Better Life with Steem||The Diary Game|| 28 May 2026||

in Incredible India19 days ago (edited)

ঈদের দিনটা যেভাবে অতিবাহিত করলাম।

IMG_20260528_211424.jpg

প্রতিদিনের মতো সকাল সকাল ঘুম থেকে জেগে উঠি। আজকে একটু আগেই ঘুম থেকে জেগে উঠি।ঘুম থেকে জেগেই ফ্রেশ হয়ে রান্নাঘরের দিকে যাই। সেখানে গিয়ে দেখি আমার ওয়াইফ ও আমার বোন

IMG_20260528_125053.jpg

লাচ্ছি ও সেমাই রান্না করছে।তখন দেখলাম দুধও জ্বাল দিচ্ছে।আমি মজা করে বললাম, “আমাকে এক গ্লাস দুধ দাও।” কিছুক্ষণ পরে আমাকে এক গ্লাস গরম দুধ দেওয়া হলো।দুধটা খাওয়ার আগে একটি ছবিও তুলে রেখেছিলাম,যা আপনাদের মাঝে শেয়ার করলাম।

দুধ খেয়ে কিছুক্ষণ পরে ঘড়িতে দেখলাম সকাল সাতটা বাজে।যেহেতু আজ ঈদুল আযহার দিন এবং সাড়ে আটটায় ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হবে,তাই সরাসরি টিউবওয়েল পাড়ে গিয়ে গোসল করে ফ্রেশ হয়ে নিলাম।এরপর রুমে এসে সকালের নাস্তা খেতে চাইলাম।কিছুক্ষণ পরে নাস্তা দেওয়া হলে সুন্দরভাবে নাস্তা সম্পন্ন করি।নাস্তার পরে হালকা ঝাল মুখ করার জন্য কিছু বিরিয়ানি ডিম ভাজি দিয়ে খেয়েছিলাম।

IMG_20260528_132809.jpg

যাই হোক,সকাল আটটার মধ্যেই ঈদের নামাজের জন্য পুরোপুরি রেডি হয়ে যাই। আমি, বাবা, আমার বোনের জামাই এবং ভাগিনে সবাই একসাথে ঈদের নামাজ পড়ার জন্য ঈদগাহ মাঠের উদ্দেশ্যে রওনা দিই। মাঠে যাওয়ার পথে শাহিনদের বাড়ির পাশে একটি সুন্দর ফুলের গাছ চোখে পড়ে। ফুলগুলো এত সুন্দর লাগছিল যে মোবাইল বের করে একটি ছবি তুলে রাখলাম।

IMG_20260528_125158.jpg

ছবি তোলার পর আর দেরি না করে সরাসরি ঈদগাহ মাঠে চলে যাই।সেখানে গিয়ে দেখি অনেক মানুষ ইতোমধ্যে উপস্থিত হয়েছে এবং হুজুর বয়ান করছেন। আমরা গিয়ে বসে বয়ান শুনতে থাকি। সাড়ে আটটা পর্যন্ত বয়ান চলতে থাকে।এরপর মসজিদ ও হুজুরের জন্য কিছু টাকা তোলা হয়।তারপর সবাই ঈদের নামাজের জন্য কাতারে দাঁড়িয়ে যাই।

IMG_20260528_133614.jpg

নামাজ শুরু করার আগে হুজুর সবাইকে নামাজের নিয়ম বুঝিয়ে দেন।এরপর নির্দিষ্ট সময়ে ঈদুল আযহার দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ আদায় করা হয়। নামাজ শেষে খুতবা পড়া হয় প্রায় দশ মিনিটের মতো।পরে আরও কিছুক্ষণ মোনাজাত করা হয়। আল্লাহর দরবারে সবাই মিলে দোয়া করি।

IMG_20260528_092332.jpg

নামাজ শেষ করে আমরা বাড়ির দিকে রওনা দিই। ফেরার পথে কিছু ছবি তুলেছিলাম,

IMG_20260528_211424.jpg

যা আপনাদের মাঝে শেয়ার করলাম। বাড়িতে এসে আমাদের

IMG_20260528_133523.jpg

কোরবানির জন্য রাখা পোষা ছাগলটিকে কিছু খেতে দিই। ছাগলটিরও কয়েকটি ছবি তুলে রাখলাম। এরপর আমরা অটোতে করে মিনা বাজারের দিকে রওনা দিই।

