পুরী - শেষ বিকেল
নমস্কার বন্ধুরা, আশা করছি আপনারা সকলে সুস্থ আছেন।। আজ প্রায় অনেক দিন পর পোস্ট লিখতে আসলাম। এতদিন পর আবার প্ল্যাটফর্মে এসে নিজের গুরুত্বপূর্ণ এবং অত্যন্ত মেমোরেবল সময় গুলো শেয়ার করতে পেরে খুব ভালো লাগছে।।
গত পোস্টগুলো খেয়াল করলে দেখতেই পাবেন আমি পুরী ভ্রমণের পোস্ট লিখছিলাম। মোটামুটি অনেকগুলো পোস্ট আগে থেকেই আমার ফোনের নোটস এ লিখে রেখেছিলাম। এখনো অব্দি সেগুলো শেষ হয়নি। তবে বিভিন্ন রকম কারণে মাঝে লিখতে আসা হয়নি। তার জন্য অত্যন্ত দুঃখিত।
১২ই মে মঙ্গলবার পুরীতে শেষ দিনের সকালের স্নান নিয়ে লিখেছিলাম। তারপর কি কি করলাম সেটাই আজ ধাপে ধাপে শেয়ার করি। সমুদ্রে স্নান করতে নামলে কারোরই সমুদ্র থেকে উঠতে ইচ্ছা করে না। যেত আমাদের টিমে আমরা চারজন মতন ভাই-বোনেরা ছিলাম। তাই আমাদের মজাটা অত্যাধিক ছিল।
সমুদ্র থেকে উঠছিলাম না বলে রীতিমতো প্রত্যেকদিন বকা খেতে হত বাবার কাছে অথবা দাদাদের কাছে।। আমি সমুদ্রে প্রথম তো নামতাম না যখন সবার উঠে যাওয়ার সময় তখন গিয়েই আমার সমুদ্রে নামার উৎসাহ জাগত। সমুদ্র থেকে তখন আর উঠে আসতে ইচ্ছা করত না। সকলে যখন সমুদ্র এ স্নান করতে নেমে যেত তখন আমার কাজ ছিল সকলের ছবি তুলে দেওয়া। এই করতে করতেই সময় পেরিয়ে যেত।

সব ছবি তোলা হয়ে যাওয়ার পর আমার পালা। গ্রুপের মধ্যে সব সময় আমিই একমাত্র মানুষ থাকি যাকে দিয়ে সবাই ছবি তোলায়। আর অবশেষে আমার ছবির জায়গায় খুব হতাশ হতে হয়। কারণ সবাই ঠিকমতো ছবি তুলতে পারে না। তাও আমার ভাই সেক্ষেত্রে অনেকটাই শিখেছে আমার কাছ থেকে।
সমুদ্র থেকে উঠে সেদিনকে আগে হোটেলে ফিরলাম তারপর ফ্রেশ হয়ে খাওয়া-দাওয়া সেরে নিলাম। খাওয়া দাওয়া ছেড়ে উঠতে উঠতেই বেলা হয়ে গেল। আর আমাদের যাওয়ার কথা ছিল দু জায়গায়। বিকেলের আর সন্ধ্যের মুহূর্তটা ওই দু জায়গা দেখেই আমরা কাটাবো ভেবেছিলাম। তারপর রাতের প্ল্যান তো কেনাকাটাতে ছিল।
সেদিন যে ঈশানের জন্মদিন ছিল আগেই বলেছি। তাই সেটারও একটা প্ল্যান ছিল। বিকেল বেলায় ঝটফট রেডি হয়ে বেরিয়ে পড়েছিলাম গুপ্ত বৃন্দাবন দেখার উদ্দেশ্যে। আমাদের হোটেলের রুম থেকে দশ মিনিটের রাস্তা। তবে সেখানে গিয়ে আমার মোটেই ভালো লাগেনি। মূর্তিগুলো হয়তো থিম অনুযায়ী বেশ ভালোভাবেই করা। কিন্তু আমার খুব একটা জায়গাটা ইন্টারেস্টিং লাগেনি। কেমন যেন আমাদের কৃষ্ণনগরে জগদ্ধাত্রী পুজোর প্যান্ডেলের মতন লাগছিল। এই কথাতে কেউ কিছু মনে করবেন না এটা একেবারেই আমার নিজস্ব মতামত।
ওখান থেকে বেরিয়ে চলে গিয়েছিলাম নীলাদ্রি বীচে। এই বীচটার কথা বহুবার শুনেছি বিভিন্ন ভিডিওতে। আমার যাওয়ার ইচ্ছা ছিল একটু বেলা থাকতে থাকতে। ওখানে বিভিন্ন জিনিসপত্র দিয়ে আর্টিস্টিক বিভিন্ন কাজ দিয়ে বীচ সাজানো-গোছানো। সেটা দেখতে অবশ্যই একটু বিকেলের দিকে আসতে হতো। যেহেতু প্রথমে গুপ্ত বৃন্দাবনে অনেকটাই দেরি করেছে সবাই। তাই নীলাদ্রি বীচে পৌঁছতে পৌঁছতে সন্ধ্যে লেগে গেল।
তাও প্রবেশ করলাম ভেতরে। জায়গাটা অস্বাভাবিক সুন্দর। বিকেলের সমুদ্রে ওই জায়গাটার ভিউ এবং ফটোগ্রাফি কতটা যে সুন্দর উঠত তা ওখানে গিয়েই বুঝতে পারলাম।। কিন্তু আমার প্রচন্ড পরিমাণে আফসোস থেকে গেল। রাতের ছবি স্বাভাবিকভাবে অত ভালো আসবে না। সমুদ্রে যাওয়া মানেই প্রকৃতির ছবি তোলা। তাই এই আফসোসটা নিয়েই আমি বাড়ি এসেছি।
নীলাদ্রি বীচে আমরা সবাই কিছুক্ষণ সময় কাটিয়ে আবার রওনা দিলাম মার্কেটের উদ্দেশ্যে। পরবর্তী পোস্টে সেটা নিয়ে আলোচনা করব।




