সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে বাচ্চাদের ক্ষতি।

in আমার বাংলা ব্লগ11 hours ago


কেমন আছেন "আমার বাংলা ব্লগ"এর সকল সদস্যরা? আশা করি সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদে সবাই খুব ভালো আছেন। আমিও খুব ভালো আছি। আজ আমি একটি পোস্ট নিয়ে আপনাদের মাঝে উপস্থিত হয়েছি। আশাকরি আমার পোস্টটি পড়ে আপনাদের খুব ভালো লাগবে।


17686292956302682556432978949546.png


সোর্স



বর্তমানে আমাদের সমাজে দেখা যাচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে বাচ্চাদের জীবনের অনেক ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়া সংক্রান্ত বিভিন্ন অ্যাপ নেই এমন কোন মোবাইল নেই এবং বিভিন্ন ধরনের সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যাপ ব্যবহার করে না এমন কোন মানুষও বর্তমানে নেই। যার কারণে বর্তমান সমাজ অনেক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে চলেছে। বর্তমানে মানুষের কাছে এতোটুকু সময় নেই যে সে অন্য মানুষের সাথে কথা বলবে বা একটু সময় কাটাবেন এমনকি মানুষের সাথে দেখা করারও সময় থাকে না বর্তমান মানুষের। কিন্তু আমাদের এই সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে দূর দূরান্তের বিভিন্ন মানুষের সাথে যেমন আমাদের পরিচয় হয় আলাপ হয় আর তার সাথে হারিয়ে যাওয়া মানুষ আমরা ফিরে পেয়েছি তেমনি আমাদের কাছের মানুষকে অনেক দূরে সরিয়ে ফেলেছি। অর্থাৎ সোশ্যাল মিডিয়া আমাদের জীবনে একদিকে যেমন উপকার করেছে অন্যদিকে তেমন ক্ষতিও করে চলেছে। আসলে কোন কিছু আবিষ্কার করা হলে সেটা সব সময় ভালো কাজে ব্যবহার হবে এই আশাতেই বিভিন্ন মানুষ বিভিন্ন জিনিস আবিষ্কার করে থাকে। কিন্তু বর্তমান সময় এমন এসে দাঁড়িয়েছে যে ভালো কাজে ব্যবহার করা যে কোন জিনিস মানুষ সবার আগে নিজের স্বার্থে এবং খারাপ কাজে ব্যবহার করে থাকে।


তেমন এই সোশ্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশন যখন আবিষ্কার করা হয়েছিল তখন ভালো কাজে ব্যবহার করা হবে সেই আশাতেই আবিষ্কার করা হয়েছিল। কিন্তু আমরা আমাদের প্রয়োজন ছাড়া এত বেশি সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ে ব্যস্ত থাকি যার কারণে আমাদের জীবনের যেমন ক্ষতি হচ্ছে তেমন আমাদের পরিবারেরও ক্ষতি হচ্ছে আর তার সাথে আমাদের পরিবারের সন্তানদেরও ক্ষতি হয়ে চলেছে। পরিবারের লোক একে অপরকে সময় দেওয়ার পরিবর্তে সোশ্যাল মিডিয়ায় সময় দেওয়া শুরু করেছে যার ফলে পরিবারের মধ্যে এখন আর দেখা যায় না সুন্দরভাবে বসে গল্প গুজব করতে বা পরিবারের মানুষের সাথে সময় কাটাতে। আর এর ফলে দেখা যায় পরিবারের মানুষের সাথে কথাবার্তা কম হয় এবং আন্তরিকতা ধীরে ধীরে কমতে কমতে বিচ্ছেদের সংখ্যাই যেন বেশি বেড়ে যাচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে পরিবারের মানুষের মনের কথা শোনার সময় হয়না এমনকি প্রয়োজনীয় কথা শোনারও সময় হয়ে ওঠেনা মানুষের। যার ফলে মনোমালিন্য বাড়তে থাকছে পরিবারের মানুষের মধ্যে এমনকি দাম্পত্য জীবনে। সোশ্যাল মিডিয়ার শুধু ঘাটাঘাটিতেই যে জীবনের ক্ষতি হচ্ছে এমনটা নয়।


বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন ধরনের ভিডিও তৈরিতে মানুষ এতটাই আসক্ত হয়ে পড়েছে যে সংসারের দিকে কোনই খেয়াল নেই যে তার পরিবারের মানুষ কি করছে বা কেমন আছে। মানুষ সোশ্যাল মিডিয়া থেকে উপার্জনের নেশায় এতটাই আসক্ত হয়ে গেছে যে নিজের সীমারেখা ভুলে চলেছে। নগ্ন তার সীমা অতিক্রম করে ফেলেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। বর্তমানে বাচ্চাদের হাতে মোবাইল বা সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করতে দেওয়ার কোনো রকমই সুযোগ নেই কারণ সোশ্যাল মিডিয়া নিমজ হতে যাচ্ছে খুবই নোংরা হয়ে উঠেছে। মানুষ উপার্জনের নেশায় নিজের জামা ছোট করে চলেছে এবং নোংরামি করে চলেছে। যা একটি বাচ্চার মনে অনেক খারাপ প্রভাব পড়তে পারে। এছাড়াও বর্তমানে দেখা যায় পরিবারের মানুষ নিজেই বাচ্চাদের দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন ধরনের ভিডিও তৈরি করিয়ে থাকে। ছোট বাচ্চাদের যখন পড়াশোনা সময় খেলাধুলার সময় সেই সময় তারা পড়াশোনা খেলাধুলা না করে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন ধরনের ভিডিও তৈরিতে ব্যস্ত রয়েছে। আর এই সব কাজ করতে সাহায্য করে তাদের বাড়ির সদস্যরাই।


সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে বাচ্চাদের দৈহিক এবং মানসিক গ্রোথ অনেক বেশি খারাপ হয়ে চলেছে। যে বয়সে বাচ্চাদের নিষ্পাপ সহজ সরল জীবন যাপন করা উচিত সেই সময়ে তারা অর্থ উপার্জনের পেছনে ছুটে চলেছে। এই সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে বাচ্চাদের পড়াশোনা এবং বিভিন্ন ধরনের স্বাভাবিক জীবনে ব্যাঘাত ঘটে চলেছে। এছাড়াও বর্তমানে ছোটবেলা থেকেই দেখা যাচ্ছে বাচ্চাদের ঝামেলা এড়াতে বা বাচ্চাদের শান্ত রাখার জন্য সোশ্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন অ্যাপ চালু করে বাচ্চাদের দেখিয়ে শান্ত করে রাখা হয়। এর কারণে দ্রুত বাচ্চাদের চোখের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় এছাড়াও শারীরিক এবং মানসিক সমস্যা দেখা যায় কম বয়সে। সোশ্যাল মিডিয়ার সঠিক ব্যবহার না হলে আমাদের পারিবারিক জীবন এবং সন্তানদের বেড়ে ওঠা ব্যাহত হতে পারে। তাই আমাদের সব সময় উচিত এই সোশ্যাল মিডিয়ার সঠিক ব্যবহার করা এবং অযথা সোশ্যাল মিডিয়ায় আমাদের অতি মূল্যবান সময়ে নষ্ট না করা।


আশা করি আজকের পোস্টটি আপনার খুব ভালো লেগেছে। আর ভালো লাগলে কমেন্ট করে অবশ্যই আমাকে জানাতে ভুলবেন না।