Better Life with Steem||The Diary Game|| 29 May 2026||
আজকে একটু দেরিতেই ঘুম থেকে জেগে উঠি।কারণ আজ ছিল ঈদের পরের দিন,তাই তেমন কোনো ঝামেলা বা ব্যস্ততা ছিল না।এজন্য সকাল সাড়ে আটটার দিকে ঘুম থেকে উঠে সরাসরি টিউবওয়েল পাড়ে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে রুমে চলে আসি।রুমে আসতেই দেখি আমার আপু আমার ওয়াইফকে বলছে আপেল ও কমলা কেটে দিতে।কিছুক্ষণ পর ফল কেটে দিলে আমরা সবাই একসাথে বসে খেয়েছিলাম।
ফল খাওয়ার কিছু সময় পরে আবার সকালের খাবার খাই।সকালের খাবার শেষ করে রুমে বসে ছিলাম। এমন সময় ছোট ভাই জাকারিয়া আমাদের বাড়িতে আসে এবং আমাকে ডেকে নিয়ে যায়।এরপর আমি ও জাকারিয়া কিছু সময় একসাথে কাটাই এবং বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গল্প করি।
আমাদের বাড়ির সামনে একটি ব্রিজ আছে। আমরা দুজনে সেই ব্রিজের ওপর গিয়ে অনেকক্ষণ গল্প করছিলাম।কথা বলার ফাঁকে কয়েকটি ছবিও তুলে রেখেছিলাম,যা আপনাদের মাঝে শেয়ার করলাম। ঈদ কেমন কাটলো, কেমন লাগলো—এসব নিয়েও অনেক কথা হলো।শেষে জাকারিয়া জিজ্ঞেস করলো,
“শ্বশুর বাড়ি কবে যাবা?” তখন আমি বললাম, “বিকেল পাঁচটার আগেই যাবো ইনশাআল্লাহ।”
যাই হোক, অনেকক্ষণ গল্প করার পর আমরা দুজনই আবার যার যার মতো চলে আসি। আমি বাড়িতে ফিরে আসতেই আমার ওয়াইফ বলল, তার জুতা ছিঁড়ে গেছে।তখন আমি বললাম, “ঠিক আছে, একটু অপেক্ষা করো,আমি জুতা নিয়ে আসছি।” এরপর চলে গেলাম ছোট ভাই শিপনের দোকানে।
দোকানে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের জুতা দেখতে লাগলাম। অনেকগুলো জুতা দেখেও কোনোটা তেমন পছন্দ হচ্ছিল না।পরে দোকানদার একটি বস্তা থেকে আরও কিছু জুতা বের করতে লাগলো।সেখান থেকে অবশেষে একটি জুতা পছন্দ হলো।জুতাটি আমার নিজের কাছেও অনেক ভালো লেগেছিল, তাই সেটাই নিয়ে নিলাম।জুতা কেনার আগেও কয়েকটি ছবি তুলেছিলাম,যা আপনাদের মাঝে শেয়ার করলাম।
ছবিতে যে জুতাটি দেখতে পাচ্ছেন,সেটি আমার ওয়াইফের জন্য নিয়েছিলাম। জুতার দাম জানতে চাইলে দোকানদার বলল আড়াইশো টাকা। আমি বললাম, “২০০ টাকা রাখেন।” যেহেতু ছোট ভাইয়ের দোকান, তাই সে রাজি হয়ে গেল। এরপর ২০০ টাকা দিয়ে জুতাটি নিয়ে বাড়িতে চলে আসি।
বাড়িতে এসে জুতাটি ওয়াইফকে দিলে সে অনেক খুশি হয়। কারণ জুতাটি নাকি তার অনেক পছন্দ হয়েছে।যাইহোক,তখন ঘড়িতে দেখলাম দুপুর বারোটা বাজে।তাই আর দেরি না করে গোসলখানায় গিয়ে দুপুরের গোসল সম্পন্ন করলাম।
গোসল শেষে রুমে এসে দুপুরের খাবার খাই। খাবার শেষ করার কিছুক্ষণ পর আমার ওয়াইফ বলল, “চলেন, রেডি হন,আজ আমাদের বাড়িতে যাব।” তখন আমি বললাম, “বিকেল চারটার দিকে যাই।” সে বলল, “ঠিক আছে।”
