কন্যা সন্তান।
কেমন আছেন "আমার বাংলা ব্লগ"এর সকল সদস্যরা? আশা করি সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদে সবাই খুব ভালো আছেন। আমিও খুব ভালো আছি। আজ আমি একটি পোস্ট নিয়ে আপনাদের মাঝে উপস্থিত হয়েছি। আশাকরি আমার পোস্টটি পড়ে আপনাদের খুব ভালো লাগবে।
আমাদের সমাজে কন্যা সন্তানকে দেবীরূপে পুজো করা হয়। কন্যা সন্তান এমন একটা মানব রূপ যার দ্বারা এই পৃথিবীর মানব সৃষ্টি হয়েছে এবং মানব সংখ্যা বৃদ্ধি হয়ে চলেছে। এই কন্যা সন্তানের ওপরে নির্ভর করে সৃষ্টির অধিকাংশ। দেখা যায় পুরুষদের থেকে অধিক ক্ষমতাবান হয়ে থাকে এবং বিভিন্ন দিকে একসাথে পরিচালনা করার ক্ষমতা থাকে এই কন্যা সন্তানদের। অসীম ক্ষমতার অধিকারী হয়েও সন্তানকেই সবসময় অবহেলিত হতে হয়। কোনো পরিবারে যখন কন্যা সন্তান জন্মগ্রহণ করে তখন দেখা যায় পরিবারের গুরুজনেরা একটু অখুশি হয়ে পড়ে। বর্তমানে এ ব্যাপারটা একটু কম দেখা গেলেও আগেকার সময়ে দেখা যেত কন্যা সন্তানকে বোঝা বলে মনে করা হতো। কোন সন্তান জন্মগ্রহণ করলে তাকে বিভিন্নভাবে অবহেলা করা হতো এবং ছোট থেকেই অনেক অবহেলার সাথে এবং অভাবে মানুষ করা হতো। যেখানে পুত্র সন্তানকে শিক্ষিত করে অনেক সুন্দর ভাবে প্রয়োজনীয় সব সামগ্রী দিয়ে আদরের সাথে বড় করা হতো সেখানে কন্যা সন্তান সেই পুরনো সময় থেকেই অবহেলিত হয়ে চলেছে। আগেকার সময় তো এমন দেখা যেত যে কন্যা সন্তান জন্মগ্রহণের পর তাকে বিভিন্নভাবে হত্যার চেষ্টা করা হতো বা অনেক সময় হত্যা করেই দেওয়া হতো।
আগেকার সময় যেহেতু চিকিৎসা পদ্ধতি এত উন্নত ছিল না যার কারণে গর্ভে থাকাকালীন পুত্র সন্তান নাকি কন্যা সন্তান সেটা বোঝা যেত না সে কারণে ভূমিষ্ঠ হবার পরে কন্যা সন্তানকে মেরে দেওয়া হতো। কিন্তু বর্তমানে শিক্ষিত সমাজের গর্ভে থাকাকালীনই লিঙ্গ নির্ধারণ করে যখন দেখা যেত কন্যা সন্তান তখন তাকে গর্ভে মেরে ফেলা হয়। আসলে কিছু মানুষ আছে এমন যারা এতটাই অমানবিক হয়ে থাকে এবং অমানুষ ও জ্ঞানহীন হয়ে থাকে যে তারা বুঝতেই চায় না যে মানুষ মানেই স্ত্রী ও পুরুষ দুজনই সমান। স্ত্রী ও পুরুষ দুজন মিলেই এ সুন্দর পৃথিবীটা সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে পারবে, এছাড়াও এই পৃথিবীতে স্ত্রী এবং পুরুষ দুজনেরই সমান প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু যেভাবে কন্যা সন্তান হত্যা করা হয় সে ক্ষেত্রে দেখা যায় বিভিন্ন জায়গায় কন্যা সন্তানের তুলনায় পুরুষ সন্তান বেশি বেড়ে গেছে। আসলে কিছু মূর্খ মানুষ বংশ এগিয়ে নিয়ে চলার জন্য কন্যা সন্তানকে হত্যা করে চলেছে পুত্র সন্তান পাওয়ার আশায়। আরে পুত্র সন্তান জন্ম দেওয়ার জন্য তাদের গৃহবধুর ওপর বিভিন্নভাবে শারীরিক এবং মানসিক অত্যাচার করতেও দেখা যায় আমাদের চারপাশে বিভিন্ন পরিবারে।
