জেনারেল রাইটিং পোস্ট || বিপদ যেনো পিছু ছাড়ছে না
আসসালামু আলাইকুম,
আমার বাংলা ব্লগের সকল বন্ধুরা ,আপনারা সবাই কেমন আছেন ? আশা করি সবাই খুব ভালো আছেন। আমিও আপনাদের দোয়ায় আল্লাহর রহমতে খুব ভালো আছি।
প্রতিদিনের মতো আজকেও আমি আপনাদের সামনে আরো একটি নতুন পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি। আজকে আমি একটি জেনারেল রাইটিং পোস্ট শেয়ার করবো আপনাদের সাথে। এই পোস্টের টপিক হচ্ছে,বিপদ যেনো পিছু ছাড়ছে না। আসলে আমরা যতদিন পৃথিবীতে বেঁচে থাকবো, ততদিন একের পর এক বিপদ আমাদের সামনে আসতেই থাকবে এবং এটা আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি। তবে মাঝেমধ্যে বিপদের পরিমাণ এতটাই বেশি হয়ে যায়, তখন আসলে মাথা ঠিকমতো কাজ করে না। বিগত ৩ বছর ধরে হসপিটালে দৌড়াদৌড়ি করতে করতে অনেকটাই ক্লান্ত হয়ে গিয়েছি। অর্থাৎ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে। তবে আলহামদুলিল্লাহ আমি সুস্থ আছি। আমার ওয়াইফ এখনও অসুস্থ। তাকে নিয়ে প্রতি মাসেই হসপিটালে যেতে হয়।
তাছাড়া হঠাৎ করে আমার টুইন ছেলে অসুস্থ হয়ে যায়। গত বুধবার রাতে আমার ছেলে ওয়াফির শরীরে প্রচন্ড জ্বর আসে। থার্মোমিটার দিয়ে জ্বর মাপার পর,এইস ড্রপ খাইয়ে দিলাম। তো দিনের বেলা থেকে মোটামুটি তার শরীরের জ্বর কমতে শুরু করলো। কিন্তু রাতের বেলা ঘটলো আরেক ঘটনা। রাতের বেলা আমার আরেক ছেলে সাকাফ অসুস্থ হয়ে পড়ে। তার শরীরেও দেখলাম প্রচন্ড জ্বর এসেছে। তারপর জ্বর মেপে ঔষধ খাওয়ানোর চেষ্টা করলাম। কিন্তু সে ঔষধ খেতে গিয়ে প্রচন্ড কান্নাকাটি করলো। অনেক কষ্টে তাকে ঔষধ খাইয়ে দিলাম। কিছুক্ষণ পর তাকে যখন ফিডারের মাধ্যমে দুধ খাওয়ানোর ট্রাই করলো আমার ওয়াইফ, তখন সে কিছুতেই দুধ খেতে চাচ্ছে না। তাছাড়া অনেক শব্দ করে কান্নাকাটি করছে।
ব্যাপারটা আমার কাছে খুব খারাপ লাগলো। তাই আমিও চেষ্টা করলাম তাকে খাওয়াতে। কিন্তু সে কিছুতেই খাচ্ছে না। পরে তাকে হা করিয়ে, মোবাইলের ফ্ল্যাশ লাইট দিয়ে মুখের ভিতরের দিকটা দেখার চেষ্টা করলাম। তো তার মুখের ভিতরে অর্থাৎ চোয়ালের দিকে ছোট ছোট সাদা সাদা দাগ দেখা যাচ্ছে। এটা দেখে তো আমি বুঝতে পারলাম কেনো সে খেতে চাচ্ছে না। সেই সাদা দাগ গুলোর জন্য মুখের ভিতরে হয়তো জ্বলছে। তাই সে খেতে চাচ্ছে না। তারপর ড্রপার দিয়ে ১ মিলি করে দুধ খাওয়ানোর চেষ্টা করলাম। তবুও সে খেতে পারছে না। আসলে একেবারে না খেতে পারলে তো ডিহাইড্রেশন হয়ে যাবে। তাই বারবার ড্রপার দিয়ে খাওয়ানোর চেষ্টা করছিলাম। তাছাড়া হাতে সহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় দেখলাম ফোসকা পড়েছে।
