিশ্চয়ই এদেশে এত বড় বড় দুর্ঘটনায় এত মানুষের ক্ষতি হতো না। এখনো সময় আছে নগর উন্নয়নকে সুশৃঙ্খল করতে হবে, ভবন নির্মাণে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আনতে হবে, পরিকল্পিত রাস্তা রাখতে হবে, এবং সবচেয়ে বড় কথা নাগরিক হিসেবে আমাদের সচেতন হতে হবে। তা না হলে নিজের বাড়িকে নিজেই দূর্ঘটনায় পতিত হতে হবে।
সবাইকে ধন্যবাদ। আল্লাহ হাফেজ।।
আমি একজন বাংলাদেশের সাধারন নাগরিক। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাতে আমার বসবাস। সিম্পল আমার স্বপ্ন সিম্পল আমার জীবন। স্টিমিট আমার জীবনের একটি অংশ, আমার বাংলা ব্লগ আমার পরিবার। বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়া বলতে আমি স্টিমিটকেই চিনি। ভ্রমন করা, ফটেগ্রাফি করা আর বই পড়া আমার স্বপ্ন। আমি বিশ্বাস করি মানুষের জীবনে উত্তান পতন আছেই। সর্বপরি কাজ করতে হবে লেগে থাকতে হবে, তাহলেই একদিন সফলতা আসবে,এটাই আমি বিশ্বাস করি। সবাইকে ধন্যবাদ।।
Bangla Witness কে সাপোর্ট করতে এখানে ক্লিক করুন
এখানে ক্লিক করো ডিসকর্ড চ্যানেলে জয়েন করার জন্য
Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power
250 SP 500 SP 1000 SP 2000 SP 5000 SP
Click Here For Join Heroism Discord Server


















Thank you for sharing on steem! I'm witness fuli, and I've given you a free upvote. If you'd like to support me, please consider voting at https://steemitwallet.com/~witnesses 🌟