হ্যালো বন্ধুরা কেমন আছেন সবাই আশা করি সবাই ভালো এবং সুস্থ আছেন। আজ আমি একটি রেসিপি তুলে ধরার জন্য আপনাদের মাঝে চলে এসেছি। আসলে আমাদের বাহিরের জীবনে যতো দ্রুত আমরা রান্না শেষ করতে পারি ততই আমাদের জন্য ভালো। আমরা বিভিন্ন পদের বা বিভিন্ন ভাবে রান্না করি না। যেটা আমাদের জন্য সহজ মনে হয় সেই ভাবে আমরা রান্নার পদ্ধতি বেছে নেই।


তাই আপনাদের মাঝে কোনো রেসিপি শেয়ার করি না। তবে আজকের রান্নাটা একটু স্পেশাল এবং ভিন্ন। আমার কাছে তো এটা অনেক ভিন্ন একটি রেসিপি। জানি না আপনারা এই রান্নার রেসিপি দেখেছেন কি না বা এই ভাবে আপনারা খেয়েছেন কি না। তবে সত্যি কথা বলতে আমি কিন্তু কখনো বাংলাদেশে এই ভাবে খাই নাই।
আসলে আজকের রেসিপিটা দিল বরবটি ও গাজর ভাজি। জানি না আপনারা এই দিল বরবটি ও গাজর ভাজি খেয়েছেন কি না। এটা আমার লাইফে প্রথম খাওয়া এবং প্রথম রান্না। আজকে খেয়ে তো মনে হলো এই ভাবে বারবার রান্না করে খেতে পারলে ভালো লাগবে। এটা খুব বেশি যে সময় লেগেছে তাও না আবার অল্প সময়ে হয়েছে তাও না।

যাই হোক আমি এই রেসিপিটির জন্য যে সকল জিনিস ব্যবহার করেছিলাম সে গুলোর তালিকা আপনাদের মাঝে তুলে ধরার চেষ্টা করছি।
| ১ কেজি ৫০০ গ্রাম বরবটি। ৩ পিচ গাজর। |  |
| ৮০০ গ্রাম দিল। |  |
| ৩ পিচ পিঁয়াজ। |  |
| ২ পিচ রসুন। |  |
| পরিমাণ মতো কাঁচা মরিচ। |  |
| তেল পরিমাণ মতো। |  |
| লবণ স্বাদমতো। |  |
| এবং পরিমাণ মতো হলুদের গুঁড়া। |  |
| এবং অল্প কিছু জিরার গুঁড়া। |  |
| এবং সাথে একটু দিয়ে ছিলাম ঝালের গুঁড়া। | তার ছবি ধারণ করা হয় নাই। |

আসলে এক কথা বলতে গেলে আমাদের রান্নার জন্য যে সকল প্রয়োজনীয় জিনিস ব্যবহার করতে হয় ঠিক আমিও তাই ব্যবহার করেছিলাম। এবং আমাদের বাংলাদেশের মানুষেরা রান্নার দিক থেকে যাই হোক অনেকটা ভালো এবং বিশেষ করে মহিলাদের জন্য। আমি কিন্তু এই বাহিরে এসে রান্নার কাজটি শিখেছি না হলে আমি বাংলাদেশে থাকতে এটা জানতাম না।
যাই হোক আমরা সব কিছু কেটে এবং সুন্দর করে পরিষ্কার করে রেখে ছিলাম। রান্নার জন্য অবশ্যই আমাদের সকল প্রয়োজনীয় জিনিস গুলো খুব সুন্দর করে পরিষ্কার করে রাখতে হবে। ঠিক আমরাও আমাদের রান্নার জিনিস গুলো সুন্দর করে পরিষ্কার করে রেখে রান্না করতে যায়।
| প্রথম ধাপ। |  |
দিল গুলো ছোট ছোট করে টুকরো করা ছিলো এবং ভালো করে পরিষ্কার করে। আমি ছোট্ট একটি পাতিলে অল্প কিছু পানি দিয়ে সাথে একটু লবণ দিয়ে ভালো করে সিদ্ধ করে নিয়ে ছিলাম। এই সিদ্ধ করার কারণটি ছিলো যাতে তার মধ্য থেকে গ্যাস না বের হয়। এবং সেটা রান্নার সময় যেনো না গলে যায়। দিল গুলো অনেক শক্ত থাকবে এবং ভালো। ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মতো আমি গরম পানির মধ্য জাল দিয়ে ছিলাম। সেখান থেকে তুলে একটি ডলার উপরে রেখে ঠান্ডা পানি দেওয়ার সাথে সাথে সেটা শক্ত হয়ে যায়।