পরবর্তীতে চ্যাটজিপিটি তে সার্চ দিয়ে জানতে পারলাম এটা হচ্ছে এক ধরনের ভাইরাস এবং এই ভাইরাসের নাম হচ্ছে, হ্যান্ড ফুট মাউথ ডিজিজ। তো রাতটা কোনোমতে কাটালাম এবং সকাল ৭.৩০ মিনিটে ফোন করে হসপিটালে সিরিয়াল দিলাম। সকাল ৯টার পর সাকাফকে নিয়ে ডক্টরের কাছে চলে গেলাম এবং ডক্টর দেখে বললো হ্যান্ড ফুট মাউথ ডিজিজ হয়েছে। তারপর উনি কিছু মেডিসিন এবং একটা লোশন লিখে দিলেন। মেডিসিন খেয়ে তাদের শরীর এখন কিছুটা ভালো। তবে ফোসকা এখনও সেভাবে কমছে না। আপনারা সবাই আমার টুইন ছেলের জন্য দোয়া করবেন। যাতে তারা দু'জন দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠে। তাছাড়া আপনারা সবাই এই ভাইরাস থেকে সাবধানে থাকবেন। বিশেষ করে ৫ বছর বয়স পর্যন্ত বাচ্চারা এই ভাইরাসে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে।
পোস্টের বিবরণ
| ক্যাটাগরি | জেনারেল রাইটিং |
|---|---|
| পোস্ট তৈরি | @mohinahmed |
| ডিভাইস | Samsung Galaxy S24 Ultra |
| তারিখ | ১৬.১১.২০২৫ |
| লোকেশন | নারায়ণগঞ্জ,ঢাকা,বাংলাদেশ |
বন্ধুরা আজকে এই পর্যন্তই। আপনাদের কাছে পোস্টটি কেমন লাগলো, তা কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আবারো ইনশাআল্লাহ দেখা হবে অন্য কোনো পোস্টে। সেই পর্যন্ত ভালো থাকবেন,সুস্থ থাকবেন আল্লাহ হাফেজ।
পোস্টটি পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।
আমার পরিচয়
🥀🌹আমি মহিন আহমেদ। আমি ঢাকা বিভাগের নারায়ণগঞ্জ জেলায় বসবাস করি এবং আমি বিবাহিত। আমি এইচএসসি/ইন্টারমিডিয়েট পাশ করার পর, অনার্সে অধ্যয়নরত অবস্থায় দক্ষিণ কোরিয়াতে চলে গিয়েছিলাম। তারপর অনার্স কমপ্লিট করার সুযোগ হয়নি। আমি দক্ষিণ কোরিয়াতে দীর্ঘদিন ছিলাম এবং বর্তমানে বাংলাদেশে রেন্ট-এ- কার ব্যবসায় নিয়োজিত আছি। আমি ভ্রমণ করতে এবং গান গাইতে খুব পছন্দ করি। তাছাড়া ফটোগ্রাফি এবং আর্ট করতেও ভীষণ পছন্দ করি। আমি স্টিমিটকে খুব ভালোবাসি এবং লাইফটাইম স্টিমিটে কাজ করতে চাই। সর্বোপরি আমি সবসময় আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটিতে আন্তরিকতার সহিত কাজ করতে ইচ্ছুক।🥀🌹








ডেইলি টাস্ক স্ক্রিনশট এবং লিংক:
https://x.com/mohin3242127/status/1990066526289113130?t=k_ds9g9nfMhRcS4AwOpckg&s=19
https://x.com/mohin3242127/status/1990067108776984678?t=SSHCeaEnYUlTTKUaiGi-Fg&s=19
https://x.com/mohin3242127/status/1990067431302484005?t=uHS3yXJ4LZ6rCOlLTN6Dhw&s=19
Great 👍
X-promotion