লাগেজ প্যাকিং এর প্রেসার
নমস্কার বন্ধুরা, আশা করছি আপনারা সকলে সুস্থ আছেন। গতকাল আমি আপনাদের সাথে ঘুরতে যাওয়ার আগে মুহূর্তগুলো শেয়ার করছিলাম। যেখানে লাগেজ প্যাকিং নিয়ে পুরো পোস্টটা ছিল। আজ তারপর থেকেই লেখা শুরু করছি। আমার মায়ের ঘুরতে যাওয়ার জন্য লাগেজ প্যাকিং চলছিল।
আসলে যে মানুষ যে পোশাকে কম্ফোর্টেবল থাকে। মা যতক্ষণ ধরে আমার আলমারি ঘাটলো ,ততক্ষণে আমি চুপ করে মাকে হেল্প করছিলাম। স্বাভাবিকভাবেই রাত যখন দশটা সাড়ে দশটা বাজে ,তখনো আমার কোন কিছু গোছানো হয়নি।। যেহেতু অতক্ষণ ধরে মাকে হেল্প করছিলাম। সবথেকে বেশি রাগ হচ্ছিল, এত ঘাটাঘাটি করার পরেও মা শুধুমাত্র একটা ড্রেস আর একটা চুড়িদার নিয়েছিল। বাকি সব শাড়ি।
আমি অবশেষে পাগলের মতন অবস্থায় পৌঁছে যাই এবং মৌসুমী বৌদিকে ফোন করতে বাধ্য হই। একমাত্র ওই মানুষটাই রয়েছে যে ওকে বসিয়ে রেখে আমি ভালোভাবে ডিসাইড করতে পারব ,যে কোনটা নেয়া উচিত আর কোনটা নেওয়া উচিত নয়। ওকে ফোন করাতে জানতে পারলাম, ওর আসতে ৫ মিনিট লেট হবে, যাইহোক ও তাও তাড়াতাড়ি চলে আসলো। তারপর আমাকে হেল্প করতে শুরু করল।
বিছানার একটা ছবি দিচ্ছি ।ওই সময় ছবিটা তুলতে বৌদি ই মনে করিয়েছে। কারণ ওই সময় আমার ছবি তোলার কথা একদম মনে ছিল না।। ওর জন্য আমার অনেকগুলো জামা সিলেক্ট করা হলো। তার মধ্যে সবকিছু যে নিয়ে এসেছি তাও নয়। যে কটা জামা নেওয়ার মতন মনে হলো, সেগুলো আলাদা করে সাইড করে রেখে, সারা বিছানা জুড়ে যে জামা কাপড় পড়েছিল বা বাকি জিনিসপত্র পড়েছিল সেগুলো সব আলমারিতে ভাজ করে রাখলাম। বৌদি বেশিরভাগটাই ভাঁজ করল।।
তারপর সদ্য ফিরে আসা মামার বাড়ি থেকে ট্রলিটা বক্সের মধ্যে রাখা ছিল, সেটাকে বার করা হলো। তারপর কাপড় জামা গুলো ট্রলির মধ্যে পুড়তে শুরু করলাম। কিছু জামা এই মুহূর্তে বাদও দিলাম ।
এখন তো ফিরে এসেছি ,তাই সত্যি বলতে মনে হচ্ছে ,ফালতু ফালতু তিন-চারটে জামা এক্সট্রা নিয়ে যাওয়া পড়েছে। বাবা সব সময় বলে, দূরে ঘুরতে গেলে লাগেজ কম করতে। কিন্তু মেয়েদের লাগেজ সত্যিই কম হয় না। শুধু জামা কাপড় নিলে তো নয় ,তার সাথে থাকে জুয়েলারি, সানগ্লাস, স্কিন কেয়ারের প্রোডাক্ট। সব থেকে বেশি সানস্ক্রিন, যেহেতু বিচ সাইটে যাওয়া, এছাড়াও ব্যাগ, যাবতীয় আরও কত কিছু।
রাতের মধ্যে সব কিছু গোছানো মোটামুটি কমপ্লিট ।তখন বাজে বারোটা ,আমি শুতে আসলাম। শোয়ার পরে মোবাইলে একটু ঘাটাঘাটি করলাম যে, পুরীতে কোথায় কোথায় দেখার জায়গা রয়েছে। দেখতে পেলাম, রয়েছে পুরীর জগন্নাথ টেম্পেল ,পুরির বিচ সাইট, কোনারক মন্দির ,নীলাদ্রি বলে একটা বীচ। এর সাথেও ভুবনেশ্বরের দিকে রয়েছে খণ্ডগিরি, উদয়গিরি, ধবলগিরি ,নন্দনকানন। আরো বিভিন্ন জায়গা।
এইসব দেখে আমি শুয়ে পড়লাম ।তবে সারারাত ঘুমটা কিন্তু পরিষ্কার হয়নি ।কারণ স্বাভাবিকভাবে হঠাৎ করে এত প্ল্যান, এত তোরজোর, আর পরের দিন প্রচুর কাজ, এই সমস্ত চিন্তা ভাবনায় ঘুমটা ঠিকভাবে হয়নি।।
এই বিষয়টা প্রতিবার আমার সাথে হয়। কোন জায়গায় ঘুরতে যাওয়ার আগে কোনভাবেই ঘুম আসে না। আমার মনে আছে যখন আমি ক্লাস টুয়েলভে পড়ি, স্কুলের এক্সকারশনে পুরুলিয়া গিয়েছিলাম বরন্তি তে। যাওয়ার আগের দিন রাতে আমি সারারাত ঘুমোতে পারিনি। আপনাদের সাথেও কি তাই হয়?
আজ এখানেই শেষ করলাম ।সকলে ভালো থাকুন।



