Better Life with Steem||The Diary Game|| 24 June 2026||
প্রতিদিনের মতো সকাল সকাল ঘুম থেকে জেগে উঠি। ঘুম থেকে জেগে উঠে আজকেও প্রকৃতির মাঝে প্রায় আধা ঘণ্টার মতো সময় অতিবাহিত করলাম। প্রকৃতির মাঝে কিছুটা সময় কাটিয়ে বাড়িতে ফিরে আসি।
বাড়িতে এসে দেখতে পেলাম আমার স্ত্রী প্রচণ্ড মাথাব্যথায় খুব কষ্ট পাচ্ছে। তাকে জিজ্ঞাসা করলাম কী হয়েছে। তখন সে বলল তার মাথা খুব ব্যথা করছে। আমি প্রথমে নারিকেলের তেল দেওয়ার কথা বললাম,
কিন্তু সে জানালো এতে নাকি তেমন কাজ হবে না। পরে সে বলল তিব্বত কদর তেল দিলে মাথা ঠান্ডা লাগে এবং আরাম পাওয়া যায়।
স্ত্রীর কথা শুনে আমি আমাদের পাশের গ্রামের শিপন ভাইয়ের কসমেটিকসের দোকানে চলে গেলাম। সেখানে গিয়ে তিব্বত কদর তেল আছে কি না জানতে
চাইলে তিনি বললেন আছে। তখন আমি একটি তেল কিনে বাড়িতে নিয়ে আসি। তেল পেয়ে আমার স্ত্রী অনেক খুশি হলো। পরে আমার বোন তার মাথায় তেল লাগিয়ে দিল। প্রায় দশ মিনিট পর সে জানালো এখন অনেকটা আরাম লাগছে।
এরপর আমি নিজেও ফ্রেশ হয়ে রুমে আসি। যেহেতু স্ত্রী অসুস্থ ছিল, তাই সকালের খাবারের জন্য তাকে না ডেকে আমার বোনকে বললাম। আমার বোন খাবার তৈরি করে দিলে আমি সকালের নাস্তা সম্পন্ন করি। নাস্তা শেষ করে সকাল দশটা পর্যন্ত বাড়িতেই ছিলাম।
দশটার পরে স্কুলে চলে যাই। স্কুলে গিয়ে সবাইকে সালাম দিয়ে নির্ধারিত স্থানে বসি। সাড়ে দশটা পর্যন্ত সহকর্মীদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে আলাপ-আলোচনা করি। এরপর ক্লাসের ঘণ্টা বাজলে আমরা সবাই নিজ নিজ শ্রেণিকক্ষে গিয়ে ক্লাস নেওয়া শুরু করি।
আজও টিফিনের আগ পর্যন্ত চারটি ক্লাস নিয়েছি। ক্লাস শেষ হলে টিফিনের সময় বাড়িতে এসে দুপুরের খাবার খাই। খাবার শেষ করে আবার স্কুলে ফিরে যাই। দুপুর দুইটা থেকে পুনরায় ক্লাস শুরু হয় এবং বিকেল চারটা পর্যন্ত চলতে থাকে। চারটার পরে স্কুল ছুটি হয়ে যায়।
স্কুল থেকে বাড়ি ফিরছিলাম, এমন সময় আমার বন্ধু মোতালেব ফোন দিয়ে তাদের বাড়িতে যেতে বলল। আমি তার বাড়িতে গেলে দেখি তারা কাঁচা আম
খাচ্ছে। তাদের বাড়ির আমগাছ থেকে বড় বড় কাঁচা আম পেড়ে সুন্দর করে কেটে তাতে লবণ ও মরিচের গুঁড়া মিশিয়ে খাচ্ছিল। দৃশ্যটি আমার ভালো লাগায় কয়েকটি ছবি তুলে রাখলাম আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করার জন্য।
ছবি তোলার পরে তারা আমাকেও খেতে বলল। আমিও কিছু কাঁচা আম খেলাম। খাওয়ার সময় মোতালেবকে জিজ্ঞাসা করলাম বিকেলে কী করবে। তখন সে বলল নাটুয়ারপাড়া বাঁধে যাবে। আমিও বললাম ঠিক আছে, আজকে একসঙ্গে যাওয়া যাবে।
