Better Life with Steem||The Diary Game|| 18 May 2026||
প্রতিদিনের মতো সকাল সকাল ঘুম থেকে জেগে উঠি। ঘুম থেকে জেগে উঠে ফ্রেশ হয়ে যখন রুমে আসলাম, তার কিছুক্ষণ পরে দেখতে পেলাম আজকে আমাদের বাড়িতে আমার আপন বোনের ননদ ও দেবর এসেছে। অনেকদিন পর আমাদের বাড়িতে তাদের আগমন, তাই আমি তাদেরকে দেখে অনেক খুশি হলাম।এরপর তাদেরকে রুমে নিয়ে বসার ব্যবস্থা করলাম।রুমে বসে তাদের সাথে ভালো-মন্দ আলাপ গল্প করতে লাগলাম।
যাইহোক,আলাপ করার এক পর্যায়ে আমি আমার ওয়াইফকে বললাম ফ্রিজে রাখা মাংস যা আছে সেগুলো রান্না করতে।আমার কথা শুনে সে রান্না শুরু করে দিল।এদিকে আমি অতিথিদের সাথে গল্প করতে লাগলাম।অনেকদিন পর তারা আমাদের বাড়িতে এসেছে,তাই তাদের জন্য একটু স্পেশাল খাবারের আয়োজন করা হয়েছিল।
আমার ওয়াইফ অনেক যত্ন করে রান্না করছিল। সকাল সাতটার দিকে রান্না শুরু হয়েছিল এবং প্রায় নয়টার সময় রান্নাবান্না শেষ হয়।রান্না শেষ হলে তাদেরকে খাবার খেতে বললাম। এরপর সবাই টিউবওয়েল পাড়ে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে আসলো।
ফ্রেশ হয়ে এসে আমরা সকলে মিলে সকালের খাবার সম্পূর্ণ করলাম।আজকের সকালের খাবার ছিল সত্যিই অনেক স্পেশাল।খাবারের তালিকায় ছিল ডাল, মাংস, শাক ভাজি,পোলাও ভাত, সাদা ভাত, সিং মাছ ভাজি,চিংড়ি মাছের ভুনা,মাছ
ভর্তা,লেবুর সালাদ ও শসা সালাদ।
আলহামদুলিল্লাহ, অন্যান্য দিনের তুলনায় আজকের সকালের খাবারটা অনেক বেশি আনন্দের ছিল।
খাওয়া-দাওয়া শেষ করার পর আমি তাদেরকে বললাম আজকে যেন আমাদের বাড়িতে থাকে।
কারণ আমার স্কুলে যেতে হবে।কিন্তু আমার বিয়াই সাহেব থাকতে রাজি হলেন না।তারা জানালেন আজকেই নাকি ঢাকায় চলে যাবেন,তাই আজকে আর থাকা সম্ভব হবে না।
তখন আমি বললাম, “ঠিক আছে, আজকে যদি যেতে হয় তাহলে অন্য একদিন এসে অবশ্যই থাকবেন।” তখন বিয়াই ও বিয়াইন বললেন, “ঠিক আছে বিয়াই, আপনারাও একদিন আমাদের বাড়িতে যাবেন।” আমি বললাম, “ইনশাআল্লাহ স্কুল বন্ধ থাকলে একদিন অবশ্যই আপনাদের বাড়িতে যাব।”
এইসব কথা বলতে বলতে খেয়াল করলাম সকাল দশটা বাজতে আর মাত্র পাঁচ মিনিট বাকি। তখন দ্রুত ফ্রেশ হয়ে রেডি হলাম। এরপর সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে স্কুলের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম।
স্কুলে গিয়ে সকাল সাড়ে দশটা পর্যন্ত অফিসে সহকর্মীদের সাথে কথাবার্তা বললাম। এরপর সাড়ে দশটার দিকে আমাদের দপ্তর সাহেব ফরিদ ভাই ক্লাসের বেল দিলেন। তখন সবাই যার যার ক্লাসে চলে গেল। আমিও ক্লাস নিতে শুরু করলাম।
প্রতিদিনের মতো আজকেও কয়েকটি ক্লাস নিয়েছি। এক পর্যায়ে পরীক্ষার জন্য পাঠ নির্দেশিকা দেখে কোন কোন অধ্যায় থেকে পরীক্ষা নেওয়া হবে সেগুলো ছাত্রছাত্রীদের দাগিয়ে দেওয়া হয় এবং বুঝিয়ে দেওয়া হয়। বিশেষ করে জীববিজ্ঞান ও তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলো চিহ্নিত করে দেওয়া হয়।
