নতুন বছরের আনন্দে

in Incredible India3 days ago

নমস্কার বন্ধুরা। আশা করছি আপনারা সকলে সুস্থ আছেন। আজকে প্রায় ২৬ দিন পর আমি পোস্ট করছি ।ভাবা যায়!? এতদিনের যে একটা গ্যাপ যাবে, সেটা আমি কল্পনা করতে পারিনি। তবে নিজের ব্যক্তিগত কিছু কাজের জন্য এই গ্যাপটা নেওয়া প্রয়োজনও ছিল।

এতদিনের পোস্ট গ্যাপের কারণে প্রচুর প্রচুর কন্টেন্ট ফোনের গ্যালারি জুড়ে ভর্তি হয়ে রয়েছে। তাই আজ থেকে আবারও আমার গল্পের ঝুলি খুলে বসছি।

1000377325.jpg

আজকে আমি আপনাদের সকলের সাথে শেয়ার করতে চলেছি গত বছরের শেষ দিন অর্থাৎ ৩১ শে ডিসেম্বর রাতের কিছু মুহূর্ত। বছরের প্রথম দিনটা আমরা সকলেই একটু অন্যরকম ভাবে উদযাপন করে থাকি ।সেটা আমাদের বাংলা বছরের প্রথম দিন হোক কিংবা ইংরেজির প্রথম দিন।

20251231_191717.jpg

তবে পুরো পৃথিবী জুড়ে ইংরেজি বছরের প্রথম দিনটা খুব ভালোভাবে সেলিব্রেট করে সকলে। এ বছরে আমাদের নিউ ইয়ার সেলিব্রেশন আমরা আগের দিন রাতে করেছি।সেটা কেমন ছিল ,সেটাই আজকে আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করে নিচ্ছি।

20251231_191722.jpg

৩১শে ডিসেম্বর হঠাৎ করেই রাতের বেলায় আমার বাবা প্ল্যান করেছিল সকলে মিলে অর্থাৎ আমার বাবার বন্ধুরা তাদের ফ্যামিলি এবং আমাদের ফ্যামিলি, সকলে মিলে একটা জায়গায় যাবে। সে জায়গাটাও আমার বাবার বন্ধুর বাড়ি, সেটা একটু গ্রামের সাইডে এবং সেখানে গিয়ে ফিস্ট করবে।

কিন্তু সব শেষে সবকিছু আমাদের বাড়ির দিকেই চলে আসে। সবাই মিলে ঠিক করে আমাদের বাড়িতেই সকলে আসবে। এটা শুনে আমার বাবা ভীষণ আনন্দ পায়। তাই বিকেল বেলা থেকে সন্ধ্যা বেলার মধ্যে সমস্ত রকম ডিসিশন নিয়ে সবকিছু জোগাড় শুরু হয়ে যায়।

20251231_203058.jpg

ঠিক করে নেয়া হয় ছাদের ওপর পুরো আয়োজনটা করা হবে। আর কাঠের জালে রান্না হবে। কাঠের জালে রান্না যে কি দুর্দান্ত খেতে লাগে। যারা এইভাবে রান্না করে ,তারাই জানে। বেশিরভাগ সময় ফিস্ট করার ক্ষেত্রে আমি বাবা-মাকে বায়না করতে থাকি, কাঠের জালে রান্না করার জন্য। কাঠের জালে রান্নার প্রত্যেকটা খাবারের স্বাদ একটু অন্যরকম এবং সুস্বাদু হয়। সেই জন্য ইট দিয়ে একটা বড় করে উনুন বানিয়ে নেয়া হয়। ছাদের উপরে ত্রিফল দিয়ে একটা শেড মতো তৈরি করা হয়। যাতে মাথায় শিশির না পড়ে।

20251231_203047.jpg

সন্ধ্যে সাড়ে ছটা থেকে বাড়িতে এক এক করে সকলে আসতে থাকে। বাবার বন্ধুর স্ত্রী অর্থাৎ কাকিমারা এক এক করে এসে কাটাকুটির কাজে লেগে পড়ে ।যেহেতু অনেক কিছু কাটাকাটি করতে হবে। ওদিকে বাবা আর জেঠু, কাকুরা মিলে বাজারে চলে যায় কেনাকাটা করতে।। মেনু ছিল বাঁধাকপির পকোড়া, কাবাব চিকেন, খাসির মাংস,সাদা ভাত।

কাকু জেঠু সকলে মিলে মাংস কিনতে চলে যায়। এর সাথে এদিকে কাকিমারা মাংসের সমস্ত জিনিসপত্র কাটাকুটি করে আর তারপর চিকেনটাকে সমস্ত মসলা দিয়ে মাখিয়ে রাখা হয়।

20251231_203656.jpg

রান্না শুরু হতে হতেই চলে আসে আদা দিয়ে চা আর মুড়ি মাখা আর বাঁধাকপির বড়া ভাজা হতে থাকে। এত পরিমানের ঠান্ডা পড়ছিল যে সবাই মিলে একসাথে আমরা আগুনের তাপে হাত শেখছিলাম। চারিদিকের পরিবেশ টা খুবই সুন্দর লাগছিল।

20251231_203936.jpg

সবাই মিলে অপেক্ষা করছিলাম নতুন বছরের নতুন দিনের। শুরুটাই এত সুন্দর জমজমাট তাহলে কাঠের জালে রান্না তো আরও দুর্দান্ত হবেই। সবমিলিয়ে সেদিনকে সন্ধেটুকু এই ভাবেই শুরু হয়। বাকি কথা পরের পোস্ট এ শেয়ার করব।

Sort:  
Loading...