মনোরোগ বা মানসিক রোগ।
কেমন আছেন "আমার বাংলা ব্লগ"এর সকল সদস্যরা? আশা করি সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদে সবাই খুব ভালো আছেন। আমিও খুব ভালো আছি। আজ আমি একটি পোস্ট নিয়ে আপনাদের মাঝে উপস্থিত হয়েছি। আশাকরি আমার পোস্টটি পড়ে আপনাদের খুব ভালো লাগবে।
মনোরোগ বা মানসিক রোগ হলেও মানুষের খুবই সাংঘাতিক একটু সমস্যা। এই মনোরোগ বা মানসিক সমস্যার কারণে মানুষের জীবনে এমন এমন সমস্যার উৎপন্ন হয় যা মানুষ নিজেও বুঝতে পারে না। বিভিন্ন ক্ষেত্র বিভিন্নভাবে আমরা দেখি মানুষের মানসিক সমস্যা হয় আর এইসব মানুষের সাথে সংসার করা মেলামেশা বা বন্ধুত্ব করা এমনকি নতুন কোন সম্পর্কে জড়িয়ে পড়া খুবই অসুবিধা জনক হয়। মানসিক সমস্যা এমন একটি সমস্যা যা বাইরে থেকে বোঝা যায় না যে কারণে মানুষকে দেখলেই আমরা বুঝতে পারি না যে এই মানুষের মানসিক সমস্যা আছে তাই এই মানুষের কাছ থেকে আমাদের দূরে থাকার প্রয়োজন। অন্যান্য রোগের সাথে মোকাবেলা করে সম্পর্ক বজায় রাখা গেলেও মানসিক রোগ যার থাকে সেই সব মানুষের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখা সুন্দরভাবে সংসার করা মোটেও সম্ভব হয় না। এছাড়াও মানসিক সমস্যা একটি এমন সমস্যা যার কোন চিকিৎসাও হয়তো এই পৃথিবীতে নেই। কারণ যেসব মানুষের মানসিক সমস্যা রয়েছে সেসব মানুষ নিজেরাও বোঝে না যে তাদের এটা সমস্যা। তারা এই মানসিক সমস্যাটাকে কোন সমস্যা বলে মনে করে না আর তাদের চিন্তা ভাবনা একদম সঠিক বলে মনে করে।
এই মানসিক রোগ বা মনোরোগ বিভিন্নভাবে বিভিন্ন রকম মানুষের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের দেখতে পাওয়া যায়। কিছু কিছু মানুষ আছে যারা নিজেদের সব সময় অসুস্থ মনে করে যে তার বিভিন্ন রকমের রোগ ধরেছে। যেমন একটু পেটে ব্যথা করলেই সে ব্যক্তি মনে করে তার হয়তো বড় কোনো সমস্যা হয়েছে সে হয়তো বাঁচবে না মরে যাবে ইত্যাদি। অর্থাৎ ছোট একটি সামান্য জিনিস নিয়ে অনেক বড়সড়ো বাড়াবাড়ি চিন্তাভাবনা করা এইসব অতিরিক্ত চিন্তাভাবনা কিছু মানুষের মধ্যে মানসিক সমস্যা তৈরি করে দেয়। এইসব মানুষ আবার একবার ওষুধ খেয়েই মনে করে তার হয়তো সমস্যা দূর হয়ে গেছে। বা কেউ যদি বলে দেয় যে এই জিনিসটা কর বা খা তাহলে এই সমস্যা দূর হয়ে যাবে তাহলে সে সেটা করেই মনে করে সে সুস্থ হয়ে গেছে। অর্থাৎ ব্যাপারটা সম্পূর্ণই মানসিক অসুস্থতা এবং মানসিক সুস্থতার মধ্য দিয়েই থাকে। কিছু কিছু মানুষ আবার অত্যন্ত সন্দেহজনক হয়ে থাকে। মানে এই ব্যক্তির সব সময় অন্যদের অতিরিক্ত সন্দেহ করতে থাকে আর কখনোই তার নজরে মানুষ বিশ্বাসযোগ্যতার স্থান পায় না। কোন ভাল কাজ করলেও এসব মানুষের কাছে এমন মনে হয় যে ভাল কাজের পেছনে নিশ্চয়ই তার কোন স্বার্থ আছে বা তার কোন খারাপ মতলব রয়েছে।
