গরমের নাজেহাল পরিবেশ।
কেমন আছেন "আমার বাংলা ব্লগ"এর সকল সদস্যরা? আশা করি সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদে সবাই খুব ভালো আছেন। আমিও খুব ভালো আছি। আজ আমি একটি পোস্ট নিয়ে আপনাদের মাঝে উপস্থিত হয়েছি। আশাকরি আমার পোস্টটি পড়ে আপনাদের খুব ভালো লাগবে।
শীতকাল যেতেই গরমের যে একটা নাজেহাল পরিবেশ সৃষ্টি হয়ে যায় তা দিন দিন যেন সহ্যের বাইরে হয়ে যাচ্ছে। প্রতিবছরের বছরে দেখা যাচ্ছে গরমের তাপমাত্রা যেন বেড়েই চলেছে। অবশ্য এই গরম বাড়ার পেছনে আমাদেরও যথেষ্ট কর্মফল রয়েছে। আগে ছোটবেলায় দেখা যেত প্রচন্ড গরমেও আমরা এতটাও হাঁসফাঁস করতাম না। আমাদের চারপাশে ছিল যথেষ্ট পরিমাণ গাছে যেখানে আমরা গিয়ে বিশ্রাম নিতে পারতাম বা বাড়ির চারপাশে বিভিন্ন গাছপালা থাকায় বাড়িঘর বর্তমানের তুলনায় যথেষ্ট ঠান্ডা থাকতো। এছাড়াও হাওয়া বাতাস তুলনামূলক আগে যথেষ্ট ঠান্ডা অনুভব করা যেত। কিন্তু বর্তমানে রাস্তাঘাটে বের হলেই দেখা যায় তুখোর গরমে মানুষের জন্য প্রাণ বেরিয়ে যায়। আগে বড় বড় বা ছোট রাস্তাঘাটের দুই পাঁচ জুড়ে থাকতো বড় বড় গাছ যার ছায়ায় পথযাত্রী অনেক বেশি শান্তি পেত এবং রোদের তাপ থেকে অনেকটাই রক্ষা পেত। কিন্তু বর্তমানে রাস্তার দুপাশের গাছপালা কেটে এমন অবস্থা করে দেওয়া হয়েছে যার কারণে সরাসরি সূর্যের আলো রাস্তায় প্রখর তাপমাত্রা সৃষ্টি করে এবং যারা সেই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করে তাদের যাত্রা খুবই কষ্টকর হয়ে পড়ে।
আর তার সাথে নির্মল সৌন্দর্য পরিবেশ গাছপালা থাকার কারণে ছিল সেই পরিবেশ নষ্ট হয়ে এখন এমন একটা রূপ ধারণ করেছে যার ফলে রাস্তাঘাট ভালো করে জানো দেখাও যায় না চোখ ঝলসে যায়। বর্তমানে বাড়ির আশেপাশে এতটাই গাছপালার অভাব হয়েছে যে প্রখর রোদ সরাসরি বাড়িতে হানা দেয় এবং ঘরবাড়ি অতিরিক্ত উত্তপ্ত হয়ে পড়ে যার ফলে ঘরে বসবাসকারী মানুষের সাধারণ ভাবে জীবন যাপন করা শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়ার এমনকি শান্তির ঘুম নষ্ট হয়ে যায়। আগেকার সময় দেখা যেত দিনের বেলা যতই গরম লাগতো না কেন রাতের বেলা সুন্দর ঠান্ডা পরিবেশ তৈরি হতো গাছের হাওয়ায় এবং প্রকৃতির অবদানের কারণে। কিন্তু বর্তমানে এমন পরিবেশ হয়ে দাঁড়িয়েছে যে চারপাশে না এখনো জলাশয় রয়েছে না কোন গাছপালা যার ফলে বাইরে বের হলেও হাওয়া বাতাসের কোন দেখা পাওয়া যায় না। আর সেই কারণেই বর্তমানে মানুষরা বেছে নিয়েছে এসির ব্যবস্থা। কিন্তু এই এসি আমাদের জীবনকে এতটাই ক্ষতির দিকে এগিয়ে নিয়ে চলেছে যে মানুষ আর আগের মত সুন্দরভাবে বেঁচে থাকতে পারছে না।
