Better Life with Steem||The Diary Game|| 17 May 2026||
প্রতিদিনের মতোই সকাল সকাল ঘুম থেকে জেগে উঠেছিলাম।ঘুম থেকে জেগে উঠে হাতমুখ ধুয়ে ফ্রেশ হয়ে রুমে আসি। রুমে এসে কিছুক্ষণ পর সকালের খাবার সম্পূর্ণ করলাম।আর আজকে সকালের খাবার হিসেবে ছিল বড় পাঙ্গাস মাছ এবং সাথে ছিল পুটি মাছ ভাজি।আলহামদুলিল্লাহ,আজকের সকালের খাবারটা অন্যদিনের তুলনায় ব্যতিক্রম হলেও অনেক মজাদার ছিল।
যাইহোক, সকালের খাবার সম্পন্ন করে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিই।এরপর ঘড়িতে যখন সকাল ১০ঃ০০ টা বাজে তখন স্কুলের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম।স্কুলে যেতে দশ মিনিট সময় লেগেছিল।যাইহোক,দশ মিনিট পর স্কুলে পৌঁছালাম।
স্কুলে প্রবেশ করে সরাসরি অফিস রুমে প্রবেশ করলাম।প্রবেশ করে সবাইকে সালাম দিলাম এরপর নির্দিষ্ট জায়গায় বসলাম। নির্দিষ্ট জায়গায় বসে সহকর্মীদের সাথে কিছু সময় আলাপ-আলোচনা করলাম।এভাবে যখন সাড়ে দশটা বাজলো তখন দপ্তর সাহেব ঘন্টার বেল দিলে আমরা যার যার মতো ক্লাসে গিয়ে ক্লাস নিতে শুরু করলাম।
ক্লাস নেওয়ার ফাঁকে মাঠের ভিতর দেখতে পেলাম প্রাইমারি স্কুলের কিছু ছাত্র-ছাত্রী দৌড় দিচ্ছে।কারণ তাদের নাকি কিছুদিন পর স্কুলের খেলাধুলা অনুষ্ঠিত হবে এজন্য প্রাইমারি শিক্ষক তাদের প্র্যাকটিস করাচ্ছিলেন। যাইহোক,তাদের দৌড় দেখে আমি কয়েকটি ছবি তুলে রাখলাম।
প্রাইমারি স্কুলে এ ধরনের দৌড় প্রতিযোগিতা প্রায়ই হয়ে থাকে।তাই আগে থেকেই তারা কিছু ছাত্র-ছাত্রীকে দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করিয়ে কে কত ভালো করতে পারে তা যাচাই করছিল।যাইহোক, তাদের দৌড় প্রতিযোগিতা দেখে আমি কিছু সময় দাঁড়িয়ে ছিলাম এবং তাদের কয়েকটি ছবি তুলে রাখলাম যা আপনাদের মাঝে শেয়ার করলাম।
এরপর আবার ক্লাসে ফিরে গিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের পড়া ধরলাম। এভাবে ক্লাস নিতে নিতে যখন ক্লাসের ঘণ্টা শেষ হলো তখন আমরা ক্লাস ত্যাগ করে অফিস কক্ষে প্রবেশ করলাম।অফিসে প্রবেশ করে দেখলাম দ্বিতীয় ঘণ্টায় আমার ক্লাস ছিল না, তাই প্রায় ৩০ মিনিট বসে ছিলাম। আর যাদের ক্লাস ছিল তারা ক্লাসে প্রবেশ করে ক্লাস নিতে লাগলো।
যাইহোক,এভাবে দ্বিতীয় ঘণ্টা শেষ হলে আবার পরবর্তী ক্লাস শুরু হয়। এভাবে দুপুর একটা পর্যন্ত মোট চারটি ক্লাস চলতে থাকে। চারটি ক্লাস শেষ হলে টিফিন দেওয়া হয়। টিফিন দিলে সবাই যার যার মতো বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেয় আর আমিও প্রতিদিনের ন্যায় বাড়িতে চলে আসি।
বাড়িতে আসার সময় রাস্তার পাশে একটি ভুট্টার ক্ষেত দেখতে পেলাম।তখন মোবাইল বের করে কয়েকটি ছবি তুললাম। ছবিতে লক্ষ্য করলে দেখতে পারবেন কিছু ক্ষেত থেকে ভুট্টা তুলে নেওয়া হয়েছে আবার কিছু ক্ষেতে এখনো ভুট্টা রয়ে গেছে। তবে ভুট্টার গাছগুলো একদম পেকে গিয়েছিল।এমন দৃশ্য দেখে সত্যিই বেশ ভালো লাগলো তাই একটি ছবি তুলে রাখলাম।
এরপর আবার বাড়ির দিকে রওনা দিলাম। এভাবে প্রায় আট মিনিট পর বাড়িতে পৌঁছালাম।বাড়িতে এসে হাতমুখ ধুয়ে ফ্রেশ হয়ে দুপুরের খাবার খেলাম। দুপুরের খাবার শেষ করে কিছু সময় বিশ্রাম নিলাম।
