Better Life with Steem||The Diary Game|| 14 May 2026||
প্রতিদিনের মতো সকাল সকাল ঘুম থেকে জেগে উঠি। ঘুম থেকে উঠে হাতমুখ ধুয়ে ফ্রেশ হলাম। ফ্রেশ হয়ে রুমে এসে সকালের খাবার সম্পন্ন করি। সকালের খাবার শেষ করে কিছু সময় বসে ছিলাম।
এক পর্যায়ে আমার ভাতিজা আমাদের বাড়িতে আসলো। এসে বললো আমাকে বগুড়া মহাস্থানগড় নিয়ে যাবে। এজন্যই সে আমাদের বাড়িতে এসেছে। আগে সে জিজ্ঞেস করলো, “মহাস্থানগড় যেতে হবে, এজন্য দুইটা ছাগলও কিনেছি।” আমি বললাম, “আমার তো স্কুল আছে, যেতে হলে স্কুল থেকে ছুটি নিতে হবে।”
যাইহোক, আমি স্কুলে নুরুল ইসলাম স্যারকে ফোন দিয়ে বললাম, “বগুড়া মহাস্থানগড় যাব সবার সাথে, তাই আজকে স্কুলে যেতে পারবো না। আমার ক্লাসগুলো আপনি নিয়েন।” আলহামদুলিল্লাহ, স্যার রাজি হয়ে গেলেন এবং আমাকে একবারও না করলেন না।
তারপর আমি ভাতিজাকে ফোন দিয়ে বললাম, “ঠিক আছে, স্কুল থেকে ছুটি নিয়েছি। এখন বলো কখন বের হবে?” তখন সে বললো সকাল ৯টার সময় বের হবে এবং আমাকে নৌকা ঘাটে যেতে বললো।
ভাতিজার কথামতো আমি সকাল ৯টার সময় নৌকা ঘাটে গিয়েছিলাম। নৌকায় বসে একটি ছবিও তুলেছিলাম, যা আপনাদের মাঝে শেয়ার করলাম। এরপর আমরা মহাস্থানগড়ের উদ্দেশ্যে নৌকায় রওনা দিলাম। নৌকায় যেতে প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় লেগেছিল। নৌকা ভ্রমণটা সত্যিই অনেক উপভোগ করেছি।
এক ঘণ্টা পর গন্তব্যস্থলে পৌঁছে আবার বাস ভাড়া করে মহাস্থানগড় যেতে হলো। যেহেতু আমরা অনেক মানুষ ছিলাম, তাই পুরো একটা বাস ভাড়া করা হয়। জনপ্রতি ১৩০ টাকা করে ভাড়া পড়েছিল। বাসে করে যেতে প্রায় দুই ঘণ্টা সময় লাগে। অবশেষে দুই ঘণ্টা পর মহাস্থানগড় পৌঁছালাম।
মহাস্থানগড় পৌঁছে প্রথমে মালামালগুলো নির্দিষ্ট জায়গায় রাখলাম। এরপর রুম ভাড়া নেওয়ার জন্য রুম দেখতে বের হলাম। রুম দেখার আগে একটি হোটেলের সামনে বসে কিছু সময় বিশ্রাম নিলাম এবং সেখানে এক কাপ চা ও একটি কেক খেলাম।
কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেওয়ার পর আবার রুম খোঁজা শুরু করলাম। অনেকগুলো রুম দেখার পর একটি বড় রুম পছন্দ হলো। রুমটির জন্য প্রথমে ৩৫০০ টাকা চাওয়া হয়েছিল, পরে দরদাম করে ৩০০০ টাকায় ঠিক করি।
রুমটি অনেক বড় ছিল। সেখানে দুইটি টয়লেট, গোসলখানা এবং রান্নাবান্নার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা ছিল। তাই সবার সুবিধার কথা চিন্তা করে সেই রুমটিই নেওয়া হয়।
রুম ঠিক করতে করতে ঘড়িতে প্রায় তিনটা বেজে যায়। তখন অনেক ক্ষুধা লেগেছিল। তাই পাশের একটি হোটেলে গিয়ে দুপুরের খাবার খেলাম। আমি দুই প্লেট ভাত ও ডিম দিয়ে ভাত খেয়েছিলাম। সব মিলিয়ে বিল হয়েছিল ১৪০ টাকা।
দুপুরের খাবার খেয়ে আমি, আমার ভাতিজা এবং সাথে থাকা আরেকজন লোক মিলে আবার সেই ভাড়া করা রুমে চলে গেলাম। সেখানে গিয়ে দেখি দুইটা ছাগল জবাই করে মাংস বড় একটি ডিসের মধ্যে রাখা হয়েছে। আমি সেখানে গিয়ে একটি ছবিও তুলেছিলাম, যা আপনাদের মাঝে শেয়ার করেছি।
ছবিতে দেখতে পাচ্ছেন, দুইটা ছাগল মিলিয়ে আনুমানিক ২০ কেজিরও বেশি মাংস হবে। আমরা প্রায় ৪০ জন মানুষ ছিলাম। আলহামদুলিল্লাহ, সবার জন্য ভালোভাবেই হবে।
এরপর আমি এবং এক ছোট ভাই বিকেল ৪টার দিকে মাজারের পাশের মসজিদে গিয়ে চার রাকাত আসরের নামাজ আদায় করি। নামাজ শেষে কিছু সময় মসজিদে বিশ্রাম নিই। কারণ শরীর অনেক ক্লান্ত ছিল। কিন্তু মসজিদে ঢোকার পর মনটা অনেক শান্ত হয়ে যায়। বাহিরে যত ক্লান্ত লাগছিল, মসজিদের ভেতরে ততটাই প্রশান্তি অনুভব করছিলাম। তাই প্রায় এক ঘণ্টার মতো সেখানে বিশ্রাম নিই।
