কালীপুজো - ১ ম পর্ব
নমস্কার বন্ধুরা, আশা করছি আপনারা সকলে সুস্থ আছেন। আজকে আমি আপনাদের সকলের সাথে শেয়ার করতে চলেছি কালীপুজোর কিছু মুহূর্ত।
বাঙালির সারা বছর ধরে বিভিন্ন উৎসব লেগে থাকলেও কিছু কিছু উৎসবে বাঙালি একটু বেশিই মেতে ওঠে ।তার মধ্যে সবথেকে বড় উৎসব হলো দুর্গাপুজো, তারপরেই থাকে কালীপুজো আর সরস্বতী পুজো, আজকে আমি কালীপুজো নিয়েই কথা বলছি। কারণ কিছুদিন আগে কালীপুজো হয়ে গেল ।
কালীপুজো অর্থাৎ দীপাবলীর সময় চারিদিকটা আলোয় আলোকিত হয়ে ওঠে, পুজোর সময় হরেক রকম লাইট আর চারিদিকটা সাজানো গোছানো থাকে। তবে কালীপুজোর সময়ে রাস্তাঘাট এমনকি সকলের বাড়ি, বেশ সুন্দর করে লাইটে সেজে ওঠে। দীপাবলীর এই সময়টা একদম অন্যরকম দেখতে লাগে। একবার এই দৃশ্য আমি প্লেন থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছিলাম।
সেইবার দুর্গা পুজোর পরেই চলে গিয়েছিলাম কাশ্মীর। কাশ্মীর থেকে যখন আসি কালীপুজোর আগের দিন ছিল। প্লেনের মধ্য থেকে জানলা দিয়ে কলকাতা শহর এবং আশেপাশের এলাকাগুলোকে অপূর্ব লাগছিল। যেন মনে হচ্ছিল অসংখ্য তারা। যেন মনে হচ্ছিল তারাদের রাজ্যেই বোধহয় এবার প্লেনটা ল্যান্ড করতে চলেছে।
দীপাবলীর সময়টা চারিদিকে আলোয় আলোকিত হয়ে থাকে। দুর্গাপুজোর দশমীর ঘন্টা বাজলেই মনটা কেঁদে ওঠে ,সেই শোকটাকে অনেকটাই দূর করিয়ে দেয় এই কালী পূজার সময়টুকু। আমাদের বাড়িটা রেনোভেশন করার পর সাজালে কেমন লাগবে সেটাই ভাবছিলাম কালীপুজোর আগে। লাইটের লোককে ডাকার আগে যখন লাইটগুলো খোঁজাখুঁজি চলছিল , তখন কিছুতেই এক ব্যাগ লাইট আমরা আর খুঁজে পেলাম না।
বুঝতে পারলাম বাড়িতে যখন কাজ চলেছে ,তখনই লাইটগুলো যে কোথায় চলে গেছে। তা এখন খোঁজা করা সম্ভব নয়।। এক ব্যাগ ভর্তি লাইট ছিল ,সাথে ছিল আমার পছন্দের তারা লাইটগুলো। সবকিছুই হারিয়ে গেছে ।আসলে বাড়িতে কাজ চললে,কোথাকার জিনিস যে কোথায় রাখা হয় তখন ,আমরা নিজেরাই টের পাইনা। তার ওপর আমাদের কারখানাতেও কিছু জিনিস পাঠানো হয়েছে, হয়তো তার মধ্যেও চলে যেতে পারে।
এ কারণে খোঁজাখুঁজি বাদ দিয়ে অবশেষে বাবা আবার ৫০০০ টাকা খরচ করে প্রচুর লাইট কিনে নিয়ে আসলো। আর পুজোর আগের দিন লাইটের লোক এসে সারা বাড়ি এরকম লাইট সাজিয়ে দিয়ে গেল সকাল থেকে। বিকেল বেলার পর যখন আলো জাললাম, বাড়িটাকে অপূর্ব সুন্দর দেখতে লাগছিল। তারই ছবি আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করব বলে , ছবি তুলে রেখেছিলাম।
অমাবস্যা লাগলে কালী পুজো শুরু হয় আর তার আগের দিনেই থাকে কিছু বাঙালি নিয়ম। আমাদের বাড়িতে ১৪ শাক খেয়ে ১৪ প্রদীপ দেওয়ার নিয়ম আছে সেদিন । পূর্বপুরুষদের উদ্দেশ্যে দীপ দান করা হয় সেদিন।
প্রত্যেক বছর আমার বাবা আমার ঠাকুর দাদা, ঠাকুমা এবং আরো আমাদের পরিবারের যারা গত হয়েছেন ,তাদের উদ্দেশ্যে দীপ দান করে থাকে। আমি সকালবেলা থেকে সমস্ত প্রদীপ সাজিয়ে রাখি। প্রদীপ গুলো নিজের হাতেই বানাই। সেদিন যেসব প্রদীপ ব্যবহার করি সেগুলো সব আমি নিজের হাতেই বানিয়ে থাকি। সারাদিন প্রদীপ বানিয়ে একটু রোদে শুকানোর পর তারপরে সন্ধ্যেবেলায় সেই প্রদীপ ব্যবহার করা হয়।
পাটকাঠি তিনটে এক জায়গায় করে একটা স্ট্যান্ড এর মতন বানিয়ে তার উপর প্রদীপ রাখা হয়। তারপর সারা বাড়ি জুড়ে প্রদীপ দিয়ে বাড়ি সাজানো হয় সন্ধ্যাবেলায়। প্রধানত ১৪ টা প্রদীপ অবশ্যই লাগে ।তার সাথে আরো প্রদীপ এক্সট্রা লাগলে , সেটাও ব্যবহার করা যেতে পারে।। প্রত্যেকটা ঘরের দরজায় সেদিন প্রদীপ জ্বলে।
ছোটবেলায় যখন দাদু বেঁচে ছিলেন ,তখন দাদুর সাথে বসে বসে আমি আর দাদু মিলে পূর্বপুরুষদের উদ্দেশ্যে প্রদীপ দান করতাম। আজ তুলসী তলার সামনে বাবাকে যখন ওরম ভাবে প্রদীপ দান করতে দেখি ,মনটা খুব ভার হয়ে যায়। বাবার মধ্যে দাদুকে খুঁজে পাই।
আজ এখানেই শেষ করছি।








Thank you for sharing on steem! I'm witness fuli, and I've given you a free upvote. If you'd like to support me, please consider voting at https://steemitwallet.com/~witnesses 🌟