পিঠে পুলি উৎসব।
কেমন আছেন "আমার বাংলা ব্লগ"এর সকল সদস্যরা? আশা করি সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদে সবাই খুব ভালো আছেন। আমিও খুব ভালো আছি। আজ আমি একটি পোস্ট নিয়ে আপনাদের মাঝে উপস্থিত হয়েছি। আশাকরি আমার পোস্টটি পড়ে আপনাদের খুব ভালো লাগবে।
আমাদের বাঙ্গালীদের বারো মাসে তেরো পার্বণ লেগেই থাকে। এমন কোন সময় নেই যে সময় আমাদের কোন উৎসব নেই। উৎসব ঘিরে আমাদের বছরের প্রায় দিনই থাকে। যেমন বিভিন্ন দেবদেবীর পূজা থাকে তেমনি বিভিন্ন বিশেষ দিন থাকে এবং তার সাথে থাকে সেই বিশেষ দিনে বিশেষ কিছু নিয়ম পালন। পুজো পার্বণ ও বিশেষ দিনের নিয়ম পালন করতে আমাদের বাঙ্গালীদের এতটাই ভালো লাগে যে মাঝে মাঝে দেখা যায় অন্য কালচারের বিভিন্ন উৎসাহ আমরা পালন করে থাকি। শীত হোক বা বর্ষা এমনকি চরম গরমেও আমরা বিভিন্ন উৎসব এবং বিশেষ দিন পালন করে থাকি খুবই আনন্দসহকারে। প্রত্যেকটা উৎসবের নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম থাকে যা আমরা পালন করতে অনেক বেশি পছন্দ করি তেমনি হলো এই শীতের বিশেষ পৌষ সংক্রান্তির দিন। ছোটবেলা থেকেই দেখেছি মা, মাসি, দিদারা ভোরের আলো ফোটার আগে তুলসী তলায় পুজো দিত এই পৌষ সংক্রান্তির দিনে। অন্ধকার থাকতে থাকতে ভোরবেলা তুলসীতলা সুন্দরভাবে গরুর গোবর দিয়ে লেপে ধুয়ে পরিষ্কার করে নিত তারপর চালের গুঁড়ো বেটে রাখা একটা ঘন গোলা দিয়ে গোল গোল করে আঁকতো। আর তার মধ্যে দিত সিঁদুরের ফোটা।
এছাড়াও বিভিন্ন নিয়মকানুন করতে দেখতাম আর তার সাথে বিভিন্ন মন্ত্র পড়ে তুলসী তলায় পুজো দিতে মায়ের সাথে আমারও ভীষণ ভালো লাগতো। ঘুম থেকে উঠে অন্ধকার পরিবেশে বাড়ির বউদের এমন পূজা করতে দেখে মনে হতো না যে এখনো সূর্যের আলো ফুটেনি এবং রাত রয়েছে। চারপাশটা পুরো জমজমাট পরিবেশ হয়ে উঠতো, এই ছোটবেলা থেকে এই দিনে আমি কখনোই ঘুমিয়ে থাকতাম না ভোরবেলা মায়ের প্রথম ডাকে উঠে পড়তাম পূজা দেওয়ার জন্য। অনেকেই এমন আছে যারা পৌষ সংক্রান্তির আগে পিঠে খায় না। এই পৌষ সংক্রান্তির দিন থেকে পিঠে খাওয়া উৎসব শুরু হয়ে যায়। পৌষ সংক্রান্তির আগের রাতে বিভিন্ন রকমের সুস্বাদু রকমারি পিঠে পুলি তৈরি করে রাখা হয়। যেটা ভোর বেলার পুজোতেও ভগবানকে তুলসীতলার উৎসর্গ করা হয়। প্রথম পিঠে পুলি তুলসী তারাই ভগবানকে দিয়ে তারপরে আমরা সবাই খেয়ে থাকি। অনেকের বাড়ি তো পৌষ সংক্রান্তির দিন উনুন জ্বলতে দেখা যায় না সারাটা দিন পিঠে খেয়েই দিন কাটায় এটাই নাকি তাদের নিয়ম। পৌষ সংক্রান্তির দিন থেকে শুরু হয় বাড়িতে রকমারি পিঠেপুলি তৈরির আয়োজন।