সাড়ে পাঁচটার দিকে হযরত শাহ সুলতান বখলী (রহঃ) এর মাজারের পাশে যাই। সেখানে গিয়ে দেখি হাজার হাজার মানুষের সমাগম। সবাই কবর জিয়ারত করছে। আমি সেখানে কিছু ছবিও তুলেছিলাম এবং হযরত শাহ সুলতান (রহঃ) এর নাম লেখা নেমপ্লেটেরও ছবি তুলে রেখেছিলাম।
প্রায় এক ঘণ্টা ধরে পুরো মহাস্থানগড় ঘুরে দেখি। বিভিন্ন জায়গা পরিদর্শন করি এবং অনেক সৌন্দর্য উপভোগ করি। সত্যি বলতে আমি ছোটবেলায়, প্রায় ৮-১০ বছর আগে একবার মহাস্থানগড়ে এসেছিলাম। কিন্তু এবার এসে দেখলাম জায়গাটি অনেক উন্নত হয়েছে এবং আগের চেয়ে অনেক বেশি সুন্দর লাগছে।
এছাড়াও বাস্তবে হযরত শাহ সুলতান (রহঃ) এর মাজার জিয়ারত করতে পেরে অনেক ভালো লেগেছে। এজন্য আমার ভাতিজাকে অসংখ্য ধন্যবাদ, কারণ তার অনুরোধেই আজকে এখানে আসা হয়েছে।
মহাস্থানগড়ে ঘুরতে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের মানুষও দেখতে পেলাম। বিশেষ করে অনেক প্রতিবন্ধী মানুষ চোখে পড়েছে।
কারো হাত নেই, কারো পা নেই, আবার কারো চোখ নেই। তখন মনে হলো, আল্লাহ তাআলা আমাদের সুস্থ রেখেছেন, এটাই সবচেয়ে বড় নিয়ামত। এজন্য মহান আল্লাহর কাছে হাজার হাজার শুকরিয়া।
প্রায় আড়াই ঘণ্টা ঘোরাফেরা করার পর সন্ধ্যার দিকে আমরা ভাড়া করা রুমে ফিরে যাই। গিয়ে দেখি রান্নাবান্না প্রায় শেষ। কিছুক্ষণ পর খাবার খাওয়া হবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তখন কারেন্ট ছিল না। আমরা প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষা করলাম, তবুও বিদ্যুৎ এলো না।
অবশেষে সবাই নিজের ফোনের লাইট জ্বালিয়ে রাতের খাবার খেতে শুরু করলাম। মজার বিষয় হলো, যখন খাবার শেষের দিকে তখনই ইলেকট্রিসিটি চলে আসে। তখন সবাই অনেক খুশি হয়ে যায়।
রাত সাড়ে আটটার দিকে খাবার শেষ করে আমি ও আমার ভাতিজা আবার বাইরে ঘুরতে বের হলাম।
বিভিন্ন জায়গা ঘুরে দেখতে লাগলাম। এক জায়গায় গিয়ে দেখি বক্সিং গেম খেলা হচ্ছে। সেখানে নিয়ম ছিল, কেউ যদি ঘুষি মেরে ৯৯৯ পর্যন্ত নিতে পারে তাহলে তাকে টাকা দিতে হবে না।
অনেকেই চেষ্টা করছিল। আমরা প্রায় আধা ঘণ্টা দাঁড়িয়ে খেলা উপভোগ করি। এক ছেলের স্কোর ৯৯৭ পর্যন্ত উঠেছিল, মাত্র দুই পয়েন্টের জন্য সে ৯৯৯ করতে পারেনি। সবাই তখন অনেক আনন্দ করছিল, কারণ এত কাছাকাছি আর কেউ যেতে পারেনি।
এরপর আরও কয়েক জায়গায় গানের অনুষ্ঠান চলছিল। আমরা সেখানে গিয়ে কিছু সময় গান উপভোগ করি। এভাবে রাত প্রায় দুইটা পর্যন্ত ঘুরাফেরা করি।
পরে আবার ভাড়া করা রুমে ফিরে যাই। গিয়ে দেখি, আমাদের রুমের পাশেই বড় বড় শিল্পীরা সারারাত গান পরিবেশন করছে। আমি আরও আধা ঘণ্টার মতো গান শুনে অবশেষে রাত আড়াইটার দিকে ঘুমিয়ে পড়ি।
রাত চারটার সময় ফজরের আজান হলে ঘুম থেকে উঠে মসজিদে যাই। সেখানে জামাতের সাথে ফজরের নামাজ আদায় করি। নামাজ শেষে আবার রুমে ফিরে এসে সকালের খাবার খাই।
যাইহোক,এটাই ছিল আমার সেই দিনের পুরো কার্যক্রম।আশা করি আপনাদের সবার ভালো লাগবে।যদি ভালো লাগে তাহলে অবশ্যই মন্তব্য করে জানাবেন।সবাই ভালো থাকবেন।















Curated By : @ memamun
Many many thanks for your support dear❤️❤️
মামুন ভাইয়ের সাথে দেখা করে আসতে। মামুন ভাই তো বগুড়াতেই থাকে সাতমাথায়।
আমি খেয়াল নেই।মামুন ভাই বগুড়ার সাতমাথায় কোথায় যেন জব করে??