বাইরে প্রচন্ড গরমের কারণে ঘরে এসির মধ্যে থাকা পছন্দ করছে মানুষ যার ফলে অলসতা পূর্ণ জীবন যাপন তৈরি হয়ে যাচ্ছে মানুষের আর এর ফলে বিভিন্ন ধরনের রোগের সৃষ্টি হচ্ছে মানব শরীরে। আগেকার সময় প্রচন্ড গরমেও দেখা যেত মানুষ মাঠে-ঘাটে জলাশয়ের পাশে গাছের ছায়ায় শান্তিতে ঘুমাতো আর সুন্দর মনোরম সময় কাটাতো। কিন্তু বর্তমান সময়ে তো না দেখা যায় কোন জলাশয় আর না তার পাশে সুন্দর গাছপালার নিচে মানুষ মনোরম সুন্দর শান্তের সময় কাটায়। আগেকার যে মধুর সুন্দর আবহাওয়া ছিল এবং প্রকৃতি আমাদের সুন্দরভাবে আগলে রাখত সেটা আমরা যেন নিজেরাই নষ্ট করে ফেলেছি এবং দিনে দিনে নিজের ক্ষতি করে চলেছি। আমরা বুঝতেই পারিনি যে প্রকৃতির এই জলাশয় গাছপালা ও অন্যান্য জিনিস আমাদের কত বড় সম্পদ। আমরা না বুঝেই আমাদের প্রকৃতির এই সম্পদ গুলো নষ্ট করে চলেছি যার ফলে আমাদের নিজেদের জীবন কষ্টকর হয়ে উঠছে। সেই জন্য দেখা যায় বর্তমানে এই গরমে অনেক মানুষেরই ভীষণ রকমের শরীর খারাপ হয়ে যায় বৃদ্ধ মানুষেরা এত গরম সহ্য করতে না পেরে অনেকেই মারা যায়।
আমরা আধুনিকতায় এতটাই মেতে উঠেছি যে আমরা আমাদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ যে জিনিসগুলো সেগুলোকেই আমাদের জীবন থেকে বাদ দিয়ে চলেছি। আর এই গুরুত্বপূর্ণ জিনিস আমরা এতটাই বিলুপ্ত করেছি এবং নষ্ট করেছি যা আমরা ভবিষ্যতে যদি আবার সৃষ্টি না করি তবে আমাদের জীবন কোনভাবেই সুন্দর হয়ে উঠতে পারবে না। আমরা এমন ধ্বংসের পথে এগিয়ে চলেছি যে প্রকৃতি একমাত্র আমাদের বাঁচাতে পারে এবং এই গরম ও বিভিন্ন ধরনের অসুস্থতার হাত থেকে রক্ষা করতে পারে। আগের সময়ে ছোটবেলায় দেখা যেত বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রকম আবহাওয়া আমরা সুন্দর অনুভব করতাম কিন্তু বর্তমানে শীত গেলেই যেন আমরা শুধু গরম অনুভব করি আর শীতের সময় কাল ও যেন দিনে দিনে কমে আসছে। সুন্দর পরিবেশ আবহাওয়া এবং আমাদের জীবন যাপনের ও সুস্থ ভাবে বেঁচে থাকার জন্য যে পরিবেশ প্রয়োজন সেটা যদি আমরা ফিরে পেতে চাই তবে আমাদের প্রত্যেকের সচেতন হতে হবে এবং আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা করতে হবে। নদী-নালা পুকুর ডোবা প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি করতে হবে প্রচুর পরিমাণে গাছপালা লাগাতে হবে তবেই আমাদের চারপাশের পরিবেশের ভারসাম্য বজায় থাকবে।
আশা করি আজকের পোস্টটি আপনার খুব ভালো লেগেছে। আর ভালো লাগলে কমেন্ট করে অবশ্যই আমাকে জানাতে ভুলবেন না।

