কার্তিক - ৩ য় পর্ব
নমস্কার বন্ধুরা, আশা করছি আপনারা সকলে সুস্থ আছেন।। আজকে নিয়ে এসেছি কার্তিকের আর এক পর্ব।
গত পোস্টে যেখানে শেষ করেছিলাম তার পর থেকে শুরু করছি।কার্তিক ঠাকুর রাখার পরে আমরা সবাই মিলে আবার গাড়িতে উঠে গিয়ে একদম ওদের বাড়ির যে পিঠে তার ঠিক উল্টো পিঠে রাস্তার ওপারে গিয়ে গাড়ি একটা সাইট করে রেখে তার মধ্যে চুপটি করে বসে রইলাম।
আর আমাদের সাথে ছিল আমাদের পাশের বাড়ির ভাই শুভ । সেই সময় দুম করে একটা পটকা ফাটালো ও। চকলেট বোম। সেকি আওয়াজ । ওরা ওই পটকাটা ফাটাতে ওদের বাড়ির কাছাকাছি চলে গিয়েছিল শুধুমাত্র রাস্তার এপিটে আমরাই ছিলাম।
একটা পটকা ফাটানোর পর ওরা সোজা লুকিয়ে পড়েছিল বাড়ির সামনে রাখা একটা ট্রাক্টরের পেছনের দিকে। আর এদিকে আমরা রাস্তার এপার থেকে দেখতে পাচ্ছিলাম সব কিছু। কিন্তু বাড়ি থেকে কেউ বেরোচ্ছে না বুঝতে পারলাম ।তবে ওদের বারান্দার গ্রিলের ফাঁক দিয়ে ওরা কার্তিক ঠাকুরের মুখ দেখছে এবং কার্তিক ঠাকুর দেখে রীতিমত সারপ্রাইজ হয়ে আনন্দে নাচানাচি করছে। একটা লাঠি দিয়ে কার্তিক ঠাকুরের হাত থেকে কাগজটাও নিয়ে নিয়েছিল ,সেটা শুভ দেখতে পেয়ে আমাদের জানাচ্ছিল।
এ সমস্ত খবর আমরা ফোনে সব শুনছিলাম। রাস্তার এপার থেকে ওপার। এসব করতে করতে যখন দেখছি ওরা কিছুতেই বার হচ্ছে না, তখন আবার একটা পটকা ফাটালো ওরা। পটকা ফাটানোর আওয়াজ এ আশেপাশের লোকজন কয়েকজন বেরিয়ে আসলো কিন্তু কিছুতেই জেঠু র বাড়ির লোকজন বার হচ্ছে না।।
তারপর হট করে দেখি একটা বড় কাস্তে নিয়ে আমাদের উত্তম জেঠুর ছোট মেয়ে নেহা আর একটা বড় ঝাঁটা নিয়ে পূজা রাস্তার উপরে বার হয়ে এসেছে। চারিদিকে খোঁজাখুঁজি করছে রাতের বেলায় ।ওদের পাগলের মত এরকম খোঁজাখুঁজি করতে দেখে রাস্তার ওপার থেকে আমরা রীতিমতো হাসাহাসি করছি। বেচারা কিছুতেই বুঝতে পারেনি, অপজিট প্রান্তে আমরা গাড়ি রেখে দাঁড়িয়ে থাকতে পারি।।
হাসাহাসি পর্ব শেষ হলেও কার্তিক তো ওরা ঘরে তুলছেনা। এইবার কি করা যায় ? অবশেষে একটা unknown নাম্বার থেকে ফোন করে কার্তিক দেওয়ার একটা অডিও প্লে করে আমার শোনাতে লাগলাম তাদের।। যেখানে একটা ছোট্ট বাচ্চা বলছিল - আমার ঠান্ডা লাগছে ,আমাকে কোলে তুলে নাও। আশা করি এই অডিও অনেকেই শুনে থাকবেন। বারংবার এরকম ফোন করে বলার পর কার্তিক ঠাকুর ওরা ঘরে তুলল। এই অডিও আমরা ইউ টিউব শর্টস এ পেয়েছিলাম।
তারপর আর কি ,আমরা লাস্ট আর একটা পটকা ওদের বাড়ির ওখানে ফাটিয়ে গাড়ি নিয়ে সোজা টানটান ছুটে বার হয়ে গেলাম। ওইটুকুনি সময় এর মধ্যে যেভাবে আমরা হাসাহাসি করেছি সবাই মিলে ।আমি সারা জীবন মনে রাখব। কারণ এই ঘটনা মনে রাখার মতন।
আমরা বাবা মায়ের সাথে সব বাচ্চা কাচ্চা মিলে একসাথে কার্তিক ফেলতে গিয়েছি। এই দৃশ্য কখনো ভোলা যায়!!!? তার পরের ঘটনাগুলো পরের পোস্টে শেয়ার করব।আজকে এখানেই শেষ করছি।
তবে ঘটনাটা আপনাদের সাথে শেয়ার করতে পেরে অনেক ভালো লাগলো। সকলে ভালো থাকুন।