যেহেতু আগামী ২৮শে জুন থেকে অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা শুরু হবে এবং ঈদের ছুটিও চলে আসবে, তাই ছাত্রছাত্রীদের বাড়ির পড়াও বুঝিয়ে দেওয়া হয় যেন স্কুল বন্ধের সময় তারা বাড়িতে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে।
এভাবে ক্লাস নিতে নিতে দুপুর একটা বেজে যায় এবং টিফিনের সময় হলে আমরা সবাই বাড়িতে চলে আসি। বাড়িতে এসে দুপুরের খাবার সম্পূর্ণ করলাম। এরপর কিছু সময় বিশ্রাম নিয়ে আবার স্কুলের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম।
স্কুলে যাওয়ার পথে গেটের পাশে বাবাকে দেখতে পেলাম। বাবা বাজার থেকে একটি নতুন মশারি নিয়ে এসেছেন। মশারিটা দেখে আমি বাবাকে জিজ্ঞেস করলাম এর দাম কত। তখন বাবা বললেন মশারির দাম ৩০০ টাকা। মশারিটা হাতে নিয়ে আমি একটি ছবিও তুলে রাখলাম।
এরপর আবার স্কুলে চলে গেলাম। দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ক্লাস নেওয়া হয়। ক্লাস শেষ হলে স্কুল ছুটি হয়ে যায় এবং আমি সরাসরি বাড়িতে চলে আসি।
বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত বাড়িতে ছিলাম। ঠিক পাঁচটার সময় আমার বন্ধু সবুজ আমাদের বাড়িতে আসলো। এসে বলল বিকেলে একটু ঘুরতে যাবে। আমিও রাজি হয়ে গেলাম। এরপর আমরা দুই বন্ধু নাটুয়ার পাড়া বাঁধের দিকে চলে গেলাম।
সেখানে গিয়ে প্রচণ্ড গরমের কারণে দোকান থেকে ৩০ টাকা দিয়ে একটি স্পিড এবং ১০ টাকা দিয়ে এলার্জি বিস্কুট কিনলাম। এরপর বাঁধের পাশে বসে দুজনে আলাপ গল্প করতে করতে স্পিড ও বিস্কুট খেলাম।
খাওয়ার আগে একটি ছবিও তুলে রেখেছিলাম।
এরপর খেয়াল করলাম পাশে কিছু ছেলে ক্রিকেট খেলার মাঠ তৈরি করে খেলাধুলা করছে। আমরা দুই বন্ধু বসে তাদের খেলা উপভোগ করতে লাগলাম। খেলা দেখার সময়ও একটি ছবি তুলেছিলাম।
খেলা দেখার পাশাপাশি আশেপাশের প্রকৃতির দৃশ্যও খুব সুন্দর লাগছিল। সেখানে একটি ছোট খাল বা নদীর মতো জায়গা ছিল। সেই সুন্দর দৃশ্যগুলো স্মৃতি হিসেবে ধরে রাখার জন্য কয়েকটি ছবি তুলেছিলাম। এছাড়াও আশেপাশের আরও কিছু দৃশ্য ক্যামেরাবন্দী করি।
যাইহোক,আজকের দিনটি দুই বন্ধু মিলে অনেক আনন্দে কাটিয়েছি।গল্প, আড্ডা, প্রকৃতির সৌন্দর্য আর খেলাধুলা উপভোগ করতে করতে সময় কিভাবে চলে গেছে বুঝতেই পারিনি।সত্যি বলতে আজকের দিনটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
সন্ধ্যার পর আমরা বাড়িতে ফিরে আসি।বাড়িতে এসে ফ্রেশ হলাম।সারাদিন অনেক ক্লান্ত ছিলাম,তাই আজকে রাতের খাবারও একটু আগেই খেয়ে নিয়েছিলাম।রাত আটটার আগেই রাতের খাবার শেষ করি। এরপর কিছু সময় মোবাইল ব্যবহার করে নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমিয়ে যাই।
যাইহোক,এটাই ছিল আমার সারাদিনের সকল কার্যক্রম।আশা করি আপনাদের সকলের ভালো লাগবে।যদি ভালো লেগে থাকে অবশ্যই মন্তব্য করে জানাবেন।ভালো থাকবেন সবাই।আল্লাহ হাফেজ।








Thank you so much for your support❤️❤️