|| জেনারেল রাইটিং : ট্রেন বিভ্রাট ||
নমস্কার বন্ধুরা
বড্ড বিপাকের ভিতর পড়ে গেছিলাম আজ। সাধারণত এরকম ঘটনা শিয়ালদা বনগাঁ গামী ট্রেনগুলোতে হয় না। ইনফ্যাক্ট করোনার সময় হয়তো কিছুদিন এরকম হয়েছিল তবে এতটাও ছিল না যতটা গত দু'দিন ধরে হচ্ছে। আপনারা তো সকলেই জানেন যারা আমার পোষ্ট পড়েছেন, যে গতকাল একটা চাকরির পরীক্ষা ছিল। তবে ট্রেন নিয়ে যে এতটা বিড়ম্বনার স্বীকার হতে হবে সেটা আমি আগে বুঝতে পারিনি। গত কাল ওই একই পরিস্থিতি ছিল তবে আমার ক্ষেত্রে ব্যাপারটা ঘটেনি কেন, সেটা খুলে বলছি। গতকাল আমার যেহেতু সাড়ে 11 টা থেকে পরীক্ষা ছিল তাই আমি মোটামুটি সকাল সকালই ঘর থেকে বেরিয়েছিলাম। তাছাড়া আমি যে ট্রেনে যাব সেটা আগে থেকেই ঠিক করে রেখেছিলাম। তবে একটা মজার বিষয় হলো যে আমার ট্রেনের টাইম যে সময় ছিল তার আগেই আমি ট্রেনটা পেয়ে গেলাম এবং সেটাতে করে মধ্যমগ্রামে চলে আসতে পেরেছিলাম। তবে আমি একটা বারও বুঝতে পারিনি যে, আমি যে ট্রেনটা এসেছি ওটা রীতিমতো দেড় ঘন্টা লেট ছিল। অর্থাৎ যে ট্রেনটা দেড় ঘন্টা আগে যাওয়ার কথা ছিল সেই ট্রেনটা এখন যাচ্ছে।
ঠিক একই ভাবে আমি যখন পরীক্ষা শেষ করে বনগাঁ এর উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম তখন একই পরিস্থিতি। অর্থাৎ আমি স্টেশনে আসার কিছু সময় পরই ট্রেন প্লাটফর্ম এসে ঢুকলো। তবে তখন আমি বুঝতে পারিনি যে ওই ট্রেন দমদম ক্যান্টনমেন্টে প্রায় এক ঘন্টার উপরে দাঁড়িয়ে ছিল। এর ফলে যে প্যাসেঞ্জার নিয়মিত ট্রেনে উঠে তার থেকে প্রায় তিন চার গুণ লোক ট্রেনের ভেতর ছিল। এটা ছিল গতকালের ঘটনা। অর্থাৎ কাল আমার তেমন কোনো সমস্যা হয়নি ট্রেন নিয়ে, সমস্যাটা হয়েছিল আজ সকালে। আমি আসলে ভুলেই গেছিলাম যে দমদম থেকে শিয়ালদা পর্যন্ত রেল লাইনের উপর কাজ চলছে। অর্থাৎ ট্রেন পুরোপুরি বন্ধ। যেহেতু, রবিবার সরকারি ছুটি এজন্য লোকের অফিস যাওয়ার কোনো চাপ থাকেনা। আর এই কারণেই এই দুইদিন সিলেক্ট করা হয়েছে লাইনের কাজ করার জন্য। এরকম লাইনের কাজ হয়তো ২-৫ বছর পর একবার করে করে। কিন্তু সেই কাজটা যে পরীক্ষার এই দুই দিন ফেলবে এটা কেউ এক্সপেক্ট করেনি।
সত্যি কথা বলতে এর কারণে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ছাত্র-ছাত্রীরা, যাদের সরকারি চাকরির পরীক্ষা ছিল। অনেকে তো ঘর থেকে বেরিয়ে সময়মতো পরীক্ষার হলেই আসতে পারিনি। অর্থাৎ তার পরীক্ষা বাতিল হয়ে গেছে। তারপর পরীক্ষা চলাকালীন সময় অনেকে হলে ঢুকতে গিয়ে বাঁধার সম্মুখীন হয়েছে এবং তাকে পরীক্ষা না দিয়ে বাড়ি চলে