বিকেল সাড়ে চারটার দিকে আমরা দুই বন্ধু একটি চায়ের দোকানে গিয়ে চা খেলাম। চা খাওয়ার সময় একটি ছবিও তুলেছিলাম। সেখানে বসে আমরা বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত নানা বিষয়ে গল্প-আড্ডা দিলাম।
পরে দুই বন্ধু মিলে বাঁধের দিকে চলে গেলাম। সেখানে গিয়ে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলতে বলতে সময় কাটাচ্ছিলাম। এমন সময় সন্ধ্যার দিকে বাবা আমাকে ফোন দিলেন। তিনি জানালেন একটি অডিও ফোন কিনতে হবে এবং আমাকে দ্রুত আসতে বললেন।
আমি বাবাকে বললাম গুলমোর বাজারে আসতে। এরপর আমি ও মোতালেব মোটরসাইকেলে করে গুলমোর বাজারে চলে যাই। সেখানে ওবায়দুল্লাহ নামে একজন মোবাইল ব্যবসায়ীর দোকানে গিয়ে ১৩০০ থেকে ১৪০০ টাকার মধ্যে ভালো অডিও ফোন আছে কি না জানতে চাই।
তিনি আমাকে প্রোটন ব্র্যান্ডের একটি ফোন দেখালেন। ফোনটিতে ৩০০০ অ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি ছিল। দাম জানতে চাইলে তিনি বললেন ১৪০০ টাকা এবং এক টাকাও কম হবে না। পরে আমি কিছুটা
দরদাম করি। প্রথমে ১২০০ টাকা বললেও তিনি রাজি হননি। এরপর ১৩০০ টাকা প্রস্তাব দিলে সেটিও মানতে চাননি। শেষে কিছু আলোচনা করে প্রায় সাড়ে তেরোশো টাকায় দিতে রাজি হন।
ফোনটি ভালোভাবে দেখে বাবারও পছন্দ হলো। এরপর প্রয়োজনীয় সবকিছু ঠিকঠাক করে নিলাম
এবং দোকানদারকে বললাম সঙ্গে যা যা দেওয়া যায় সব দিয়ে দিতে। সবকিছু বুঝে নেওয়ার পর বাবা ফোন নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিলেন।
এরপর আমি ও আমার বন্ধু মোতালেব আবার বাজারে গেলাম। সেখানে বসে ভুঁড়ি ভাজি দিয়ে রুটি খেলাম। মোট ১২০ টাকা বিল হলে আমি ৭০ টাকা এবং মোতালেব ৫০ টাকা পরিশোধ করলাম।
খাওয়া শেষ করে সন্ধ্যার আগেই বাড়ির পথে রওনা দিলাম। আসার আগে বন্ধুকে বিদায় জানিয়ে বললাম আবার দেখা হবে। সেও হাসিমুখে সম্মতি জানাল।
বাড়িতে ফিরে আর কোথাও যাইনি। রাত আটটা পর্যন্ত পরিবারের সঙ্গেই সময় কাটিয়েছি। এরপর পরিবারের সবাইকে নিয়ে রাতের খাবার খেয়েছি। খাবার শেষে কিছু সময় অনলাইনে ছিলাম। কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম নিজেও বুঝতে পারিনি।
এভাবেই আমার দিনটি কেটেছে। আজকের দিনের কিছু মুহূর্ত আপনাদের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নিলাম। আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে। ভালো লাগলে অবশ্যই মন্তব্য করে জানাবেন।সবাই ভালো থাকবেন।আল্লাহ হাফেজ।








Thank you so much for your support.❤️❤️
Thank you so much for your support.❤️❤️