জেনারেল রাইটিং // হিংসা।

in আমার বাংলা ব্লগlast year



হ্যালো বন্ধুগণ,
আমি @bidyut01. একজন বাঙালি ব্লগার।সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি।



আজ মঙ্গলবার। ১৪ ই নভেম্বর, ২০২৩ ইং।


আসসালামু আলাইকুম।

সুপ্রিয় বন্ধুগণ, আপনারা সবাই আমার আন্তরিক শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসা গ্রহণ করবেন। আমি আশা করি আপনারা সবাই মহান আল্লাহ তায়ালার অশেষ রহমতে অনেক ভাল আছেন, সুস্থ আছেন এবং নিরাপদে আছেন। আমিও আপনাদের দোয়ায় এবং মহান আল্লাহপাকের দয়ায় অনেক ভাল আছি। আজকে আমি আরো একটি নতুন পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি।

spark-1179539_1280.jpg

Source



সুপ্রিয় বন্ধুগণ, সকল সৃষ্টির মাঝে সৃষ্টিকর্তার শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি হলো মানব জাতি। অর্থাৎ মানুষ হলো সকল সৃষ্টির সেরা জীব। কিন্তু সকল সৃষ্টির সেরা জীব হয়েও আমরা মানব জাতি কখনো কখনো নিকৃষ্ট জীবের মতো আচরণ করতে দ্বিধাবোধ করি না। মাঝেমধ্যে আমরা ভুলে যায় যে আমরা মানুষ জাতি, আমরা হারিয়ে ফেলি আমাদের মনুষ্যত্ব। সৃষ্টির সেরা জীব হয়েও আমরা যে আমাদের সম্মান ধরে রাখতে পারি না তার অন্যতম প্রধান কারণ হলো পরহিংসা। একমাত্র হিংসার কারণেই আমরা দিন দিন শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি থেকে একেবারে নিম্ন সৃষ্টির সাথে মিশে যাচ্ছি। অর্থাৎ আমাদের শরীরে থাকছে শুধু মানুষের চামড়া, আর শরীরের ভিতরে থাকছে মানুষের হাড়-মাংস। কিন্তু আমাদের ভিতর থেকে হারিয়ে যাচ্ছে মনুষত্ববোধ, মানবতাবোধ, বিবেকবোধ। আর আমাদের ভালো গুণগুলোয় নষ্ট করছে হিংসা।

সুপ্রিয় বন্ধুগণ, আমরা যখন ছোট ছিলাম তখন কিন্তু আমাদের মনের মধ্যে কোন হিংসা ছিল না বা হিংসা জন্ম হয়েছিল না। কিন্তু বড় হওয়ার সাথে সাথে যখন আমাদের বুদ্ধি-বৃত্তি বিকশিত হতে লাগলো ঠিক তখনই আমাদের মনের মধ্যে হিংসা নামে এক ধরনের আগুন সৃষ্টি হতে লাগলো। কিন্তু এই হিংসা কি কারনে আমাদের মনের মধ্যে সৃষ্টি হয়--এর কারণ হয়তো অনেকের কাছে অনেক রকম হতে পারে। তবে আমি মনে করি, আমরা যখন সমস্থানে বসবাস করি অর্থাৎ সমশ্রেণীর মানুষ হিসেবে বসবাস করি ঠিক তখনই আমাদের মধ্য থেকে যে ব্যক্তি বেশি উন্নতি করে, সফলতা অর্জন করে, ঠিক তখনই তার প্রতি আমাদের মনে হিংসা নামের বিষ সৃষ্টি হয়। আর যখনই আমাদের মনের মধ্যে হিংসা জন্ম হয় ঠিক তখনই আমরা পরের উন্নতি সহ্য করতে পারি না।