আসতে হয়েছে। আমি আজ গিয়েছিলাম একটু বারাসাত আমার নিজের কিছু ব্যক্তিগত কাজে। কিন্তু বনগাঁ থেকে প্রায় দেড় ঘন্টা লেট ছিল ট্রেন। তারপর আবার যখন বারাসাত থেকে কাজ শেষ করে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম তখন দেখি বারাসাত স্টেশনে প্রচুর লোকের সমাগম। অর্থাৎ নরমাল যে লোক হয় এসব স্টেশন গুলোতে তার থেকে প্রায় তিন চার গুণ বেশি।
এর ফলে যেটা হল যে ট্রেনে উঠতে গিয়ে অনেক বিপত্তির সৃষ্টি হলো। মারামারি, ঠেলাঠেলি, করতে করতে তো ট্রেনে উঠে পড়লাম। তবে আমার পরেও প্রচুর লোক ছিল যারা অনেক কষ্ট করেও ট্রেনে উঠতে পারিনি। তবে ট্রেনে উঠেই যে শান্তি তা কিন্তু নয়। একজনের গায়ের উপর আরেকজন উঠে যাচ্ছে, পায়ের উপর পাড়া দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকছে। তাছাড়া লোকদের ভিতর তো রীতিমতো মারামারি লেগে গেছে জায়গা নিয়ে। তারপরে সব থেকে যে সমস্যাটা বেশি হচ্ছিল সেটা হল শ্বাসকষ্ট। এত লোক একসাথে তারপর আবার ট্রেনের ভিতর হাওয়া ঢোকার জায়গা নেই, এর ফলে লোকজন অসুস্থ হয়ে যাওয়ার মত অবস্থা। বিশেষ করে যারা পরীক্ষা দিয়ে বাড়ি ফিরছে তাদের অবস্থা তো আরও খারাপ। মোটামুটি বারাসাত থেকে বনগাঁ অব্দি আসতে এক ঘন্টা দশ মিনিটের মতো সময় লাগে, কিন্তু আমার বাড়ি পৌঁছাতে প্রায় দেড় ঘন্টার মত সময় লাগলো। আর আমার জীবনে আমি ট্রেনে এত ভীড় কোনদিন দেখিনি, যেটা আজ দেখলাম।
| পোস্ট বিবরণ | জেনারেল রাইটিং |
|---|

আগের দিনে পোস্ট পড়ে জানতে পেরেছিলাম আপনার চাকরির পরীক্ষা ছিল। আপনি যে এরকম বর্ণনা দিলেন তাদের বাংলাদেশের লোকাল ট্রেনের ক্ষেত্রে এরকমটা হয় তবে যেহেতু লাইনের কাজ চলছিল তাই এই ঝামেলার সৃষ্টি হয়েছে। তবে রেল কর্তৃপক্ষের পরীক্ষার্থীদের কথা একটু বিবেচনা করা উচিত ছিল।
বর্তমান সময়ে চলাচল বেশ কঠিন আপু। ট্রেনে যেমন ভিড় লোকাল বাসে উঠে তেমন। তবে প্রয়োজনে তো চলাচল করতেই হবে কিছু করার নেই। আবার এর মাঝে কিন্তু অনেক সময় ছিনতাই হয়ে থাকে। পাবলিক যখন ট্রেনে ওঠা নিয়ে ব্যস্ত ওই মুহূর্তে অনেকে সুযোগ গ্রহণ করে। আর পরীক্ষা দিতে গেলে তো অবশ্যই আগে থেকে বের হওয়াটাই বেটার।
আপনার কথাগুলো পড়ে বুঝতে পারছি আপনার অবস্থা ঠিক কতটা খারাপ ছিল। ট্রেনে অতিরিক্ত ভীড়ের কারণে আমি নিজেই বেশ কয়েকবার নেমেই এসেছি। ঐ ভীড়ের মধ্যে আমার একেবারে অসহ্য লাগে। আর ট্রেন লেট হলে ট্রেনের যাএীসংখ্যা বেড়ে যায়। পাশাপাশি বললেন লাইনে কাজ চলছিল। বেশ একটা ভোগান্তি হয়েছে আপনার এই পরীক্ষা টা দিতে গিয়ে।
