আধুনিক কালচার আমাদের সংস্কৃতির জন্য ক্ষতিকারক।
কেমন আছেন "আমার বাংলা ব্লগ"এর সকল সদস্যরা? আশা করি সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদে সবাই খুব ভালো আছেন। আমিও খুব ভালো আছি। আজ আমি একটি পোস্ট নিয়ে আপনাদের মাঝে উপস্থিত হয়েছি। আশাকরি আমার পোস্টটি পড়ে আপনাদের খুব ভালো লাগবে।
বর্তমান সমাজে আমরা প্রত্যেকেই অনেক বেশি শিক্ষিত এবং আধুনিক হওয়ার চেষ্টায় মেতে রয়েছি। আগেকার সময় যে নিষ্পাপ মন এবং সহজ সরল জীবন আমাদের ছিল সেটা বর্তমানে আর কোন মানুষের মধ্যেই দেখা যায় না। আগেকার সময় মানুষের জীবন ছিল ঝামেলাহীন এবং তারা অল্পতেই অনেক বেশি সুখী থাকতো আর কারো সাথে কোনোভাবেই প্রতিযোগিতায় যেত না বা কারোর উন্নতিতে হিংসা করত না। কিন্তু আমরা বর্তমান সমাজে যেদিকে তাকাই সেদিকেই দেখতে পাই মানুষের উন্নতিতে মানুষের হিংসা প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে আর তার সাথে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের রেষারেষি অর্থাৎ প্রতিযোগিতা। কে কেমন পড়াশোনায় নাম্বার তুলল কে কতদূর পর্যন্ত পড়াশোনা করল সবেতেই প্রতিযোগিতা রয়েছে। শুধু পড়াশোনা জীবনেই যে প্রতিযোগিতা এমনটা নয় সারা জীবন রয়েছে প্রতিযোগিতার ফাঁদ। কে কেমন চাকরি পেল, মাসে কত টাকা উপার্জন করল, কার জীবনে কতটা উন্নতি হলো সবেতেই রয়েছে প্রতিযোগিতা। আমাদের পুরো জীবন জুড়েই রয়েছে একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতা। যা বর্তমান সমাজেই লক্ষ্য করা যায় বহুকাল আগে পুরনো সময়ে এতটাও প্রতিযোগিতা লক্ষ্য করা যেত না।
আমাদের জীবনের এইসব প্রতিযোগিতার মধ্যে আমরা এতটাই পাগল হয়ে রয়েছি যে আমরা আমাদের জীবনের শান্তি সম্পূর্ণ নষ্ট করে ফেলেছি আর তার সাথে আমাদের সংস্কৃতি সবকিছুই মুছে ফেলতে চলেছি। আমরা প্রতিনিয়ত অনেক বেশি আধুনিক হওয়ার জন্য বিভিন্ন ধরনের ভাষা বিশেষ করে ইংরেজি শিক্ষায় পটু হওয়ার চেষ্টা করে চলেছি, আর শুধুমাত্র ভাষা বা শিক্ষার দিকেই আধুনিকতা নয় আমাদের চলাফেরা পোশাক আশাক সব দিক থেকে আমরা এতটাই আধুনিক এবং বিদেশে কালচার নেওয়ার চেষ্টা করে চলেছি যে বর্তমানে আমাদের নিজস্ব যে সংস্কৃতি বা কালচার সেটাই আমরা ভুলে চলেছি। বর্তমানে আমাদের মধ্যে একটা প্রতিযোগিতা রয়েছে যে, বিদেশী কালচার কে কতটা গ্রহণ করতে পারে এবং আধুনিক হয়ে উঠতে পারে যার জন্য আমরা প্রতিনিয়ত পোশাক আশাক বদলে চলেছি, আমাদের আচার-আচরণ বিদেশীদের মতো করার চেষ্টা করি এমনকি বিভিন্ন উৎসব পালন করা ও আধুনিক বিভিন্ন কাজকর্ম করার চেষ্টা করে চলেছি আর তার সাথে রয়েছে বিভিন্ন আধুনিক ভাষা।
