Better Life with Steem||The Diary Game|| 21 May 2026||
প্রতিদিনের মতো সকাল সকাল ঘুম থেকে জেগে উঠলাম।ঘুম থেকে জেগে উঠে আজকেও কিছু সময় প্রকৃতির মাঝে ঘোরাঘুরি করলাম।কারণ দুই-তিন দিন হলো সকালবেলা প্রকৃতির মাঝে ঘোরাঘুরি করা হয়নি।তাই আজকে সকালবেলা বাহিরে গিয়ে প্রকৃতির মাঝে কিছু সময় কাটালাম।
যাইহোক,ঘোরাঘুরি করার সময় আমাদের বাড়ির সামনে যে পুকুর রয়েছে সেখানে মাছ ধরা হচ্ছিল। প্রতি বছর এই পুকুরে মাছ চাষ করা হয়। মাছগুলো বড় হয়ে গেলে সেগুলো বাজারে নিয়ে বিক্রি করা হয়।
আজকে দেখতে পেলাম পুকুর থেকে জাল দিয়ে বড় বড় মাছ ধরা হচ্ছে।পরে সেই মাছগুলো একটি অটো গাড়িতে করে বাজারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।মাছগুলো অনেক বড় ছিল, প্রায় ৬-৭ কেজির মতো হবে।
মাছগুলো দেখে আমার বেশ ভালো লাগলো।তাই অটোর উপরে রাখা মাছের পাত্রের পাশে দাঁড়িয়ে একটি ছবি তুলে রাখলাম।ছবিতে লক্ষ্য করলে আপনারাও দেখতে পারবেন মাছগুলো কত বড় হয়েছে।
মাছগুলোর ছবি তুলে সেখানে আরও কিছু সময় দাঁড়িয়ে ছিলাম।প্রায় বিশ মিনিটের মতো সময় কাটিয়ে বাড়িতে চলে আসলাম।যেহেতু আবার স্কুলে যেতে হবে,তাই টিউবওয়েলের পাশে গিয়ে হাত-মুখ ধুয়ে ফ্রেশ হলাম।এরপর রুমে এসে সকালের খাবার সম্পন্ন করলাম।সকালের খাবার শেষ করতে করতে তখন প্রায় দশটা বাজে।তাই দ্রুত স্কুলের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম।
স্কুলে গিয়ে আগের মতো অফিস কক্ষে বসে ছিলাম। এভাবে সাড়ে দশটার সময় দপ্তর ক্লাসের ঘণ্টা দিলে আমরা সবাই যার যার ক্লাসে চলে যাই।আজকেও আগের মতো ক্লাস নিতে শুরু করি। ৪০ মিনিট ক্লাস নেওয়ার পর ৩০ মিনিটের বিরতি ছিল।সেই সময় আমি অফিস কক্ষে সহকর্মীদের সাথে আলাপ-আলোচনা করছিলাম।
আলাপের এক পর্যায়ে জানতে পারলাম আজকে স্কুল ছুটি হয়ে যাবে।কারণ ২১ মে থেকে স্কুল বন্ধ হয়ে ৭ জুন আবার খুলবে।তাই আজকে সবাই একটু আনন্দের মুডে ছিল।এ সময় আয়া আমিনা আপু ও দপ্তর ফরিদ ভাই বললো,
যেহেতু স্কুল বন্ধ হবে তাই আজকে কাঁচা আম মাখা খাওয়া হবে।তারা বাড়ি থেকে অনেকগুলো কাঁচা আম নিয়ে এসেছিল। তবে চিনি কেনার জন্য আমার কাছ থেকে ৫০ টাকা চাইল। আমিও ৫০ টাকা দিলাম। এরপর ফরিদ ভাই দোকান থেকে চিনি নিয়ে এলো।
অন্যদিকে আমিনা আপু খুব সুন্দর করে কাঁচা আমগুলো ছোট ছোট টুকরা করে কাটতে লাগলেন। শুধু আমই না, বাড়ি থেকে লবণ,মরিচসহ যা যা লাগে সবই নিয়ে এসেছিলেন।পরে চিনি এনে দিলে আমিনা আপু খুব সুন্দর করে সবগুলো আম মাখিয়ে প্রস্তুত করলেন।
আমরা মোট ১৩-১৪ জন ছিলাম। দেখতে অনেক আম মনে হলেও ভাগ করার সময় কম হয়ে গেল। তারপরও সবাই মিলে খুব আনন্দের সাথে খেলাম।যখন থালায় করে সবার মাঝে আম দেওয়া হচ্ছিল,তখন আমি একটি ছবি তুলে রাখলাম যা আপনাদের মাঝে শেয়ার করলাম। সত্যি বলতে,অনেক মজাই লেগেছিল।
আম খাওয়া শেষ করে আবার দ্বিতীয় ঘণ্টা পড়লে ক্লাসে চলে গেলাম।এরপর আগের মতোই দুপুর একটা পর্যন্ত ক্লাস চললো।তবে আজকে দুপুর একটা পর ছুটি দেওয়ার কথা থাকলেও ছুটি দেওয়া হয়নি। কারণ দুপুরের পরে শিক্ষা অফিসার এসেছিলেন।