যাই হোক, বিকেল চারটা পর্যন্ত বাড়িতেই ছিলাম। চারটা বাজতেই আবার বলল, “এখনো রেডি হননি?” তখন শ্বশুর বাড়ি যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হলাম। বিকেল সাড়ে চারটার দিকে আমরা নৌকা ঘাটের উদ্দেশ্যে রওনা দিই। কারণ আমার শ্বশুর বাড়ি যেতে নৌকা পার হতে হয়।
বাড়ি থেকে বের হওয়ার আগে মা-বাবা, বোন ও বোনের জামাইকে বলে বের হলাম। তাদেরও বলেছিলাম আমাদের সাথে যেতে, কিন্তু অনেক অনুরোধ করার পরও তারা রাজি হয়নি। তাই আমি ও আমার ওয়াইফ দুজনেই নৌকা ঘাটের দিকে চলে যাই।
নৌকা ঘাটে পৌঁছে অনেক সুন্দর দৃশ্য দেখতে পেলাম। ছবিতে সেগুলো শেয়ার করা হলো। দেখতে পেলাম একটি নৌকা থেকে অনেক মালামাল নামানো হচ্ছে।
এই ঘাটটির নাম সালাল নৌকা ঘাট। আগে এখানে খাল ছিল, বর্তমানে নদীর মতো হয়ে গেছে। পার হতে প্রায় বিশ মিনিট সময় লাগে।
আমরা কিছুক্ষণ নৌকার জন্য অপেক্ষা করলাম। একটু পরে নৌকা এলে নৌকায় উঠে বসি। নৌকার ভেতর থেকেও কয়েকটি সুন্দর ছবি তুলে রেখেছিলাম।
সত্যি বলতে,চারপাশের দৃশ্যগুলো অনেক ভালো লাগছিল।নদীর পানি, পাশ দিয়ে চলা নৌকা আর প্রকৃতির সৌন্দর্য মিলিয়ে এক অন্যরকম অনুভূতি হচ্ছিল।মনটা যেন প্রকৃতির মাঝে হারিয়ে যাচ্ছিল।
প্রায় বিশ মিনিট পর নৌকা গন্তব্যস্থলে পৌঁছায়। এরপর সেখান থেকে একটি অটো ভাড়া করে শ্বশুর বাড়ির দিকে রওনা দিই। দুইজনের ভাড়া ৬০ টাকা দিয়েছিলাম। কিছুক্ষণ পর আমরা শ্বশুর বাড়িতে পৌঁছে যাই।
শ্বশুর বাড়িতে পৌঁছালে সবাই অনেক খুশি হয়। আমরা সবার সাথে ভালো-মন্দ জিজ্ঞেস করি।এরপর ফ্রেশ হয়ে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিই।একটু পরে আমাদের খাবার দেওয়া হয় এবং আমরা সবাই মিলে খাবার খাই।
মাগরিবের আগ পর্যন্ত শ্বশুর বাড়িতেই ছিলাম। এরপর মাগরিবের পরে শ্বশুর বাড়ির এলাকার একটি বাজারে যাই।সেখানে গিয়ে একটি স্পিড খেয়েছিলাম।তারপর বাজারে কিছু সময় ঘোরাঘুরি করে রাত আটটার দিকে আবার শ্বশুর বাড়িতে ফিরে আসি।
রাতে সবাই একসাথে বসে খাবার খাই।এরপর রাত দশটা পর্যন্ত শ্বশুর বাড়ির লোকজনের সাথে গল্প-আড্ডা দিয়ে সময় কাটাই।এভাবেই দিনটি কেটে যায়। পরে রাত সাড়ে দশটার দিকে ঘুমিয়ে পড়ি।
যাইহোক,এই ছিল আমার সেই দিনের সকল কার্যক্রম।আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে।যদি পোস্টটি ভালো লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই মন্তব্য করে জানাবেন।সবাই ভালো থাকবেন।আল্লাহ হাফেজ।









