Better Life with Steem||The Diary Game|| 01 June 2026||
আমার আজকের দিনের ডায়েরিঃ
প্রতিদিনের মতো আজকেও সকালে ঘুম থেকে জেগে উঠি। ঘুম থেকে জেগে উঠেই আমি আমার ওয়াইফকে এক গ্লাস ঠান্ডা পানি দিতে বলি। তখন সে আমাকে ঠান্ডা পানি দিলে আমি পানি পান করি। পানি পান করে ফ্রেশ হয়ে রুমে আসি। রুমে আসার পর দেখি আমার ওয়াইফের কাকা এসে আকিকার দাওয়াত দিয়ে গেলেন। দাওয়াত পেয়ে আমি দ্রুত প্রস্তুত হয়ে সেখানে চলে যাই।
দাওয়াতে গিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টার মতো সময় অতিবাহিত করি। এরপর যেখানে রান্নার আয়োজন চলছিল সেখানে গিয়ে দেখি দুই ডেকচি পিটুলি এবং একটি বড় সসপ্যানে তরকারি রান্না করা হচ্ছে। কিছুক্ষণ পর রান্নার কাজ সম্পন্ন হয়। এরপর মিলাদ শুরু করা হয়।
মিলাদ প্রায় ত্রিশ মিনিটের মতো চলে। মিলাদ শেষে মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয় এবং সবাই একসাথে মোনাজাতে অংশগ্রহণ করে। মোনাজাত প্রায় আট মিনিট হয়।
মোনাজাত শেষ হওয়ার পর সবাইকে বসতে বলা হয়। আমিও আমার সমুন্দির সাথে বারান্দায় গিয়ে বসি। প্রায় দশ মিনিট পরে ভাত পরিবেশন করা শুরু হয়। ভাত দেওয়া শেষ হলে পিটুলি পরিবেশন করা হয়।
যখন আমাকে পিটুলি দেওয়া হয় তখন আমি কয়েকটি ছবি তুলে রাখি, যা আপনাদের সাথে শেয়ার করেছি। পাশাপাশি যারা লাইনে বসে খাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন তাদেরও কিছু ছবি তুলে রাখি।
সবাইকে খাবার পরিবেশন শেষ হওয়ার পর হুজুর সাহেব খাওয়ার অনুমতি দিলে আমরা খাওয়া শুরু করি। খেতে প্রায় বিশ মিনিট সময় লাগে। কারণ ভাত এবং পিটুলি দুটোই বেশ গরম ছিল। তবে খাবারের স্বাদ ছিল অসাধারণ। আলহামদুলিল্লাহ, অনেক তৃপ্তি নিয়ে খাওয়া সম্পন্ন করি।
খাওয়া-দাওয়া শেষে রুমে গিয়ে ফ্যান চালিয়ে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিই। বিশ্রাম নেওয়ার সময় নানি শাশুড়ির পায়ের নিচে একটি পোষা বিড়াল দেখতে পাই। বিড়ালটি আমার খুব ভালো লাগে। আমি বিড়াল খুব পছন্দ করি, তাই তার একটি ছবি তুলে রাখি। পরে বিড়ালটির বিষয়ে জানতে চাইলে তারা জানায় এটি তাদের অনেক আদরের পোষা বিড়াল। তারা তাকে খুব ভালোবাসে এবং নিয়মিত বিভিন্ন খাবার খাওয়ায়।
তখন আমিও তাদের বললাম যে আমাদের বাড়িতেও একটি পোষা বিড়াল আছে। আমিও আমার বিড়ালকে অনেক ভালোবাসি এবং মাঝে মাঝে মাছ ও মাংস খেতে দিই। এভাবেই প্রায় দশ মিনিট বিড়ালকে নিয়ে গল্প করি। প্রাণীদের প্রতি মানুষের ভালোবাসা সত্যিই অনেক সুন্দর একটি বিষয়।
