গল্পের গরু ( পুরানো দিনের শীত )!!
আমার বাংলা ব্লগে,সবাইকে স্বাগতম।
আমি @emon42.
বাংলাদেশ🇧🇩 থেকে
একটা বিখ্যাত প্রবাদ আছে গল্পের গরু গাছে উঠে। আজ আমি আমার জীবনে শোনা এমন কিছু গল্পই বলব আপনাদের। গল্পগুলো আমার বয়জেষ্ঠদের থেকে শোনা। আমার আজকের গল্পের গরু এর টপিক সেই কালের শীত। ডিসেম্বরের প্রায় শেষ। বাংলাদেশে প্রচণ্ড ঠান্ডা পড়ছে। সাধারণত এই সময়ে ঠান্ডা টা একটু বেশিই পড়ে। বাংলাদেশে এখন শীতই পড়ে শুধুমাত্র ডিসেম্বর এবং জানুয়ারি । তবে এটা ঢাকার ক্ষেএে। গ্রামের দিকে শীতের আভাস পাওয়া যায় নভেম্বর থেকেই। এই যেমন আমাদের কুষ্টিয়াতে এখন ১০-১১° সেলসিয়াস একেবারে সাধারণ ব্যাপার। তবে ঢাকায় তাপমাত্রা একটু বেশি। ঢাকায় আজকে সর্বনিম্ন ছিল ১০°। তবে বতর্মানে ১৪-১৫° তে রয়েছে। শীতে অবস্থা খারাপ আমার। শুধু আমার না অন্য সবারই এই অবস্থা।<#p>
আমি যে প্লান্টে এখন আছি সেখানে মোটামুটি সবার সাথেই আমার কথা হয়। সবার সাথেই আমি স্বাভাবিকভাবে কথা বলার চেষ্টা করি। এখানে একজন ব্যক্তি আছে উনার নাম সাইফুল। বয়স এই ৪৫-৫০ হবে। আমি চাচা বলে ডাকি। উনার সাথে আমার বয়সের পার্থক্য থাকলেও মনস্তাত্ত্বিক একটা মিল রয়েছে। প্রায়ই আমি উনার সাথে কথা বলি অনেক বিষয় নিয়ে। উনি নিজের জীবনের গল্প আমাকে বলেন। কীভাবে এখানে আসলো। কীভাবে তার ভাইয়েরা তাকে ঠকিয়েছে এইসবই আর কী। তো ঐদিন উনার সাথে আমার দেখা। ঠান্ডায় একটু কাঁপতে কাঁপতে হাঁটছি। উনাকে দেখেই বললাম চাচা কী অবস্থা কেমন আছেন। যথারীতি উনি স্বাভাবিকভাবে সেটার উওর দিল। তারপর কিছু বিষয় নিয়ে কথা হলো। আমি জিজ্ঞেস করলাম চাচা ঠান্ডা কেমন ।
সাইফুল চাচা উওর দিল আরে এটা কোন ঠান্ডা হলো নাকী। আমি কিছুটা অবাক হয়ে বললাম কী এটা আপনার কাছে ঠান্ডা মনে হচ্ছে না। উনি বলল না। তারপর উনি বলা শুরু করল আরে আমাদের সময়ে যে ঠান্ডা ছিল তার কাছে এটা কিছুই না। আমি আগ্রহ নিয়ে জিজ্ঞেস করলাম ঠিক কী রকম চাচা। সাইফুল চাচা বলল আরেহ আমাদের সময়ে শীত এমন ভাবে পড়তো যে নদী পুকুরের পানি বরফ হয়ে যেত। আমি শুনেই বললাম কী সব বলছেন। উনি বলল আরেহ হ্যা। আমাদের সময়ে তোমরা তো দেখ নাই। শীতের সময়ে পানি বরফ হয়ে যেত। সেই পানিতে আমরা হেঁটে বেরাতাম। অর্থাৎ পানির উপরে বরফের উপর দিয়ে হেঁটে বেড়াতো। কথাটা আমি যখন বিশ্বাস করতে চাইলাম না। তখন উনি বলল শুধু তাই নাকী। আমাদের সময়ে শীত এমনভাবে পড়তো যে পুকুরের মধ্যে মাছ পযর্ন্ত বরফে জমে যেত।
আমি হাসতে হাসতে বললাম চাচা এইটা একটু বেশিই হয়ে গেল না। উনি বলে আরেহ কিসের বেশি। ঐ শীতের মধ্যে আমরা গোসল করার জন্য পানি গরম করতাম। ঐ গরম পানি আমাদের শরীর হয়ে নিচে পড়ার সাথে সাথে বরফ হয়ে জমে যেত। কত মানুষ দেখেছি শীতে মারা গিয়ে বরফের মতো জমে গেছে। উনার কথাগুলো শুনে আমি হাসলাম। বাংলাদেশে কী এমন শীত কখনও পড়েছে। তারপর আমি জিজ্ঞেস করলাম তা চাচা সেই রকম শীত তাহলে এখন কেন পড়ে না। উনি জবাবে বলল আরেহ তোমরা তো এই শীতেই বাঁচো না ঐ শীত পড়লে খুজেঁ পাওয়া যাবে তোমাদের। আমি কিছুটা হেসে চলে আসলাম। বুঝলাম ঐসময়ের মানুষ গল্প করতে পারলে আর কিছু চাই না। এমন গল্প দেয় যে আপনি বিশ্বাস করতে পারবেন না। একেবারে গল্পের গরু গাছে তুলেই ছাড়বে হা হা।
সবাইকে ধন্যবাদ💖💖💖।
অনন্ত মহাকালে মোর যাএা অসীম মহাকাশের অন্তে। যারা আমাদের পাশে আছে তারা একটা সময় চলে যাবেই, এটা তাদের দোষ না। আমাদের জীবনে তাদের পার্ট ওইটুকুই। আমাদের প্রকৃত চিরশখা আমরা নিজেই, তাই নিজেই যদি নিজের বন্ধু হতে পারেন, তাহলে দেখবেন জীবন অনেক মধুর।তখন আর একা হয়ে যাওয়ার ভয় থাকবে না।
আমি ইমন হোসেন। আমি একজন বাংলাদেশী। আমি একজন ছাএ। তবে লেখাপড়া টা সিরিয়াসলি করি না হা হা। লেখালেখি টা বেশ পছন্দ করি। এবং আমি ফুটবল টা অনেক পছন্দ করি। আমার প্রিয় লেখক হলেন জীবনানন্দ দাস। আমি একটা জিনিস সবসময় বিশ্বাস করি মানিয়ে নিতে এবং মেনে নিতে পারলেই জীবন সুন্দর।।



.png)



Daily task
https://x.com/i/status/2006273061193130056
https://x.com/i/status/2006273446347747505