হিংসার প্রভাবে আমরা মানুষ জাতি অন্যের ক্ষতি করতে বিন্দুমাত্রও দ্বিধাবোধ করি না। অথচ যে ব্যক্তি নিজ পরিশ্রমের দ্বারা উন্নতি সাধন করছে, আমরা যদি তার মতো নিজেদের চেষ্টা চালিয়ে কাজ করি তাহলে নিঃসন্দেহে আমরাও সফলতা অর্জন করতে পারবো। কিন্তু পরহিংসার প্রভাবে আমাদের ভিতর থেকে চেষ্টা বা অনুপ্রেরণা বিনষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আমরা অন্যের সফলতা দেখে উৎসাহ গ্রহণ না করে বরং তাকে কিভাবে বাধা দেওয়া যায় সেই চিন্তায় ব্যস্ত থাকি। যেটা অত্যন্ত ঘৃণিত একটি কাজ। আর আমাদেরকে দিয়ে এই ঘৃণিত কাজটি করতে বাধ্য করায় হিংসা।

সুপ্রিয় বন্ধুগণ, আমি মনে করি হিংসা একটি মানসিক ব্যাধি। ব্যাধি হলে শরীর থেকে দূর করা যায় না কিন্তু হিংসা মন থেকে দূর করা সম্ভব। আমাদের জীবনে কাঙ্খিত সাফল্য অর্জন করতে হলে আমাদেরকে অবশ্যই হিংসা পরিহার করতে হবে। কারণ হিংসা হলো এক ধরনের আগুন। হিংসা যার মনে সৃষ্টি হয় সে তো হিংসার আগুনে এমনিতেই পুড়ে মরে, একই সাথে ওই আগুনে অন্য নিরীহ মানুষও জ্বলতে থাকে। তাই নিজের মনকে সজীব রাখতে এবং কলুষ মুক্ত রাখতে অবশ্যই আমাদেরকে হিংসামুক্ত মন তৈরি করতে হবে। অন্যের সফলতা দেখে আমাদেরকে ভালো কাজ করার জন্য উৎসাহিত হতে হবে, সঠিক চিন্তা করে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং সঠিক পথে থেকে মনোবল তৈরি করতে হবে।

সুপ্রিয় বন্ধুগণ, পৃথিবীর বুকে যতগুলো মানব সৃষ্ট বিপর্যয় সংঘটিত হয়েছে বা হচ্ছে তার মূলে অন্যতম প্রধান কারণ হলো হিংসা। তাই আমাদের পরিবারে, সমাজে বা দেশে বা আমাদের বিশ্বকে শান্তিতে রাখতে হলে আমাদেরকে অবশ্যই হিংসা পরিহার করতে হবে। হিংসা পরিহার করার সহজ উপায় হলো আমাদের ধর্মীয় নিয়ম-নীতি অনুসরণ করতে হবে। এছাড়াও পৃথিবীর বড় বড় মনীষীদের জীবন বৃত্তান্ত পড়ে আমাদের কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করার জন্য সৎ সাহস, অনুপ্রেরণা, চেষ্টা, উৎসাহ প্রভৃতি ইতিবাচক গুণগুলো আমাদের মনের ভিতরে সৃষ্টি করতে হবে। সব সময় ভালো কিছু করার চিন্তা করতে হবে এবং ভালো কাজ করার চেষ্টা করতে হবে তাহলে আমরা খুব সহজে আমাদের মনের ভিতর থেকে হিংসা নামের আগুন নিভাতে সক্ষম হবো। তাই আসুন আমরা সবাই হিংসা মুক্ত মন গড়ি এবং শান্তিময় পৃথিবী সৃষ্টি করি।



১০% বেনিফিসারী প্রিয় লাজুক খ্যাকের জন্য বরাদ্দ।

Sort:  

Thank you, friend!
I'm @steem.history, who is steem witness.
Thank you for witnessvoting for me.
image.png
please click it!
image.png
(Go to https://steemit.com/~witnesses and type fbslo at the bottom of the page)

The weight is reduced because of the lack of Voting Power. If you vote for me as a witness, you can get my little vote.