এই শীতের দিনে বাড়ির সবাই ছোট বড় মিলে এবং বাড়ির বউরা বিভিন্ন রকমের পিঠে পুলে বানিয়ে থাকে যা খুবই মজাদার হয়ে থাকে। শীতের এই পিঠাপুলি তৈরির সময়ে একসাথে কাজ করতে করতে সুন্দর সময় কাটানো যায় সকলে মিলে। সারাদিনে ব্যস্ত থাকলেও সন্ধ্যার সময় সবাই একসাথে পিঠে বানানোর আনন্দ এবং একসাথে গল্প গুজব করা যেন মনকে আলাদাই শান্তি দিয়ে দেয়। কারোর পিঠে খুব সুন্দর হয় আবার কারোর খারাপ হয়ে যায় এই নিয়েও বিভিন্ন রকম মজাদার কথা হাসাহাসি চলতে থাকে। এই সুন্দর সময়ের মধ্যে দিয়েই বাড়ির ছোট সদস্যরা বড়দের কাছ থেকে পিঠে বানানো শিখে নেয় এবং বড়রাও অতি যত্ন সহকারে ছোটদের পিঠেপুলি এবং বিভিন্ন সুস্বাদু খাবার তৈরি করা শিখিয়ে দেয়। আসলে এই শীতের এই সময়টাতেই আমাদের কাজকর্ম অনেক কম থাকে এবং চারিদিকে বিভিন্ন উৎসব ও বিশেষ দিন থাকে যার কারণে পরিবারের সাথে এই সময়টাতে আমরা সুন্দর সময় কাটাতে পারি। ঘরের পুরুষ মানুষেরাও যার অন্যান্য সময়ে পরিবারকে সময় দিতে পারে না তারা এই ছুটির বিশেষ দিনগুলিতে পরিবারের সাথে অনেক সুন্দর সময় কাটায় এবং পরিবারের সাথে একসাথে বিভিন্ন কাজে সাহায্য করে থাকে।
অনেকেই মিষ্টি জাতীয় পিঠেপুলি খুব একটা পছন্দ করে না যে কারণে মুখরোচক ঝাল পিঠেও তৈরি করে থাকে। আমাদের জীবনে এমন অনেক সুন্দর সুন্দর দিন আসবে আবার চলে যাবে তাই আমাদের জীবনের প্রত্যেকটা বিশেষ দিন সুন্দরভাবে উপভোগ করা উচিত এবং এই বিশেষ দিনে পরিবারের সাথে সুন্দরভাবে সময় কাটানো উচিত। কারণ একবার আমাদের জীবন থেকে এই সুন্দর সময় চলে গেলে আর কখনোই ফিরে পাওয়া যাবে না। তাই আমাদের জীবনের বিভিন্ন উৎসবের দিন এবং বিশেষ দিন আর সুন্দরভাবে হাসিখুশি ভাবে বাঁচার সময় সব সময় ধীরে ধীরে বাড়ানো উচিত। এমন সুন্দর পিঠে পুলি উৎসবের মাসে আমাদের মন ভরে পছন্দ মত পিঠে পুলি খেয়ে নিতে হবে কারণ এই পিঠে উৎসব আমরা অন্য সময় বা গরমের সময় পাবো না। আর তার সাথে পরিবারের সাথে সুন্দরভাবে সময় দিয়ে তাদের সহযোগিতা করে জীবনের সুন্দর স্মৃতি তৈরি করে রাখতে হবে। পৌষ সংক্রান্তির একটা বিশেষ দিন এই বিশেষ দিনকে আরও বিশ্বাস এবং সুন্দর করে তুলতে হবে আর পরিবারের সকলে মিলে পূজো পার্বণ করে নেগেটিভ শক্তিকে দূরে সরিয়ে পজেটিভ শক্তির প্রভাব বাড়িয়ে তুলতে হবে।
আশা করি আজকের পোস্টটি আপনার খুব ভালো লেগেছে। আর ভালো লাগলে কমেন্ট করে অবশ্যই আমাকে জানাতে ভুলবেন না।