বিশ্রাম নেওয়ার পর ঘড়িতে দেখলাম দুইটা বাজতে আর ২০ মিনিট বাকি রয়েছে। তখন আবার স্কুলের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম।
স্কুলে যাওয়ার পথে একটি মজার কিন্তু ঝুঁকিপূর্ণ দৃশ্য দেখতে পেলাম।একটি সাইকেলে করে দুইটি ছেলে যাচ্ছিল। একজন সাইকেল চালাচ্ছিল আর অন্যজন পিছনে না বসে সামনে বসেছিল।এমন দৃশ্য দেখে আমি অবাক হয়ে গেলাম এবং একটি ছবি তুলে রাখলাম।
ছেলেদেরকে জিজ্ঞাসা করলাম এভাবে ঝুঁকি নিয়ে সাইকেল চালাচ্ছ কেন। তখন তারা বললো তারা নাকি প্রায়ই এভাবে সাইকেল চালায়।আমি তাদের বললাম এমনভাবে সাইকেল চালানো ঠিক না,হঠাৎ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এরপর তাদের কিছু পরামর্শ দিয়ে আমি স্কুলে চলে যাই।
স্কুলে গিয়ে দুপুর দুইটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত ক্লাস চলতে থাকে।এরপর স্কুল ছুটি হলে সবাই বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। প্রায় দশ মিনিট পর বাড়িতে পৌঁছে যাই।
বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত বাড়িতে ছিলাম। এরপর সন্ধ্যার কিছু আগে সাইফুল মাস্টার আমাকে ফোন দিলেন। ফোন দিয়ে বললেন যদি রেডি থাকি তাহলে একটি মিলাদ মাহফিলে যেতে হবে।তখন আমি ওযু করে প্রস্তুত হয়ে সন্ধ্যার পরে তার সাথে মিলাদ মাহফিলে গেলাম।
মিলাদ মাহফিলে গিয়ে সেই বাড়িতে লক্ষ্য করলাম অনেকগুলো করলা গাছ রয়েছে এবং গাছগুলোতে প্রচুর করলা ধরেছে। করলাগুলো দেখে সবাই অবাক হয়ে গেল। তখন সাইফুল মাস্টার বললেন করলা গাছের পাশে দাঁড়িয়ে একটি ছবি তুলতে। তখন স্মৃতিস্বরূপ একটি ছবি তুলে রাখলাম।
যাইহোক, তখনো অনেক মানুষ আসেনি তাই সিদ্ধান্ত হলো এশার নামাজের পর মিলাদ মাহফিল শুরু হবে। রাত ৮টার সময় এশার আযান দিলে আমরা সবাই জামাতের সাথে এশার নামাজ আদায় করি। নামাজ শেষে আবার সেই বাড়িতে গিয়ে বসি। কিছুক্ষণ পর সবাই চলে এলে মিলাদ মাহফিল শুরু হয়।
মিলাদ মাহফিল প্রায় এক ঘণ্টা চলতে থাকে। মিলাদ শেষে সবার জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। সবাইকে খাওয়ার জন্য বসতে বললে আমরাও বসে যাই। খাবার হিসেবে ছিল গরম গরম ভাতের সাথে পিটুলি। আলহামদুলিল্লাহ, মিলাদ মাহফিলের খাবার অনেক সুস্বাদু ছিল।
খাওয়া-দাওয়া শেষে সবাই একসাথে বসে কিছু সময় বিভিন্ন বিষয় আলাপ-আলোচনা ও পরামর্শ করলাম। এরপর সবাই আলাপ শেষে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। আলহামদুলিল্লাহ,এ ধরনের মিলাদ মাহফিল প্রায়ই আয়োজন করা হয় এবং আমরা সবাই একসাথে অংশগ্রহণ করি।আল্লাহ তাআলা যেন আমাদের এই বন্ধন অটুট রাখেন এটাই প্রত্যাশা।
যাইহোক,অবশেষে রাত দশটার পরে বাড়িতে চলে আসি। বাড়িতে এসে কিছু সময় মোবাইলে সময় কাটিয়ে রাতের নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমিয়ে পড়ি।
যাইহোক,এ ছিল আমার সেই দিনের সকল কার্যক্রম।আশা করি আপনাদের সকলের ভালো লাগবে। যদি ভালো লাগে অবশ্যই মন্তব্য করে জানাবেন।ভালো থাকবেন।খোদা হাফেজ।