যেহেতু আজকে স্কুল বন্ধ হওয়ার দিন ছিল,তাই ছাত্র-ছাত্রীদের উপস্থিতিও অনেক কম ছিল।পরে টিফিন দেওয়া হলে সবাই যার যার বাড়িতে চলে যায়।
এর আগে বাড়ি থেকে বলেছিল একটি মাল্টিপ্লাগ লাগবে। কারণ আগের মাল্টিপ্লাগটি নষ্ট হয়ে গিয়েছিল।
তাই দুপুরে বাড়ি যাওয়ার পথে দোকান থেকে একটি নতুন মাল্টিপ্লাগ কিনলাম।এর দাম নিয়েছিল ২০০ টাকা। মাল্টিপ্লাগটি হাতে নিয়ে একটি ছবিও তুলেছিলাম যা আপনাদের মাঝে শেয়ার করলাম।
বাড়িতে এসে হাত-মুখ ধুয়ে ফ্রেশ হলাম।এরপর দুপুরের খাবার সম্পন্ন করি। কিছু সময় বিশ্রাম নিয়ে আবার দুইটার আগেই স্কুলে চলে গেলাম।তারপর আগের মতোই বিকেল ৪টা পর্যন্ত ক্লাস চলতে থাকে। অবশেষে চারটার পরে স্কুল ছুটি দেওয়া হয় এবং সবাই যার যার বাড়িতে চলে যায়। আমিও বাড়িতে ফিরে আসলাম।
বাড়িতে এসে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত ছিলাম। এরপর যেহেতু সামনে কুরবানির ঈদ,তাই ভাবলাম নিজের জন্য একটি লোফার সিস্টেমের জুতা কিনবো।তাই চলে গেলাম গোলমর বাজারে। বাজারে গিয়ে একটি সুন্দর লোফার জুতা পছন্দ করি এবং সেটি কিনে ফেলি। জুতাটির দাম নিয়েছিল ৬০০ টাকা।জুতা কেনার সময় দোকানে একটি ছবিও তুলে রেখেছিলাম যা আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম।
প্রায় ৩০ মিনিট বাজারে সময় কাটিয়ে বাড়িতে ফিরে আসলাম। আজ যেহেতু স্কুল বন্ধ হয়েছে তাই অনেক ভালো লাগছিল।এই খুশিতে আমার বন্ধু সোহাগকে ফোন দিলাম।স্কুল বন্ধের কথা শুনে সেও অনেক খুশি হলো।কারণ এখন কিছুদিন দুই বন্ধু মিলে একসাথে সময় কাটানো যাবে।
আমি সোহাগকে বললাম,চল আজকে কলেজ মাঠে যাই। সেও রাজি হয়ে গেল।এরপর আমরা দুই বন্ধু কলেজ মাঠে গিয়ে কিছু সময় বসে আড্ডা দিলাম। আড্ডা দেওয়ার সময় মাঠের পাশে কিছু সুন্দর ফুল দেখতে পেলাম। ফুলগুলো আমার অনেক ভালো লেগেছিল। আমি এমনিতেই ফুল খুব পছন্দ করি।
তাই যেখানেই সুন্দর ফুল দেখি, ছবি তোলার চেষ্টা করি। আজকেও সেই ফুলগুলোর ছবি তুলে রাখলাম যা আপনাদের মাঝে শেয়ার করলাম।তবে ফুলগুলোর নাম আমি জানি না।আপনারা যদি নাম জেনে থাকেন তাহলে অবশ্যই মন্তব্য করে জানাবেন।
ফুলের ছবি তুলে আরও কিছু সময় আড্ডা দেওয়ার পর সন্ধ্যা হয়ে আসলো।তখন আমরা দুই বন্ধু কলেজ মাঠ থেকে উঠে একটি ছোট হোটেলে গেলাম।সেখানে গিয়ে সমুচা ও আলু সিঙ্গারা অর্ডার করলাম।
হোটেলওয়ালা এগুলো এনে দিলে আমরা দুই বন্ধু মিলে খেতে শুরু করলাম।অনেক মজাই লেগেছিল।
খাওয়া শেষ করে বাজারে আরও কিছু সময় কাটালাম।এরপর রাত যখন প্রায় আটটা বাজে তখন বাড়িতে চলে আসলাম।বাড়িতে এসে দেখি পরিবারের সবাই রাতের খাবার খাচ্ছে।আমাকেও খেতে ডাকলো।তাই আমিও রাতের খাবার সম্পন্ন করলাম।
রাতের খাবার শেষে কিছু সময় মোবাইলে কাটালাম। এরপর রাতের নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমিয়ে পড়লাম।
যাইহোক,এটাই ছিল আমার সেই দিনের সকল কার্যক্রম।আশা করি আপনাদের সবার ভালো লাগবে।যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই মন্তব্য করে জানাবেন।সবাই ভালো থাকবেন।আল্লাহ হাফেজ।






Many Many thanks for you support dear❤️❤️