| দ্বিতীয় ধাপ। |  |
আমরা যে ভাবে মাংস রান্না করি ঠিক সেই ভাবে আমাদের প্রয়োজনীয় জিনিস গুলো রান্নার পাতিলে দিয়েছিলাম। সেখানে আমি আমার সকল প্রয়োজনীয় জিনিস গুলো দিয়ে কিছু সময় চামচ দিয়ে নাড়াতে লেগেছিলাম। আমি কোন ঝামেলা রাখি নাই সেখানে সব কিছু দিয়ে কিছু সময় জাল দিতে লাগলাম। এবং জাল দিতে দিতে কিছু সময় পরে দেখতে পেলাম আমার পেঁয়াজ ঝাল সব কিছু ভালো ভাবে তৈরি হয়ে গিয়েছে।
তাই আমি কিছু সময় পরে দিল গুলো তার মাঝে ছেড়ে দিয়ে ছিলাম। এবং প্রায় ২০-২৫ মিনিটের মতো আমি দিল গুলো জ্বালাতে লাগলাম। ঠিক আমরা যে ভাবে মাংস রান্না করার সময় সময় নিয়ে মাংস কষাতে থাকি ঠিক দিল গুলো আমি সেই ভাবে কষাতে লেগে ছিলাম। এবং দিলের মধ্যে যদি মাসলা না যায় তাহলে দিলটা অন্যরকম একটি গ্যাস বের হবে। তাই দিল অনেক সুন্দর করে কষাতে হবে এবং সময় নিয়ে জাল দিতে হবে।

| তৃতীয় ধাপ। |  |
যখন আমি বুঝতে পারলাম দিল গুলো সুন্দর করে কষানো হয়েছে। তার কিছু সময় পরে আমি গাজর এবং বরবটি যে গুলো আগে থেকে পরিষ্কার করে রাখা ছিলো। সেই গুলো আমি তার মধ্য দিয়ে ফেললাম। এবং বেশ কিছু সময় চামচ দিয়ে সেটাকে নাড়াতে লেগেছিলাম। এবং বরবটি ভাজি করতে গেলে অবশ্যই এটা সিদ্ধ করতে অনেক দেরিতে হয় আপনারা হয়তো বা এটা জানেন। যেহেতু বরবটি টা আমার সিদ্ধ মতো করতে হবে তাই একটি ঢাকনি দিয়ে ঢেকে রাখলাম কিছু সময়।
এই ভাবে প্রায় চার পাঁচ মিনিট ঢেকে রাখার পরে আমি সেটাকে সরিয়ে চামচ দিয়ে আবারো নাড়াতে লাগলাম। যেহেতু এটা আমার ভাজি করতে হবে তাই ঢেকে রাখার প্রশ্ন নাই বেশি সময়। এবং এই ভাবে প্রায় 20 থেকে 30 মিনিট আমি নাড়াতে লাগিয়ে চামচ দিয়ে যতো সময় না এটা লালচে কালার না আসে ততো সময়।

| শেষ ধাপ। |  |
এবং একটি সময় চলে আসে রান্নার শেষের পথে এটা যেহেতু ভাজি। তাই আমি অল্প একটু গালে দিয়ে বুঝতে পারলাম এটা খাওয়ার জন্য উপযুক্ত হয়ে গিয়েছে।এবং অল্প একটু লবণ কম হয়ে যায়। সাথে সাথে অল্প একটু লবণ দিয়ে এটাকে আবারো দুই এক মিনিট জ্বালিয়ে আমি নামিয়ে ফেলে ছিলাম।
একটু আগে খাওয়া-দাওয়া শেষ করে আসলাম রান্নাটা হয়েছে এখান থেকে অনেক সময় আগে। তবে এটা খেতে সত্যি আমার কাছে আজকে অনেক বেশি ভালো লেগেছে। এটা আমার প্রথম বরবটি দিল গাজর রান্না ছিলো ।এটা খেতে যে এতো স্বাদ এবং ভালো লাগে তা আমি জানতাম না এটা সত্যি একটি সুস্বাদু খাদ্য।
আপনারা চাইলে এই ভাবে নিজেদের বাসায় রান্না করে খেতে পারেন। এটা সত্যি মুখে রুচি নিয়ে আসে এবং খেতে অনেক ভালো। যাই হোক বন্ধুরা আমি আশা করি আমার আজকের রেসিপিটা আপনাদের কাছে ভালো লেগেছে সবাই ভালো এবং সুস্থ থাকবেন।