কন্যা সন্তান পুত্র সন্তানের মত সমান ভাবে অধিকার রাখে এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকার এবং পৃথিবীর প্রত্যেকটা সুবিধা ভোগ করার। কিন্তু সমাজে যেমন কন্যা সন্তানকে জন্মগ্রহণ করতে দেওয়া বিভিন্ন পরিবারে বাধা থাকে তেমনি সমাজে জীবন যাপন করতেও কন্যা সন্তানদের অনেক বেশি কষ্ট এবং বাধার সম্মুখীন হতে হয়। একদিকে কন্যা সন্তানকে জন্মগ্রহণ হতেই দেওয়া হয় না অন্যদিকে যেসব পিতামাতা কন্যা সন্তান পছন্দ করে এবং তারা ভালোবেসে কন্যা সন্তানকে জীবনে পেয়ে সুন্দর ভাবে লালন পালন করে বড় করে তোলে তাদেরও সারা জীবন ভয়ে ভয়ে দিন কাটাতে হয় যে তাদের আদরের কন্যা সন্তানের কখনো কোনো ক্ষতি না হয়। আসলে আমাদের এই সমাজ কন্যা সন্তানের জন্য অনেক বেশি ক্ষতিকর। আমাদের সমাজে কন্যা সন্তান হয়ে জন্মগ্রহণ করা এবং জীবনে ভালোভাবে বেঁচে থাকা আর তার সাথে নিজে আর্থিকভাবে সক্ষম হওয়া অনেক বেশি কষ্টকর হয়ে থাকে। এখনো গ্রামের দিকে এবং বিভিন্ন পুরনো চিন্তাধারা মানুষদের মধ্যে দেখা যায় কন্যা সন্তান জন্মগ্রহণ করলেই তারা অনেক বেশি অবহেলা এবং অযত্ন করে আর অভাবের মধ্যে রেখে কন্যা সন্তানকে বড় করে তোলে আর তার সাথে একটু বড় হতে না হতেই সংসারের কাজ শেখানো শুরু করে আর কম বয়সেই বিয়ে দিয়ে ঝামেলা যেন বিদায় করে।
কম বয়সে বিয়ে দিয়ে সংসারের বোঝা কাঁধে দেওয়ার কারণে সেই কন্যা সন্তানের জীবনটা অনেক বেশিই নষ্ট হয়ে যায়। আমাদের এই পৃথিবীতে কন্যা সন্তান পুত্র সন্তানের মত সমান অধিকার পাওয়ার যোগ্যতা রাখে। আসলে কন্যা সন্তানকেও যদি আমরা পুত্র সন্তানের মতনই বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দিয়ে থাকি তবে কন্যা সন্তানও এই পৃথিবীকে অনেক উন্নত করতে আধুনিক সমাজ গড়ে তুলতে অনেক বেশি সাহায্য করতে পারে। আমাদের লিঙ্গ ভেদাভেদ না করে সব সময় উচিত কন্যা সন্তানকে সুন্দরভাবে পৃথিবীতে আসার সুযোগ করে দেওয়া আর তার সাথে সুন্দর ভাবে বাঁচতে সাহায্য করা। কন্যা সন্তান যেন আর্থিকভাবে নিজের সক্ষম হতে পারে সেদিকেও আমাদের খেয়াল রাখা উচিত। আমাদের সব সময় মনে রাখতে হবে এই পৃথিবীতে পুত্র সন্তান যেমন সুন্দরভাবে বাঁচার অধিকার রাখে তেমন কন্যা সন্তানও সকল সুযোগ সুবিধা পেয়ে সুন্দর ভাবে বাঁচার অধিকার রাখে। তাই আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন করে সমাজের প্রত্যেক কন্যা সন্তানকে সুন্দরভাবে বাঁচতে সাহায্য করতে হবে আর নিজের পরিবারেও যদি কন্যা সন্তান জন্ম নেয় তাকেও সুন্দরভাবে যত্ন সহকারে বড় করে তুলতে হবে।
আশা করি আজকের পোস্টটি আপনার খুব ভালো লেগেছে। আর ভালো লাগলে কমেন্ট করে অবশ্যই আমাকে জানাতে ভুলবেন না।