IMG_20260528_133239.jpg

মিনা বাজারে পৌঁছাতে প্রায় পনেরো মিনিট সময় লেগেছিল।সেখানে গিয়ে দেখি অনেকেই গরু ও ছাগল নিয়ে এসেছে কোরবানির জন্য।

আমরাও আমাদের পোষা ছাগলটিকে একটি গাছের সাথে বেঁধে রাখি।মিনা বাজারের পরিবেশটা বেশ জমজমাট ছিল।সেখানে আরও কিছু ছবি তুলে রেখেছিলাম।

IMG_20260528_133400.jpg

আল্লাহর হুকুমে আজ আমরা কোরবানি করার নিয়ত করেছি।আল্লাহ তায়ালা যেন আমাদের কোরবানি কবুল করেন—এই দোয়াই করছিলাম। কিছুক্ষণ পর কোরবানি শুরু হয় এবং আমরাও আমাদের সেই পোষা ছাগলটি কোরবানি করি।

IMG_20260528_133220.jpg

সত্যি বলতে, অনেকদিন ধরে পালন করা ছাগলটি কোরবানি দিতে একটু খারাপ লাগছিল,তবুও আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সবকিছু মেনে নিয়েছি।

IMG_20260528_130320.jpg

আজকের পুরো দিনটাই প্রায় মিনা বাজারে কেটে যায়।কোরবানির কাজ শেষ হওয়ার পরে মাংস নিয়ে বাড়ির দিকে রওনা দিই।ফেরার পথে রাস্তার পাশে একটি সুন্দর লিচু গাছ দেখতে পেলাম।গাছভর্তি লিচু দেখে ভালো লাগলো,তাই একটি ছবিও তুলে রাখলাম।এরপর অটোতে করে মাংস নিয়ে বাড়িতে চলে আসি।

দুপুরে যেহেতু মিনা বাজারেই ছিলাম,তাই দুপুরের খাবার খাওয়া হয়নি।বাড়িতে ফিরে আসরের পরে প্রায় সাড়ে চারটার দিকে দুপুরের খাবার খাই। খাওয়া শেষ করে বিকেল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত বাড়িতেই ছিলাম।

বিকেলের দিকে বাবার প্রেসার একটু কমে গিয়েছিল মনে হলো।তাই বাবাকে নিয়ে মমিনের ফার্মেসিতে যাই। সেখানে ডিজিটাল মিটারের মাধ্যমে প্রেসার মাপা হয়।আগে বাবার প্রেসার হাই ছিল,কিন্তু এখন অনেকটা কমে গেছে।মমিন বলল,দুই একটি স্যালাইন খেলেই ঠিক হয়ে যাবে।

IMG_20260528_130148.jpg

তাই চারটি স্যালাইন কিনে বাড়িতে নিয়ে আসি এবং বাবাকে খেতে দিই।এরপর আমি, আমার ভাই এবং এলাকার কিছু ছোট ভাই মিলে বিকেলে আমাদের এলাকার বাধে যাই।সেখানে সন্ধ্যা পর্যন্ত সময় কাটাই। অনেক গল্প আড্ডা দিয়ে ভালোই সময় কেটেছিল। সন্ধ্যা সাতটার দিকে বাড়িতে ফিরে আসি।

বাড়িতে ফিরে পরিবারের সবার সাথে রাত ৮টা পর্যন্ত সুন্দর সময় কাটাই।এরপর রাতের নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমিয়ে পড়ি।

যাইহোক,এই ছিল আমার ঈদুল আযহার দিনের সম্পূর্ণ কার্যক্রম।আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে।যদি পোস্টটি ভালো লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই মন্তব্য করে জানাবেন।সবাই ভালো থাকবেন। আল্লাহ হাফেজ।

Sort:  
Loading...