শৈশবের স্মৃতিতে: "ভূতুড়ে এক কান্ড"

in আমার বাংলা ব্লগ10 months ago

নমস্কার

কেমন আছেন বন্ধুরা? আশা করি সবাই ভালো ও সুস্থ আছেন ঈশ্বরের কৃপায়।আমিও মোটামুটি ভালোই আছি।যাইহোক আজ চলে আসলাম আমি @green015 যথা নিয়মে আপনাদের মাঝে নতুন একটি শৈশবের গল্প শেয়ার করতে।

শৈশবের স্মৃতিতে: "ভূতুড়ে এক কান্ড"

GridArt_20250328_154716803.jpg

আমরা সবাই ফিরে পেতে চাই আমাদের শৈশবের কিছু সুন্দর মুহূর্তগুলিকে।কিন্তু কিছু মুহূর্ত এমন স্মৃতি হয়ে যায় যেটির সম্মুখীন আমরা দ্বিতীয়বার হতে চাই না।আবার কিছু মিষ্টি স্মৃতি ফিরে পেতে চাই বারেবারে।আবার কিছু স্মৃতি সাময়িক সময়ের জন্য আনন্দ দেয়,আবার কিছু স্মৃতি ভয়ভীতু করে তোলে।তেমনি একটি শৈশবের বাস্তবধর্মী গল্প বলবো আজ আপনাদের সঙ্গে। আশা করি ভালো লাগবে আপনাদের সকলের কাছে আমার আজকের লেখা শৈশবের ছোট গল্পখানি।তো চলুন শুরু করা যাক--

অনেক দিন পর মামাবাড়ি গেলুম মায়ের সঙ্গে।মায়ের কাজ সামলে আর আমাদের পড়াশুনার দরুন বেড়াতে যাওয়া-ই হয় না তেমন।তার উপরে দুইদিনের ফরমায়েশে আমাদের ঘুরতে যাওয়া।আমি তখন বেশ ছোট,গ্রামের রাস্তায় তখন ভ্যানের ব্যবস্থা ছিল।কখনো ভ্যানে চড়ে আবার কখনো মায়ের কোলে উঠেই মামাবাড়ি চলে যেতুম আমি।তবুও সচরাচর ভ্যান পাওয়া মুশকিল ছিল রাস্তায়।আমার এখনো মনে আছে মায়ের অনেক কষ্ট হতো তবুও মা আমাকে কোলে নিয়ে রাস্তা চলতো তারপর কিছু পথ থেমে থেমে একটু বসে নিতো।আমাদের বাড়ি থেকে মামাবাড়ির দূরত্ব প্রায় 10-12 কিলোমিটার।

রাস্তার দুই পাশে সারি সারি গাছ তাই সে সময় হেটে যেতেও বেশ মজার লাগতো।সবমিলিয়ে যখন মামাবাড়ি পৌঁছে যেতুম তখন খুবই আনন্দ হতো।আশেপাশের বাচ্চারা চলে আসতো আমার সঙ্গে খেলা করতে।দিদাদের মেলা বসতো আমার মামাদের উঠানে।কারন গ্রামে যত বয়স্ক মহিলা ছিল সবাই আমার দিদিমার কাছে আসতো সুই-সুতা নিয়ে।তারপর গোল হয়ে বসে আমার দিদিমার কাছ থেকে বিভিন্ন সেলাই শিখতো।কারন আমার দিদিমা ছিল বিভিন্ন ধরনের ফোড় বা নকশা তৈরিতে ওস্তাদ।

একবার যখন আমরা বেড়াতে গেলুম বেশ ভালোই কাটলো রাতটা।পরদিন সারা গ্রামে ছড়িয়ে পড়লো গ্রামের শেষ এক বাড়ির বউকে রাতে ভূতে ধরেছে।এখন একটা গুণীন প্রয়োজন তাকে ঝাড়-ফুঁক করার জন্য।অনেকেই তাকে দেখতে যাচ্ছে ,মহিলার অবস্থা একদম নাজেহাল।ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে গিয়েই জানতে পারলাম।মহিলার স্বামী বাইরে কাজে গিয়েছে,তাই বাড়িতে শুধুই সে আর সঙ্গে 10 কিংবা 12 বছর বয়সী এক মেয়ে।গ্রাম সম্পর্কে মহিলাটি আমার মামী হয়।

গ্রামের দিকে রাত যখন 9 টা বাজে তখন সবাই শুয়ে পড়ে।রাস্তায় গাড়ি চলাচল একদম-ই বন্ধ হয়ে যায়----।শুনশ্মান রাস্তায় তখন নিস্তব্ধতা প্রবেশ করে----।ঘুটঘুটে অন্ধকারময় প্রকৃতিতে তখন ঝিঁঝিপোকার ডাকগুলি জোরালো হয়-----।বাতাশগুলি তীব্রভাবে এলোমেলো অবস্থায় শা শা শব্দে কুন্ডলী পাকিয়ে বইতে শুরু করে চারিদিকে-----।মাঝে মাঝেই আগুনের মতো জ্বলন্ত দুটি চোখ বের করে নারিকেল গাছের মাথায় বসে ডাকতে থাকে পেঁচা---।