আসলে বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হলেও যেন প্রতিনিয়ত এটি নিচের দিকে চলে যাচ্ছে৷ প্রতিদিনই ট্রেনের মধ্যে বিভিন্ন ঘটনা ঘটে যাচ্ছে৷ কিছু সময় মানুষজন ট্রেনে ভ্রমন করতে একেবারেই আতঙ্কিত হয়ে গিয়েছিল। অন্যদিকে লোকাল ট্রেনের অবস্থা তো একেবারে খারাপ৷ সেখানে মানুষ এমন ভাবে ওঠে যে মানুষ এক ইঞ্চি নড়তেও পারে না৷ একটু জায়গাও থাকে না৷ তবে এখানে লাইনের কাজ করছিল তাই অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছিল৷ তবে রেল কর্তৃপক্ষের সকলের সময়ের কথা বিবেচনা করা উচিত ছিল। কারণ সেখানে অনেক শিক্ষার্থী থাকবে এবং অনেক অফিসের কর্মকর্তারাও থাকে৷ যার ফলে তাদের অনেকটাই সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়৷ অসংখ্য ধন্যবাদ এই পোস্টটি আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য৷
ঠিক সময়ে নির্দিষ্ট জায়গাতে না পৌঁছতে পারলে এমনিতে অনেকের ক্ষতি বা লোকসান হয়ে যায়। আপনাদের ট্রেন দেরিতে যাওয়ার কারণে আপনারা অনেক বিপাকে পড়ে গেছেন। বিশেষ করে যারা পরীক্ষা দিতে গিয়েছেন তারা। এমনিতেও সাধারণ লোক যখন কোথাও যাবে তখন ট্রেন বা গাড়ির কারণে দেরি হলে মানুষের মেজাজ এবং মানসিক খারাপ হয়ে যায়। আর অতিরিক্ত লোক যদি ট্রেন বা গাড়িতে উঠে তখন শ্বাসকষ্ট এবং আবহাওয়া বিষাক্ত হয়ে যায়। ধন্যবাদ আপনাকে পোস্টটি আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য
অনেকে বলে যানবাহন নির্দিষ্ট টাইমে না আসলে ঐদিন পিছু টান থাকে। তবে দেড় ঘন্টা লেট হলেও আপনি ট্রেন পেয়ে গেছেন ওটাই বড়। আর আপনি পরীক্ষা দিয়ে আসার সময় হয়তো বা ট্রেন লেড হওয়ার কারণে যাত্রী অনেক ছিল। তবে গাড়িতে বা ট্রেনে যাত্রী বেশি হলে নিজের কাছেও বেশ খারাপ লাগে। যদিও আমাদের এদিকে ট্রেন নেই। এই কারণে এরকম কোন ভোগান্তিতে কখনো পড়ে নিই। ধন্যবাদ আপনাকে ট্রেন যাওয়ার অনুভূতি শেয়ার করার জন্য।
https://twitter.com/GhoshPuja2002/status/1769790154665795836?t=5J5_19eEpVRGGwvZ4lHv0Q&s=19
গত দুইদিন সরকারি ছুটি থাকার কারণে ট্রেন লাইনে কাজ চলছিল এটা আমি শুনেছি। তবে এতটাও যে যোগাযোগ ব্যবস্থা খারাপ হয়ে গেছিল, সেটা বুঝতে পারিনি। যেহেতু ঘর থেকে বের হয়নি তাই হয়তো এই সমস্যার সম্মুখীন হই নি আমি। তবে যারা পরীক্ষার্থী ছিল তাদের কথা চিন্তা করে হলেও অন্তত এই দুইদিন ঠিকঠাক ট্রেন যাতায়াতের ব্যবস্থা করা উচিত ছিল। তোমার মত তাহলে অনেকেরই আসলে এরকম ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে গত দুইদিন দিদি।