ধন্যবাদ সবাইকে আমার পোস্টটি পড়ার জন্য।
@baizid123
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
সবজি খাওয়া খুব ভালো। সবজি প্রতি দিন খেলে শরীরে অনেক উপকার পাওয়া যায়। সবজির মধ্যে বিভিন্ন রকম গুণ রয়েছে। তবে দিল জিনিসটা কি সেটা আমার জানা নেই। প্রথমবার নাম শুনলাম। প্রত্যেকটা উপকরণ ছবিসহ ধাপে ধাপে শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
একদমই ঠিক কথা বলেছেন আপু সবজি খাওয়া আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারে আশে। এবং আমাদের উচিত প্রতি দিন যে কোন একটি সবজি খাওয়া তাতে আমাদের শরীর অনেক ভালো থাকবে। আসলে দিল নামটি আপনি প্রথম শুনেছেন জানি না এটার আর কোনো নাম আছে কি না। তবে আমি ছোট থেকে এই জিনিসটা দিল নাম শুনে এসেছি তাই এখানে উল্লেখ করেছি। ভালো এবং সুস্থ থাকবেন অনেক সুন্দর মন্তব্যে পেয়ে সত্যিই আমি আনন্দিত।
Cured by @damithudaya
@damithudaya অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে আমার পোস্টটি দ্বারা সহযোগিতা করার জন্য আমি সত্যি আনন্দিত আপনার সহযোগিতা পেয়ে।
এটা তো দেখে সাধারণত গরুর কলিজার মতো মনে হচ্ছে যেটা দিয়ে আপনারা বরবটি এবং গাজর দিয়ে গুনাহ করেছেন। প্রতিটা ধাপ আপনারা অনেক বেশি সুন্দর ভাবে আমাদের সাথে শেয়ার করেছেন সেই সাথে অনেক সুন্দর ভাবে রান্নার পড়েছেন যেটা দেখতে অনেক বেশি লোভনীয় দেখাচ্ছে যাইহোক অসংখ্য ধন্যবাদ অন্যরকম রান্নার পদ্ধতি আমাদের সাথে তুলে ধরার জন্য ভালো থাকবেন।
গরুর কলিজা হতে পারে তবে আমাদের দিকে এটার নাম দিল শুনে এসেছি সেই ছোট থেকে। এবং একটি জায়গায় ভিন্ন নামের জিনিস থাকে এটা স্বাভাবিক হতে পারে আপনাদের দিকে কলিজা বলা হয় তবে আমাদের দিকে কলিজা অন্য কিছু বলা হয়ে থাকে। যাইহোক আপনার সুন্দর মন্তব্য দেখে আমি সত্যি আনন্দিত ভালো লাগলো আপনার মন্তব্য পেয়ে।
দিল কিন্তু হিন্দি শব্দ আপনাদের ওখানে দিল বলা হয়ে থাকে যতটুকু জানতে পেরে আসলে ভালো লাগলো একেক জায়গায় একেক ধরনের নাম বলা হয়ে থাকবে এটাই স্বাভাবিক কারণ ওই যে কথা বলে না কারো দেশের গালি আবার কারো দেশের বুলি এটাই হচ্ছে আর কি বিষয় যাইহোক আপনি বিষয়টা আমার সাথে ক্লিয়ার করেছেন এটা দেখে ভালো লাগলো ধন্যবাদ।
আমি কখনো এই খাবার খেয়েছি কিনা মনে নাই কিন্তু দেখতে বেশি ভালো লাগছে মনে হচ্ছে খেতে অনেক সুস্বাদু হবে।। একদম ভিন্ন রকম একটি রেসিপি দেখতে পেয়ে অনেক ভালো লাগলো।।
আসলে রান্নাটা আমি নিজেও কখনো বাংলাদেশে দেখে নাই। তবে এখানে এসে এই রান্নাটা শিখেছি এবং এটা খেতে অনেক সুস্বাদু। চাইলে আপনিও একদিন চেষ্টা করে দেখতে পারেন ইনশাল্লাহ অনেক ভালো হবে।