Better Life with Steem||The Diary Game|| 02 June 2026||
প্রতিদিনের মতো সেদিনও খুব সকাল সকাল ঘুম থেকে জেগে উঠি। তবে সেদিন একটু বেশি ভোরে উঠেছিলাম, কারণ শ্বশুরবাড়ি থেকে আমাদের বাড়িতে ফিরে আসার পরিকল্পনা ছিল। ঘুম থেকে
উঠে ফ্রেশ হয়ে প্রস্তুত হলাম এবং সকালের নাস্তা সম্পন্ন করলাম। নাস্তা শেষ করে কিছুক্ষণ পর রওনা হওয়ার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে একটি অটো ভাড়া করে খেয়াঘাটের উদ্দেশ্যে যাত্রা করি।
খেয়াঘাটে পৌঁছে প্রথমেই সেখানকার একটি ছবি তুলে রাখি। নদীর পরিবেশটি বেশ সুন্দর লাগছিল। এ সময় আমার স্ত্রী নদীর বিভিন্ন দৃশ্য উপভোগ করছিল,
তাই তারও কয়েকটি ছবি তুললাম। খেয়াঘাটে গিয়ে আরেকটি আনন্দের বিষয় ঘটল। সেখানে আমার এক ছাত্রের চায়ের দোকান রয়েছে। আমাকে দেখতে পেয়ে সে তার দোকানে যেতে বলল।
তার দোকানে গেলে সে আন্তরিকতার সাথে এক কাপ চা এবং একটি ড্রপস বিস্কুট খেতে দিল। খাওয়া শুরু করার আগে স্মৃতির জন্য একটি ছবি তুলে রাখলাম।
এরপর চা ও বিস্কুট খেতে খেতে ছাত্রের সাথে কিছুক্ষণ গল্প করলাম। পরে বিল দিতে চাইলে সে কোনোভাবেই বিল নিতে রাজি হলো না। অনেক চেষ্টা করেও তাকে টাকা দিতে পারিনি।
কিছুক্ষণ পর নৌকা ঘাটে এসে পৌঁছালে আমি নৌকায় উঠে বসি। নৌকায় উঠে দেখি অনেক মানুষ দাঁড়িয়ে এবং বসে আছে। সেই দৃশ্যগুলো আমার
ভালো লাগায় কয়েকটি ছবি তুলে রাখলাম। ছবি তোলার পর নির্দিষ্ট একটি জায়গায় বসে কিছু সময় মোবাইলে অনলাইনে কাটাতে থাকি।
এ সময় নৌকার মাঝি ভাড়া সংগ্রহ করতে এলে আমি দুই জনের জন্য মোট ৪০ টাকা ভাড়া প্রদান করি, কারণ জনপ্রতি ভাড়া ছিল ২০ টাকা। ভাড়া দেওয়ার পর আবার নিজের জায়গায় বসে পড়ি। কিছুক্ষণ পরে নৌকা যাত্রা শুরু করে।
নৌকা চলার সময় চারপাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আমাকে মুগ্ধ করেছিল। নদীর দুপাশের খোলামেলা পরিবেশ, বাতাস এবং বিভিন্ন দৃশ্য দেখতে দেখতে
বেশ ভালো লাগছিল। মাঝ নদীতেও কয়েকটি ছবি তুলেছিলাম, যা আপনাদের সাথে শেয়ার করেছি। প্রায় আধা ঘণ্টা নৌকায় ভ্রমণের পর আমরা গন্তব্যে পৌঁছে যাই।
গন্তব্যস্থলে পৌঁছে নৌকা থেকে নেমে আশেপাশের কয়েকটি দৃশ্যের ছবি তুলে রাখি। এরপর সেখান থেকে আবার একটি অটো ভাড়া করে গুলমোর বাজারে যাই। বাজারে গিয়ে ১৫০ টাকা দিয়ে মোট ৫০টি লিচু কিনলাম। লিচুগুলো কিনে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম।
বাড়িতে পৌঁছে শ্বশুরবাড়ি থেকে আনা বিভিন্ন জিনিসপত্র এবং লিচুগুলো মায়ের কাছে দিয়ে দিলাম। এরপর নিজের রুমে গিয়ে একটি গামছা নিয়ে সরাসরি টিউবওয়েলের কাছে চলে গেলাম। গরমের কারণে অনেক ঘেমে গিয়েছিলাম, তাই সেখানে গিয়ে হাত-মুখ ধুয়ে ফ্রেশ হলাম।
ফ্রেশ হওয়ার কিছুক্ষণ পর দুপুরের খাবার খেলাম। খাবার শেষ করে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি তখন প্রায় তিনটা বাজে। তাই বাইরে কোথাও না গিয়ে বিকেল পর্যন্ত বাড়িতেই সময় কাটালাম।
বাড়িতে বসে থাকার সময় মা আমার জন্য কিছু পাকা আম কেটে নিয়ে এলেন। আম খাওয়ার আগে একটি ছবি তুলে রাখলাম। এরপর ধীরে ধীরে আম খেতে খেতে কিছু সময় নিজের রুমে বিশ্রাম নিলাম।
বিকেলের দিকে আমি এবং আমার বোনের জামাই রোকনের দোকানে গেলাম। সেখানে কিছু সময় বসে আড্ডা দিলাম। পরে দোকান থেকে ৬০ টাকা দিয়ে এক লিটার প্রাণ আপ কিনে পান করলাম। প্রাণ আপ খেয়ে আরও কিছুক্ষণ গল্প করে আমরা দুজন কলেজ মাঠের দিকে চলে গেলাম।
কলেজ মাঠে খোলা জায়গায় বসে দীর্ঘ সময় গল্প-আড্ডা চলতে থাকে। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলতে বলতে কখন যে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা বেজে গেছে, তা টেরই পাইনি। পরে রাত আটটার আগেই আমরা বাড়িতে ফিরে আসি।
বাড়িতে ফিরে স্বাভাবিক কাজকর্ম শেষ করে রাত সাড়ে নয়টার দিকে পরিবারের সবাই মিলে রাতের খাবার খাই। রাতের খাবার শেষে আমি, আমার ভাই, বোন এবং স্ত্রী একসাথে মোবাইলে কিছুক্ষণ লুডু খেলি। সবাই মিলে সময়টা বেশ আনন্দের মধ্যেই কেটেছিল।
এরপর রাত যখন প্রায় ১১টা বাজে, তখন ঘুমানোর প্রস্তুতি নিয়ে ঘুমিয়ে পড়ি। এভাবেই দিনটি সুন্দরভাবে কেটে যায়।
যাইহোক,আমার ঐদিনের সকল কার্যক্রম আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম। আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে।পোস্টটি কেমন লাগল অবশ্যই মন্তব্যের মাধ্যমে জানাবেন।সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন।আল্লাহ হাফেজ।









Thank you so much for your support dear.❤️❤️