 last year 

খুব ভালো লাগলো এমন একটা পোস্ট পড়ে ভাই।আপনি কিন্তু খুব সুন্দর করে হিংসা বিষয়টা উপস্থাপন করেছেন।মূলত আমাদের সমাজে একটা বিষয় পরিলক্ষিত হয়,তা হলো অন্যের উন্নতিতে অপরের হিংসাত্বক মনোভাব।তবে এক্ষেত্রে বিভিন্ন বিষয় লক্ষ্যণীয়।আমরা অন্যকে অনুসরণ না করে তার প্রতি যে হিংসা বিদ্বেষ পোষণ করি সেটাই হলো আমাদের নিচু মনমানসিকতা। আপনি ঠিকই বলেছেন আমাদের দেহে রক্ত মাংসে গড়া কিন্তু মানবিকভাবে মানবতাহীন হয়ে যাচ্ছি।যাইহোক সবার মনে সুপ্ত শান্তি বয়ে যাক এই কামনা করি।

 last year 

খুব ভালো লাগলো এমন একটা পোস্ট পড়ে ভাই।আপনি কিন্তু খুব সুন্দর করে হিংসা বিষয়টা উপস্থাপন করেছেন।মূলত আমাদের সমাজে একটা বিষয় পরিলক্ষিত হয়,তা হলো অন্যের উন্নতিতে অপরের হিংসাত্বক মনোভাব।তবে এক্ষেত্রে বিভিন্ন বিষয় লক্ষ্যণীয়।আমরা অন্যকে অনুসরণ না করে তার প্রতি যে হিংসা বিদ্বেষ পোষণ করি সেটাই হলো আমাদের নিচু মনমানসিকতা। আপনি ঠিকই বলেছেন আমাদের দেহে রক্ত মাংসে গড়া কিন্তু মানবিকভাবে মানবতাহীন হয়ে যাচ্ছি।যাইহোক সবার মনে সুপ্ত শান্তি বয়ে যাক এই কামনা করি।

 last year 

আসলে ছোট থেকে আমাদেরকে প্রতিযোগিতামূলক একটা মনোভাবের মধ্যে তৈরি হতে হয়, এই জিনিসটা আস্তে আস্তে পরিণত হয়ে যায় হিংসেতে। যারা জ্ঞানী তারা এই হিংসা থেকে খানিকটা উপরে থাকে কিন্তু অনেক মানুষই এই খারাপ অভ্যাস থেকে নিজেকে বের করতে পারে না।

 last year 

হিংসা শব্দটা ছোট হলেও এর অর্থ অনেক বড়। হিংসার কারণে মানুষের জীবন একেবারে নষ্ট হয়ে যায় এরকমটা আমি মনে করি। যে মানুষগুলোর ভিতরে হিংসা রয়েছে তারা কখনো অন্যের ভালো চায়না। আপনি বাস্তবিক কথাগুলো তুলে ধরে, আজকের পোস্টটা লেখার চেষ্টা করেছেন, এটা দেখে ভালো লাগলো।

 last year 

মানুষের মনের ভেতরে হিংসা রাখা একেবারেই উচিত নয়। যদিও এখন বেশিরভাগ মানুষের মনে হিংসাটা সবথেকে বেশি থাকে। এরকম খারাপ অভ্যাস যদি একটা মানুষের ভেতরে থাকে তাহলে, সে জীবনে ভালো কিছুই করতে পারে না। অনেক মানুষকে দেখা যায় অন্যদেরকে হিংসা করে এবং কি বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় নেমে যায়। এই বিষয়টা কিন্তু একেবারেই উচিত কাজ নয়। এরকম খারাপ চিন্তা ভাবনা এবং খারাপ বিষয় মন থেকে মুছে ফেলা উচিত।

 last year 

আপনি খুব চমৎকার ভাবে হিংসা নিয়ে পোস্ট শেয়ার করলেন। ভীষন ভালো লাগলো। এটা সত্যি মানব জাতি আজ হিংসা করেই নিজেদের ধ্বংস ডেকে এনেছে।হিংসা একটি মানসিক ব্যধি।এর থেকে আমাদের মুক্ত থাকতে হবে। আমাদের চেষ্টা করতে হবে ধর্মীয় অনুশাসন গুলো মেনে চলা।