Better Life with Steem||The Diary Game|| 26 July 2025||

in Incredible India11 months ago

একটি স্মরণীয় দিন – ষষ্ঠ শ্রেণির পিকনিক

IMG_20250726_182822.jpg

প্রতিদিনের মতো সকাল সকাল ঘুম থেকে জেগে উঠলাম। ঘুম থেকে উঠে ঘড়িতে তাকিয়ে দেখি সাড়ে আটটা বাজে। যেহেতু আজ স্কুল বন্ধ ছিল, তাই ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের জন্য ছোটখাটো একটি পিকনিকের আয়োজন করা হয়েছিল।

সাড়ে আটটার দিকে কয়েকজন ছাত্র আমাকে ফোন করে জানতে চায় আমি কোথায় আছি। আমি বললাম, “বাড়িতে আছি।” তখন তারা বলে, “স্যার, সকালের খাবার খেয়ে স্কুলে চলে আসুন।”

আমি সকালের খাবার খেয়ে স্কুলে চলে গেলাম। গিয়ে দেখি পিকনিকের তালিকা তৈরি হয়েছে। কী কী বাজার করা লাগবে, তা নিয়ে আলোচনা করলাম। ষষ্ঠ শ্রেণিতে মোট ৩০ জন ছাত্রছাত্রী থাকলেও পিকনিকে অংশ নেয় ১৫ জন।

IMG_20250726_182716.jpg

তারা প্রত্যেকে দেড়শত টাকা করে দিয়েছে এবং আমি নিজে ১১০০ টাকা দিয়েছি। সব মিলিয়ে প্রায় সাড়ে তিন হাজার টাকার মতো উঠেছিল। টাকা তুলে

IMG_20250726_182742.jpg

আমরা বাজার করতে গেলাম। ৬ কেজি মুরগি, সাড়ে ৩ কেজি চাল এবং সাউন্ড বক্স বাবদ ১১০০ টাকা খরচ হয়। বাজারে সব মিলিয়ে ২২০০ টাকা খরচ হলো। এরপর বাকি টাকায় (৫০০ টাকা মতো) ১৫টি প্রান আপ (২০ টাকা করে) কিনলাম, যাতে ছাত্রছাত্রীদের খাবার শেষে ঠান্ডা পানি দেওয়া যায়।বাজার শেষ করে

দুপুর ১২টার দিকে আমি বাড়িতে ফিরে আসি।বাড়িতে এসে ফ্রেশ হয়ে আমার ওয়াইফকে বললাম, “তোমাকে স্কুল থেকে দাওয়াত দিয়েছে, রেডি হও।” সে শুরুতে যেতে চাইছিল না, কিন্তু আমার অনুরোধে রাজি হয়। এরপর সে রেডি হয়ে যায়।

দুপুর ২টায় স্কুল থেকে এক ছাত্র ফোন করে জানায় যে রান্না শেষ, এখন চলে আসতে বলেছে। আমি বললাম, “ঠিক আছে, আমরা ১০ মিনিটের মধ্যে পৌঁছে যাচ্ছি।

IMG_20250726_182840.jpg

” এরপর আমি ও আমার ওয়াইফ পায়ে হেঁটে ৮ মিনিটের মধ্যে স্কুলে পৌঁছাই। আমাদের দেখে সবাই খুশি হয়, বিশেষ করে আমার ওয়াইফকে দেখে ছাত্রছাত্রীরা বেশ আনন্দিত হয়।

আমি ও আমার ওয়াইফ স্কুলের অফিস কক্ষে প্রবেশ করি এবং কিছুক্ষণ ফ্যানের নিচে বসে বিশ্রাম নিই। ছাত্ররা এসে আমাদের সঙ্গে একটু কথা বলে। এরপর আড়াইটার সময় সবাইকে খাবার খাওয়ার জন্য ডাকা হয়।

আমার ছাত্ররা আমাদের আলাদা করে অফিস কক্ষে বসে খাওয়ার অনুরোধ করলেও আমি বললাম, “আমি ও আমার ওয়াইফ তোমাদের সঙ্গেই বসে খেতে চাই।” তখন আমরা সবাই একসঙ্গে ক্লাসরুমে বসে দুপুরের খাবার খাই। এই মুহূর্তগুলো সত্যিই দারুণ আনন্দের ছিল।

IMG_20250726_182754.jpg

খাবার খাওয়ার আগে কিছু ছবি তুলেছিলাম, যা এখানে শেয়ার করেছি। খাওয়া শেষে কিছু সময় অফিস রুমে বসে বিশ্রাম নিই।

IMG_20250726_192255.jpg

এরপর সাউন্ড বক্সে গান বাজানো হয় এবং আমাদের দুইজন ছাত্রী নৃত্য পরিবেশন করে, যা আমরা আনন্দের সঙ্গে উপভোগ করি।

আসরের নামাজের আগ পর্যন্ত আমরা স্কুলেই ছিলাম। নামাজের সময় হলে মেয়েদেরকে বাড়ি পাঠিয়ে দেই এবং ছেলেদের হাতে স্কুলের গেটের তালা ও চাবি বুঝিয়ে দিয়ে বলি, “সবকিছু পরিষ্কার করে গেট লক করে তবেই বাড়ি যেয়ো।” তারা রাজি হয়।

IMG_20250726_182807.jpg

আমি ও আমার ওয়াইফ বাড়ি ফেরার পথে, ওয়াইফ বললো, “পেসারটা মাপ দিবো।” তখন আমি বেলাল ভাইয়ের ওষুধের দোকানে নিয়ে যাই। পেসার মেপে দেখা যায় একটি ৯৫ এবং অন্যটি ৬০। ওষুধ বিক্রেতা কিছু ধারণা দিয়ে ১০টা ওর স্যালাইন দেয়।

সেখান থেকে সন্ধ্যার আগেই আমরা বাড়ি ফিরি। বাড়িতে ফিরে আমি স্কুলের খাতা দেখা শুরু করি এবং রাত ৮টা পর্যন্ত খাতা দেখি। এরপর রাত সাড়ে ৯টায় পরিবারের সবাই মিলে রাতের খাবার খাই।

রাত সাড়ে ১০টার দিকে মোবাইলে কিছু সময় কাটিয়ে ঘুমিয়ে যাই।


শেষ কথা:

এটাই ছিল আমার ঐদিনের সকল কার্যক্রম। আশাকরি আপনাদের ভালো লেগেছে। ভালো লাগলে অবশ্যই মন্তব্য করে জানাবেন। সবাই ভালো থাকবেন।আল্লাহ হাফেজ।

TQ.png

DeviceName
AndroidRealme C15
Camera8MP camera
LocationBangladesh 🇧🇩
Short by@hafizur46n

Picsart_23-01-14_15-48-49-892.png

Sort:  
Loading...