জন্মদিন - শেষ পর্ব
নমস্কার বন্ধুরা, আশা করছি আপনারা সকলে সুস্থ আছেন। আজকে আমি আপনাদের সকলের সাথে শেয়ার করতে চলেছি আমার জন্মদিনের শেষ পর্ব। গত পোস্টে যেখানে লেখা শেষ করেছিলাম তারপর থেকেই আজকে লেখা শুরু করছি।
সমস্ত কিছু হয়ে যাওয়ার পরে আমি সবার সাথে চলে গেলাম নিচে। নিচে তখন খাওয়া-দাওয়ার পর্ব চলছে। সেদিনকে তো সেইভাবে কাউকে ইনভাইট করা হয়নি ।হঠাৎ করেই সবাই এসে হাজির। তাই ওইটুকুনির মধ্যে শুধুমাত্র রাতে আয়োজন করা হয়েছিল লুচি আর আলুর দম আর ছিল মিষ্টি, পায়েস।
আসলে মায়ের শরীরটা বিগত বহু মাস ধরে খারাপ ।রীতিমতো ডাক্তারের আন্ডারে চেকআপে রয়েছে মা ।এখনো মায়ের ওষুধ চলছে এবং শরীর একেবারেই দুর্বল।। তাই বাড়িতে বেশি হইহুল্লোড় আমরা কেউ করছি না।
জন্মদিনটাও তাই ছোটখাটভাবে সেলিব্রেশন করব অথবা কেক কেটে ছেড়ে দেবো ভেবেছিলাম। কিন্তু সবাই আসাতে জন্মদিন টা একটু অন্যরকম হয়ে গেল। যাই হোক খাওয়া দাওয়া পর্ব চলতে চলতে হঠাৎ করে দেখি আমার বাবা ওদিকে আগুন পোহাবে বলে আয়োজন করে বসেছে।
আমার জন্মদিন ভরা পৌষ মাস, ভীষণ ঠান্ডা!!!। বলতে গেলে অত্যাধিক ঠান্ডা। তাই আগে থেকেই আগুন পোয়ানোর জায়গা রেডি ছিল। বাবা সমস্ত কাঠ দিয়ে আবার আগুন ধরালো ।সবাই মিলে খেতে খেতে আগুনের কাছে চলে আসলো ।আগুন পোহাতে পোহাতে অনেকে খাওয়া-দাওয়া শুরু করল। সবার সাথে তাল মিলিয়ে আমার পার্টনারও আগুনের পাশেই বসে পড়ল।
খাওয়া-দাওয়া শেষ করে সবাই মিলে বাড়িঘর অন্ধকার করে আগুনের পাশে বসে হাত গরম করতে লাগলাম। সবার সাথে বসে আড্ডা দিচ্ছিলাম। আর আগুনে হাত শেখছিলাম। এত ভালো লাগছিল এই মুহূর্তটা !কিছুটা ছবি ক্যাপচার করেছি। ছবিতে তো আর মুহূর্ত বোঝা যায় না অনুভূতিও বোঝা যায় না ,তবে সবাই মিলে থাকার আনন্দই আলাদা।
এসব হতে হতে হঠাৎ করে আমার পাগলটার কি যে হল !বলে পনির পুড়িয়ে খাবে। বাড়িতে পনির নেই। অত রাতে পনির কোথায় পাবো। তারপর জিও মার্টে অর্ডার করলাম পনিরের একটা প্যাকেট। সেই প্যাকেট আসার পরে পনিরের সাথে হলুদ, নুন, জিড়ের গুঁড়ো, সামান্য শুকনো লঙ্কার গুঁড়ো মাখিয়ে তারের মধ্যে করে ঢুকিয়ে আগুনের উপর ধরে থাকলো সবাই, আর এইভাবে পনির পোড়া বা পনির ভাজা হয়ে গেল।।
এইটা করে যে সবার কেন এত আনন্দ লাগলো তার সারসংক্ষেপ আমি নিজেও জানিনা। মানুষ কত কিছু করে আনন্দ পায়। শীতকালে আগুনের পাশে বসে লুচি আলুর দম খেয়ে আনন্দ পেল আবার কাঁচা পনি র মসলা দিয়ে মাখিয়ে সেটাকে আগুনে পুড়িয়েও মানুষের আনন্দ হল।
যাইহোক সত্যিই ভালো সময় কেটেছে সবার সাথে। আপনাদের সাথে সমস্ত মুহূর্তগুলো শেয়ার করতে পেরে আমার আজকে অনেক ভালো লাগলো। অনেক অনেক ধন্যবাদ সেই সকল মানুষগুলোকে যারা আমার জন্য ভাবে এবং আমাকে ভালবাসে, সাথেই আমার ভালোবাসার মানুষটাকে যে সবকিছুর মধ্যেও একটু হলেও আমাকে প্যাম্পার করার চেষ্টা করে। ছোট ছোট এই আনন্দের মুহূর্তগুলো জীবনে বেঁচে থাকুক এটাই চাই। আজ এখানেই শেষ করছি। সকলে ভালো থাকবেন।







Curated by: @pandora2010