এরপর আমার ওয়াইফ আমাকে বললো দোকানে যাবে। তখন আমরা দুজন একসাথে দোকানে যাই। দোকানে গিয়ে সে আমাকে একটি ড্রিংক কিনে দিতে বলে। আমি তার জন্য একটি ড্রিংক কিনে দিই এবং নিজের জন্যও একটি নিই। ড্রিংক খাওয়া শেষ হলে দোকানদারকে দুইটি ড্রিংকের মূল্য হিসেবে ৬০ টাকা পরিশোধ করি।
এরপর আমার এক শ্যালক লিমনকে ১০০ টাকা দিই। টাকা পেয়ে সে অনেক খুশি হয় এবং নিজেও একটি স্পিড কিনে খায়। তার মুখের হাসি দেখে আমারও ভালো লাগে। ছোট ছোট বিষয়গুলো কখনো কখনো অনেক আনন্দ এনে দেয়।
এরপর আমি এবং আমার ওয়াইফ দুজন মিলে নানা শ্বশুরের বাড়িতে যাই। সেখানে গিয়ে দেখি নানা শ্বশুরের শারীরিক অবস্থা খুব একটা ভালো না। তার এজমাজনিত শ্বাসকষ্ট অনেক বেড়ে গেছে। তিনি একটি মেশিন ব্যবহার করে শ্বাস নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। বিষয়টি দেখে আমার খুব খারাপ লাগে।
আমি তার সাথে কথা বলে জানতে পারি, এজমার ওষুধ, ইনহেলার এবং অন্যান্য চিকিৎসা বাবদ প্রতিদিন প্রায় ৪০০ টাকারও বেশি খরচ হয়। তিনি বলছিলেন দিনে কয়েকবার ওষুধ নিতে হয় এবং এতে অনেক টাকা ব্যয় হয়ে যায়। তার কথা শুনে উপলব্ধি করলাম, সুস্থতা সত্যিই আল্লাহর সবচেয়ে বড় নিয়ামতগুলোর একটি।
আমরা অনেক সময় সামান্য কষ্ট পেলেই হতাশ হয়ে যাই। কিন্তু একজন অসুস্থ মানুষের কষ্ট কাছ থেকে দেখলে বোঝা যায় সুস্থ থাকার মূল্য কত বেশি। এমন অনেক মানুষ আছেন যারা শুধু সুস্থ হওয়ার জন্য সবকিছু ত্যাগ করতে প্রস্তুত। তাই মহান আল্লাহর কাছে কোটি কোটি শুকরিয়া, তিনি আমাদের সুস্থ রেখেছেন এবং ভালো রেখেছেন।
আমি আল্লাহর কাছে দোয়া করি, তিনি যেন আমাদের সকলকে সকল রোগ-বালাই ও বিপদ-আপদ থেকে হেফাজত করেন। আল্লাহ যেন আমাদের সুস্থ রাখেন এবং তাঁর ইবাদত করার তাওফিক দান করেন। আমিন। আপনারাও আমার নানা শ্বশুরের জন্য দোয়া করবেন, আল্লাহ যেন তাকে দ্রুত সুস্থতা দান করেন।
যাইহোক, নানা শ্বশুরের বাড়িতে এভাবেই রাত আটটা পর্যন্ত সময় কাটাই। এরপর সবাই মিলে রাতের খাবার খাই। খাবার শেষে পরিবারের সদস্যদের সাথে গল্প-আড্ডা দিতে থাকি। রাত প্রায় দশটার পরও সেখানে অবস্থান করি। পরে সবার সাথে কথা বলে কিছু সময় মোবাইল ব্যবহার করি।
একসময় রাত প্রায় বারোটার দিকে কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছি নিজেও বুঝতে পারিনি। এভাবেই শেষ হয় আমার আজকের দিনটি।
যাইহোক,এ ছিল আমার আজকের দিনের সকল কার্যক্রম। আশা করি আমার ডায়েরিটি আপনাদের ভালো লাগবে। যদি ভালো লাগে তাহলে অবশ্যই আপনার মূল্যবান মন্তব্যের মাধ্যমে আপনার অনুভূতি জানাবেন। সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। আল্লাহ হাফেজ।