আমরা যত বিদেশি কালচার আয়ত্ব করছি ততই আমরা আধুনিক হয়ে চলেছি ঠিকই কিন্তু আমরা আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি ভুলে চলেছি এবং বিলুপ্ত করে চলেছি। যেখানে আমরা আমাদের সুন্দর সংস্কৃতি পূজা পার্বণ এবং বিভিন্ন ধরনের সুন্দর ধার্মিক অনুষ্ঠান নিয়ে মেতে থাকতাম সেখানে আমরা এখন সেগুলোর পরিবর্তে বিদেশি বিভিন্ন উৎসব পালন করি আর নিজের ধর্ম এবং সংস্কৃতির উৎসবকেই তুচ্ছ বলে মনে করে চলেছে যা একদমই আমাদের উচিত কাজ নয়। কিন্তু অন্যদিকে দেখলে বিদেশীরা নিজেদের উৎসব পালন করলেও আমাদের উৎসব এবং সাংস্কৃতিকে এত পছন্দ করে যে তারা আমাদের বাঙ্গালীদের বিভিন্ন ধর্ম পূজা পার্বণ করে চলেছে এমন কি পোশাক আশাক ও বিভিন্ন আচরণ গ্রহণ করে চলেছে। আমরা আমাদের কালচার ভুলে সম্পূর্ণ আধুনিক হওয়ার চেষ্টা তে আমরা আমাদের ভাষাকেও যেমন তুচ্ছ করছি তেমন আমাদের অস্তিত্ব কেউ নষ্ট করে চলেছি। যে সংস্কৃতি বাঁচিয়ে রাখার জন্য আমাদের পূর্বপুরুষ যুদ্ধ করেছে আর তার সাথে ভাষা রক্ষার জন্যেও লড়াই করে চলেছে সেই সাংস্কৃতি এবং ভাষায় আমরা বর্তমানে অবহেলা করে চলেছে এবং বিলুপ্তির পথে ঠেলে দিয়েছি।
আমাদের সংস্কৃতি এবং আমাদের ভাষা সব থেকে মহান এবং সর্বশ্রেষ্ঠ তাই আমাদের কাছেও মহান এবং সর্বশ্রেষ্ঠ হওয়া উচিত। আমরা যদি আমাদের ভাষা এবং আমাদের সংস্কৃতিকে আরও শীর্ষে তুলতে চাই এবং বিলুপ্তের পথ থেকে রক্ষা করতে চাই তবে সবার আগে আমাদের নিজেদেরই আমাদের সংস্কৃতি এবং আমাদের ভাষার গুরুত্ব বুঝতে হবে। আমাদের নিজেদেরকে আমাদের সংস্কৃত সুন্দর হয় পালন করতে হবে এবং আমাদের মহান এই মাতৃভাষার ব্যবহার করতে থাকতে হবে। আধুনিক কালচার এবং বিদেশীদের আচার-আচরণ বা ভাষা শিখলেও বা জানা থাকলেও প্রয়োজন অনুযায়ী তার ব্যবহার করতে হবে তবে নিজের ভাষাকেই সবথেকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার চেষ্টা করতে হবে। আমরা যদি বিদেশী আচার-আচরণ এবং ভাষার ব্যবহার প্রয়োজন অনুযায়ী করি এবং নিজের সংস্কৃতি এবং ভাষাকে মর্যাদা দিয়ে বেশি ব্যবহার করি তবে আমাদের সংস্কৃতি বিলুপ্তের হাত থেকে বেঁচে যেতে পারে। আমাদের উচিত সবসময় নিজের ভাষা এবং সংস্কৃতিকে ব্যবহার করা এবং সবার মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া যেন আমাদের এই সুন্দর মাতৃভাষা এবং সংস্কৃতি পুরো পৃথিবীতে ছড়িয়ে যেতে পারে আর মর্যাদা পেতে পারে।
আশা করি আজকের পোস্টটি আপনার খুব ভালো লেগেছে। আর ভালো লাগলে কমেন্ট করে অবশ্যই আমাকে জানাতে ভুলবেন না।


