পয়লা বৈশাখ - ২ য় পর্ব
নমস্কার বন্ধুরা। আশা করছি আপনারা সকলে সুস্থ আছেন। পয়লা বৈশাখের মুহুর্ত আপনাদের সাথে শেয়ার করছিলাম । গতকাল যেখানে শেষ করেছিলাম, আজ সেখান থেকে শুরু করছি।
কিছুদিন আগেই আমি আমার মায়ের কথামতো একটা মাটির ঘট সুন্দর করে রং করে তাতে আঁকিবুকি করেছিলাম। আসলে গোটা বৈশাখ মাস জুড়ে যেহেতু প্রচন্ড গরম থাকে ,সেহেতু মা তুলসী গাছের ওপর দিকে এই ঘটটা টাঙিয়ে রাখে, তাতে ঘটের নিচের দিকটাই একটা ছিদ্র করে রাখে এবং ওই ছিদ্র দিয়ে তুলো গুঁজে দেয় ,
যাতে সেই তুলো বরাবর জলটা পাস করে গাছে ফোঁটা ফোঁটা পড়তে পারে ,আর মাটিটা সবসময় ভিজে থাকে । তুলসী গাছের ওপর দিকটা এমন ভাবে ঝুলিয়ে দেয়া হয় ঠিক গাছ বরাবর।
এই পদ্ধতির কথা শুনে আমার পার্টনারের মাও আমাকে আর একটা ঘট রেডি করে দিতে বলেছিল। তাই সকাল বেলায় স্নান সেরে সেই কাজটা করতে বসেছিলাম। দেখতে দেখতে ঘটটা রং করে সুন্দরভাবে নকশা করাও হয়ে গেল। আমার এই বাড়ির ঘটটা একটু ছোট ছিল, আর ওই বাড়ির ঘটটা একটু বড়। দুটো ঘট এর ছবি দেয়া থাকল, আপনাদের কোনটা ভালো লাগছে জানাবেন।
সন্ধ্যাবেলায় আমি আমার পার্টনারের দেয়া নতুন জামাটা পড়ে নিলাম। সেজেগুজে নিলাম হালকা করে। তারপর মৌসুমী বৌদি ,আমি আর আমার পার্টনার মিলে বেরিয়ে পড়েছিলাম মার্কেটের দিকে ।যেসব দোকান থেকে নিমন্ত্রণ এসছে সেসব দোকানে ওদেরও নিমন্ত্রণ। তাই আমার বাড়ির হালখাতা করার দায়িত্ব আমার উপরে চেপেছিল। তিনজনে মিলে ঘুরে ঘুরে হালখাতা করার মজাই আলাদা ।
আমার বাবা আর মা বাড়িতেই ছিল ।ওরা রাতে বেরোবে ঠিক করেছিল। তিনজন মিলে বেরিয়ে প্রথমেই চলে গিয়েছিলাম আগমনী বাসন্তী বস্ত্রালয়। সেখান থেকে একটা জামা কেনার ছিল। জামাটা কেনা হয়ে যাওয়ার পর ওখান থেকে বেরিয়ে চলে গেলাম সোনার দোকানে। সোনার দোকানে ঢুকতেই হাতে দিয়ে দিল কর্নেটো। আইসক্রিম।
সবাই মিলে আইসক্রিম খেলাম আর সাথে কাকু একটা মিষ্টির ব্যাগ ধরিয়ে দিল সবার জন্যই। ওই সোনার দোকান থেকে আমরা তিনজনই মোটামুটি জিনিস কিনেছি। ওইখান থেকে বেরিয়ে আবার আর একটা দোকানে গেলাম সেটাও সোনার দোকান।। যাইহোক এর মাঝেই কাকিমা অর্থাৎ আমার পার্টনারের মা আর আমার ভাই আমাদের সাথে জয়েন করেছিল।
অন্য আরেকটা সোনার দোকানে গিয়ে সেখানেও আইসক্রিম। সেদিনকে যে আমরা সবাই কটা আইসক্রিম খেয়েছি তার নেই ঠিক। তারপর সেখানেও মিষ্টির প্যাকেট সবাইকে একটা করে। নতুন খাতা খুলেছে বলে আমি দুটো সোনার দোকানে অল্প অল্প করে টাকা দিয়ে রাখলাম ,যেহেতু পরবর্তীতে আমার সোনার জিনিস লাগবেই বানাতে।।
এসব হয়ে যাওয়ার পরে হাঁটতে হাঁটতে আবার বেরিয়ে পড়লাম অন্য দোকানের উদ্দেশ্যে। চলে গিয়েছিলাম আরো একটা সোনার দোকানে, ওই দোকানটা আমার বাবার বন্ধুর দোকান। ওরা বরাবরই নিমন্ত্রণ করে থাকে ।তবে ওখানে আমার বাড়ির লোকজনের নিমন্ত্রণ ছিল ।তাই ওরা কিছুক্ষণ রাস্তাতেই আমার জন্য ওয়েট করল ।আর আমি আর ঈশান মিলে শুধু ওই দোকানে ঢুকলাম। সেখানে ঢুকেও প্রথমে কোলড্রিংস খেলাম। তারপর সেখানেও আমাদের মিষ্টি দিলো।
আজকে এখানে শেষ করছি । সকলে ভালো থাকুন। পরের পোস্টে বাকি কথা শেয়ার করব।