রাত তখন বাজে 10.30 টা,সবাই নিঃসার ঘুমে আচ্ছন্ন।তখন ঐ মামীর মেয়ের খুবই পেটে ব্যথা অনুভব হয়।গ্রামে তখন কারেন্ট নেই,যাদের অবস্থা একটু ভালো তারা সৌরবিদ্যুৎ নিয়েছে।আলোর ব্যবস্থা বলতে শুধুই টিমটিমে ল্যাম্প আর হ্যারিকেনের ক্ষীণ আলো।তো সেদিন পূর্ণিমা রাত ছিল না, তবুও রাত একটু গভীর হতেই চাঁদের ক্ষীণ আলো দেখা যাচ্ছিলো প্রকৃতিতে।অস্পষ্ট ও আবছা আলোয় ঠিকভাবে কিছুই উপলব্ধ করা যাচ্ছে না।মেয়েটি তার মাকে বললো---মা আমার খুবই পেটে ব্যথা করছে।তখন তার মা বললো ঠিক আছে---তুই টয়লেটে যা তাহলে।গ্রামের টয়লেট ছাউনিহীন খোলা আকাশের নিচে কোনো রকমে পাকা রিং স্লাভ দিয়ে তৈরি ।

তখন মেয়েটি ল্যাম্প জ্বেলে টয়লেটে গেল যেটা ঘর থেকে কিছুটা দূরে।আর গ্রামে,তাই মেয়েটির মা খোলা বারান্দায় ঘুমায়।সে বারান্দাতেই থাকে, মেয়েটি আস্তে আস্তে টয়লেটে গিয়ে বসে একহাতে জলের পাত্র নিয়ে আর অন্য হাতে ল্যাম্প নিয়ে।বেশ কিছুক্ষণ পার হয়ে যায় মেয়েটি দূরে কারো কথার শব্দ শুনতে পাচ্ছে।মাঝে মাঝেই খুব কাছ থেকে দুটি মানুষের ঝগড়ার শব্দ শুনতে পাচ্ছে সে।হাওয়ারা যেন দুলে দুলে ঝংকার তুলছে তার কানে সেই ফিসফিস করা ঝগড়ার শব্দের।এবারে মেয়েটি উঠে দাঁড়িয়ে দূরের মাঠটি দেখার চেষ্টা করলো।যেহেতু তার টয়লেটের পিছনেই ফাঁকা মাঠ রয়েছে।তারপর এক দমকা হাওয়া এসে তার ল্যাম্পটি হঠাৎ নিভিয়ে দিয়ে গেল-----(চলবে)


আশা করি আমার আজকের লেখা শৈশবের গল্পটি আপনাদের সকলের কাছে ভালো লাগবে।পরের দিন আবার নতুন কোনো বিষয় নিয়ে হাজির হবো আপনাদের মাঝে, ততক্ষণ সকলেই ভালো ও সুস্থ থাকবেন।

পোষ্ট বিবরণ:

6nSeSEzKEwjJN68tMqgZXvpyk1cf2ihqXgmWESDgXSh21PkpkXyXwzmWEkSA7U2PjRr7VoGxjyzQFnZHCkVBWn57JTVUvY7omc512mhJJX...vDZX3Fcaov38Zxjxq21rAE9wN1b8HnrBKZamZjaRXZMJVUcaVKGLWFRFVNG6MXCo9ptvvGTefY61oasZ4TrQFVwMiYWBFUH8ivxFm1LbtvBRqtkowye4ZCeEyk.png

শ্রেণীজেনারেল রাইটিং
ডিভাইসpoco m2
অভিবাদন্তে@green015
লোকেশনবর্ধমান

3DLAmCsuTe3bV13dhrdWmiiTzq9WMPZDTkYuSGyZVu3GHrVMeaaa5zs2PBqZqSpD3mqpsYSX3wFfZZ5QwCBBzTwH9RFzqAQeqnQ3KuAvy8Nj1ZK1uL8xwsKK6MgDT8xwdHqPK76Y63rPyW9N4QaubxdwM3GV2pD.gif

আমার পরিচয়
আমি রিপা রায়।আমার স্টিমিট ইউজার আইডি @green015.আমি একজন ভারতীয়।আমি বর্ধমান ইউনিভার্সিটি থেকে গ্রাজুয়েশন কমপ্লিট করেছি,ইতিহাস বিষয় নিয়ে।বর্তমানে আমি ওখানেই অধ্যয়নরত আছি।এখানে বাংলা ভাষায় মন খুলে লেখালেখি করতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত।এছাড়া আমি একজন বাঙালি হিসেবে গর্ববোধ করি।

IMG_20240429_201646.jpg
আমি সবসময় ভিন্নধর্মী কিছু করার চেষ্টা করি নিজের মতো করে।কবিতা লেখা ও ফুলের বাগান করা আমার শখ।এছাড়া ব্লগিং, রান্না করতে, ছবি আঁকতে,গল্পের বই পড়তে এবং প্রকৃতির নানা ফটোগ্রাফি করতে আমি খুবই ভালোবাসি।।