Better Life with Steem||The Diary Game|| 20 May 2026||
আজকে খুব সকালে ঘুম থেকে উঠতে হয়।কারণ আমার এক বন্ধু খুব ভোরে আমাদের বাড়িতে আসে। আজ সকাল সাড়ে ৬ টায় একটি দাওয়াত ছিল,তাই সে আমাকে সাথে করে নিয়ে যাওয়ার জন্য এত সকালে চলে আসে।
যাইহোক,ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে রুমে এসে দ্রুত রেডি হয়ে বন্ধুর সাথে দাওয়াতে চলে যাই।সেখানে গিয়ে একসাথে বসে খাবার খাই।খাবার খাওয়ার আগে একটি ছবি তুলে রেখেছিলাম,যা আপনাদের মাঝে শেয়ার করলাম।
আজকের দাওয়াতের প্রধান খাবার ছিল আমাদের গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী পিটুলি।আলহামদুলিল্লাহ, খাবারটা অনেক সুস্বাদু ছিল।খাবার শেষ করে বন্ধুর সাথে কিছুক্ষণ গল্প করি।এরপর কিছু সময় কাটিয়ে আবার বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেই।
বাড়িতে এসে কিছু সময় ছাত্র-ছাত্রীদের প্রশ্ন করলাম। কারণ আগামী ২৮ জুন থেকে পরীক্ষা শুরু হবে,তাই এবার হাতেই প্রশ্ন করে তাদের প্রস্তুতি নেওয়ার চেষ্টা করছি।প্রশ্ন করা শেষে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি তখন ১০টা বাজতে প্রায় ২০ মিনিট বাকি।তখন দ্রুত রেডি হয়ে কিছু সময় পর স্কুলের উদ্দেশ্যে রওনা দেই।
স্কুলে গিয়ে সরাসরি অফিসে প্রবেশ করি।অফিসে গিয়ে সবাইকে সালাম দিলাম, সবাই সালামের উত্তর দিয়ে বললো, “হাফিজ, তোমার জন্য একটা গুড নিউজ আছে।” আমি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম,
“কিসের গুড নিউজ?” কিছুক্ষণ পর অফিসের আয়া খালা আমার সামনে তিনটা রসগোল্লা এনে দিয়ে বললেন, “এটাই গুড নিউজ।” পরে জানতে পারলাম, আমাদের হেড স্যারের ছেলে সরকারি চাকরি পেয়েছে।সেই খুশিতে স্কুলের সকল শিক্ষক-শিক্ষিকা ও কর্মচারীদের জন্য মিষ্টির ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমরা সবাই মিষ্টি খেয়ে হেড স্যারের ছেলের প্রশংসা করলাম।
এরপর ক্লাসের সময় হয়ে গেলে দপ্তর ফরিদ ভাই ক্লাসের ঘন্টার বেল দিলে।আমরা সবাই যার যার ক্লাসে চলে যাই।আজ টিফিনের আগ পর্যন্ত মোট ৪টি ক্লাস নিয়েছি। মাঝে ৩০ মিনিটের বিরতিও ছিল।
টিফিনের সময় বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার সময় স্কুল মাঠে কয়েকজন মেয়েকে খুব হাসাহাসি করতে দেখি।কাছে গিয়ে দেখি মাঠের মধ্যে তিনটি গরু ঘাস খাচ্ছে। দুইটি দাঁড়িয়ে ছিল আর একটি গরু মাটিতে শুয়ে ছিল।মেয়েরা সেটি দেখেই হাসছিল।তখন আমি তাদের জিজ্ঞেস করলাম, “তোমরা হাসছো কেন?” তারা বললো, “স্যার, গরু গুলোকে দেখে।”
আমি তখন তাদের বললাম, “প্রচণ্ড গরম পড়েছে, তাই হয়তো গরুটি গরম সহ্য করতে না পেরে মাটিতে শুয়ে আছে।এগুলো নিয়ে হাসাহাসি করা ঠিক না।” কথাগুলো বলে একটি ছবি তুলে রাখলাম এবং তাদের টিফিনে যেতে বললাম। এরপর আমিও বাড়িতে চলে আসি।
বাড়িতে এসে দেখি দুইজন মেহমান এসেছে।সম্পর্কে তারা আমার খালাতো ভাই ও খালাতো ভাইয়ের বোনের জামাই।তাদের জন্য আপেল ও মিষ্টির ব্যবস্থা করা হয়েছিল।তারা খাওয়া শুরু করলে আমিও তাদের সাথে বসে খেতে থাকি।একসাথে আপেল ও মিষ্টি খেতে খেতে কিছু সময় গল্প করি এবং একটি ছবিও তুলে রাখি।
এরপর সবাই মিলে দুপুরের খাবার সম্পন্ন করি। যেহেতু আমার আবার স্কুল ছিল,তাই তাদের বললাম বিকাল পর্যন্ত থাকার জন্য।কিন্তু তারা জানালো, কিছুক্ষণ পরই চলে যাবে। তখন আমি বললাম, “ঠিক আছে, অন্য একদিন আসবেন যেদিন আমার স্কুল ছুটি থাকবে।” তারা বললো, “সময় পেলে অবশ্যই আসবো।”
এরপর প্রায় ২০ মিনিট বিশ্রাম নিয়ে আবার স্কুলে চলে যাই।দুপুর ২টা থেকে পুনরায় ক্লাস শুরু হয়।সামনে পরীক্ষা হওয়ায় বাংলা দ্বিতীয় পত্রে কি কি আসবে, সেগুলো পাঠ পরিকল্পনা দেখে ছাত্র-ছাত্রীদের দাগিয়ে দেই এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় শর্ট করে বুঝিয়ে দেই যাতে তারা সহজে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে পারে।
আমি বোর্ডে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো লিখে দেই এবং তারা খাতায় লিখে নেয়।পরে তাদের খাতা চেক করে দেখি সবাই সঠিকভাবে লিখেছে।তখন একটি ছবি তুলে রাখলাম,যা আপনাদের মাঝে শেয়ার করলাম।
এভাবে আরও কিছু সময় ক্লাস নেওয়ার পর বিকাল ৪টায় স্কুল ছুটি হয়। ছুটি শেষে বাড়িতে ফিরে আসি। বাড়িতে এসে আসরের আজান পর্যন্ত কিছু সময় বিশ্রাম করি। এরপর আজান দিলে মসজিদে গিয়ে নামাজ আদায় করি।
নামাজ পড়ে এসে আজ আর কোথাও বের হইনি। কারণ ছাত্র-ছাত্রীদের আরও কিছু প্রশ্ন করতে হয়েছিল।তাই বাসাতেই থেকে তাদের প্রশ্ন করতে থাকি।এভাবেই রাত ৮টা পর্যন্ত সময় কাটে।
রাত ৮টার পর পরিবারের সকলের সাথে রাতের খাবার সম্পন্ন করি।এরপর কিছু সময় মোবাইল ব্যবহার করি।দেখতে দেখতে যখন রাত ১০টা বাজে, তখন ঘুমিয়ে পড়ি।
যাইহোক,এটাই ছিল আমার সেই দিনের সকল কার্যক্রম। আশা করি আপনাদের সবার ভালো লাগবে। যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই মন্তব্য করে জানাবেন।সবাই ভালো থাকবেন।আল্লাহ হাফেজ।





Curated By : @ memamun
Many many thanks for your support dear❤️❤️