যেকোনো ভালো কাজ বা প্রত্যেক ব্যক্তির মধ্যেই এই মানুষগুলির কিছু না কিছু খারাপ দেখতে পায়। অতিরিক্ত সন্দেহ মানসিক রোগ বা সমস্যার একটি লক্ষণ। আবার এমন ব্যক্তিও রয়েছে আমাদের চারপাশে যারা নিজেদেরকে নিয়ে অতিরিক্ত ইনসিকিউর বা নিরাপত্তাহীন। এই সব ব্যক্তি সবসময় অনেক বেশি নেগেটিভ চিন্তাভাবনা করে। নিরাপত্তাহীনতার মানসিক রোগে যারা ভোগে তারা সবসময় মনে করে তাকে তার চারপাশের মানুষেরা কোনভাবে পছন্দ করে না আমার ভালোবাসা না। প্রত্যেকে হয়তো তাকে হিংসা করে এবং অতিরিক্ত বা অপ্রয়োজনীয় বস্তু বলে মনে করে। এইসব ব্যক্তি নিজেকে ধীরে ধীরে সরিয়ে নেয় আর তার সাথে মানুষের সাথে স্বাভাবিকভাবে কথাবার্তা বা মেলামেশা কোন ভাবেই করতে পারে না। অন্যদের সন্দেহ করা, অন্যদের থেকে লুকিয়ে বিভিন্ন ধরনের কাজকর্ম করা, কোথাও যাওয়ার হলে হুটহাট করে এবং না বলে চলে যাওয়া, সব সময় লুকানো এবং অন্যদের থেকে দূরত্ব বজায় রাখার একটা মানসিক প্রবণতা এদের মধ্যে দেখতে পাওয়া যায়। এই নিরাপত্তাহীনতায় যে মানসিক সমস্যা হয়ে থাকে এগুলো মূলত দেখা যায় বয়স্ক মানুষদের মধ্যে এছাড়াও অল্প বয়স অর্থাৎ টিনেজ মানুষদের মধ্যে।
মানসিক রোগ অত্যন্ত জটিল রোগ তাই এই মানসিক রোগ সম্পন্ন ব্যক্তিদের কোনভাবেই বোঝানো যায় না যে তারা যে চিন্তা ভাবনা করছে সেটা একদমই ভুল এবং যেসব পদক্ষেপ নিচ্ছে বা কাজকর্ম করছে সেগুলো ঠিক নয়। মানসিক সমস্যা থাকলে মানুষ নিজের সিদ্ধান্ত এবং নিজের চিন্তাভাবনাকে সঠিক বলে মনে করে এবং সেই ভাবেই চলাফেরা করে। কিন্তু এইসব ব্যক্তিদের ঠিক ও ভুল বোঝানো একদমই অসম্ভব হয়ে পড়ে তাই এদেরকে এদের মতনই ছেড়ে দেওয়া ছাড়া কোনো উপায় থাকে না। মানসিক সমস্যা থাকা মানুষদের মধ্যে এক গুয়ামি চিন্তাভাবনা ও কিছুটা স্বার্থপরতা লক্ষ্য করা যায়। এটা কোনভাবেই অন্যের ভালো-মন্দ ভাবেনা শুধুমাত্র নিজের কথাটাই ভাবতে থাকে আর সবাইকে শুধুমাত্র শত্রু আর পর বলে মনে করে। বয়স্কদের ক্ষেত্রে বোঝানো কঠিন হলেও ছোটদের ক্ষেত্রে একটু ভালোবাসা আদর যত্ন আর পর্যাপ্ত সময় দিলে তাদের এই মানসিক সমস্যা দূর করা সম্ভব হয় অনেক ক্ষেত্রেই। এই মানসিক রোগ বা মনোরোগ থাকা মানুষ অনেক সময় আমাদের ক্ষতির কারণ হয়ে বসে শুধুমাত্র এদের ভুল চিন্তাভাবনার কারণে। তাই এদের থেকে আমাদের অবশ্যই সুরক্ষিত দূরত্ব বজায় রাখা উচিত আর আমাদের পরিবারে যদি এমন কোন ব্যক্তি থাকে তাদেরকে যথেষ্ট সময় ভালোবাসা ও যত্ন দিয়ে ঠিক করার চেষ্টা করা উচিত।
আশা করি আজকের পোস্টটি আপনার খুব ভালো লেগেছে। আর ভালো লাগলে কমেন্ট করে অবশ্যই আমাকে জানাতে ভুলবেন না।

