মেলায় ঘোরাঘুরি - ১ ম পর্ব

in Incredible India4 days ago

নমস্কার বন্ধুরা, আশা করছি আপনারা সকলে সুস্থ আছেন। আজকে আমি আপনাদের সকলের সাথে শেয়ার করতে চলেছি মেলায় ঘুরাঘুরির কিছু মুহূর্ত।

কৃষ্ণনগরে অর্থাৎ আমার শহরে প্রত্যেক বছর হস্তশিল্প মেলা অনুষ্ঠিত হয়। এবারেও হয়েছে। তবে এবারের মেলাটার নাম অন্যরকম রাখা হয়েছে। মেলায় প্রথম একদিন গিয়েছিলাম ,সেটা নিয়ে পরে একদিন শেয়ার করব।

1000394476.jpg

আজকে শেয়ার করছি, যেদিন মেলার শেষ দিন ছিল সেদিনকে যাওয়ার মুহূর্তগুলো। অনেকদিন ধরেই মেলায় যাব যাব করে পুরো সপ্তাহ কেটে গিয়েছে। তারপর যেদিন মেলা ভাঙবে অর্থাৎ যেদিন হয়ে মেলা উঠে যাবে ,সেদিন সন্ধ্যা বেলায় আমি আর মা প্ল্যান করে বেরোলাম।। ওদিক থেকে আমার পার্টনারও বেরিয়েছিল মেলার উদ্দেশ্যে। তবে ওর বন্ধুরা মেলায় আসবে ,তাই ওদের সাথেই ঘোরাঘুরি করবে ।গিয়েই প্রথমে আমি আমার পার্টনারের সাথে দেখা করে নিয়েছিলাম।

1000394482.jpg

আমার বাড়ি থেকে মেলা প্রাঙ্গণে যেতে টোটো করে মোটামুটি ১৫ মিনিট লাগে। তার ভাড়াও নেয় ,জনপ্রতি ১৫ টাকা। আমি আর মা গিয়েছিলাম টোটো করে। টোটো থেকে নেমে মেলায় ঢুকতে দেখি কিছু কিছু দোকান অলরেডি গোটাতে শুরু হয়েছে। লোকজনের ভিড়ও ছিল প্রচুর। সকলেই জানত যে মেলা সেদিনকে শেষ হবে, আর ভাঙ্গা মেলাতে জিনিসের দাম কম হয়। সেই জন্যই হয়তো এত লোকজন ছিল।।

প্রথমেই খুঁজে খুঁজে বার করলাম ভদ্রলোককে । ওকে খুঁজতে গিয়ে ফিরে এসে দেখি আমার মা অলরেডি, যে দোকানে ম্যাট বিক্রি করছে, সেখানে ম্যাট কেনা শুরু করে দিয়েছে। তবে ভালোই হলো, মা চারটে ম্যাট কিনেছে ১৩০ টাকা করে। ভাবা যায়? মোটামুটি ২০০ আড়াইশো টাকা দাম , নিয়ে থাকে দোকানে।

কিন্তু ওখানে মা ঠিক দাম দর করে চারটি ম্যাট কিনে নিল এই দামে। সব মিলিয়ে ৫২০ টাকা। ভারতীয় দামে স্টিম অনুযায়ী 74 স্টিম। তবে সেদিনকে আমার পকেট মা ভালই খালি করেছে।

তারপর আমরা মেলার অন্য একটা দিকে চলে আসলাম, যেখানে শুধুমাত্র খাবারের স্টল ছিল। বিভিন্ন রকম খাবার নিয়ে সকলে বসে ছিল। কোনো স্টলে পিঠে পাওয়া যাচ্ছিল, কোনো স্টলে মোমো, ফাস্টফুডের দোকান ছিল প্রচুর, কেক পেস্ট্রিও বাকি ছিল না, এমনকি আলাদা করে মিষ্টির দোকানও ছিল, ছিল পাপরি চাটের দোকান, আবার দেখি কড়াইশুঁটির কচুরি আর আলুর দমের দোকান।

এত খাবার দেখে কে লোভ সামলাতে পারে! হ্যাঁ আমরাও ভেজ মোমো আর অন্য আরেকটা দোকান থেকে কড়াইশুঁটির কচুরি অর্ডার করে নিলাম।। কড়াইশুঁটির কচুরি আলুর দম দিয়ে পারপ্লেট ৩০ টাকা করেছিল। ভেজ মোমো পার প্লেট দাম ছিল ৪০ টাকা।

1000394468.jpg

মেলায় ঢুকেই পেট পুজো করে নিয়েছিলাম যাতে ভালোভাবে ঘোরাঘুরি করতে পারি। সত্যি বলতে কড়াইশুঁটির কচুরিটা ভালো হলেও, আলুর দমটা খেতে কিন্তু একদমই ভালো ছিল না। তবে ভেজ মোমোটা খেতে খুব ভালো ছিল।

খাওয়া-দাওয়ার জায়গায় মানুষের ভিড় কম ছিল না। বরং মেলার মাঠের বেশিরভাগ লোকই খাওয়ার জায়গায় ভিড় করেছিল। বাঙালি মানে একটু ভোজন রসিক। খাবার যদি কিনে খেতেও হয়, তাতেও বাঙালির আপত্তি নেই। এই যে আমি যেমন ,বাড়িতে বানানো কড়াইশুঁটির কচুরিও মেলার মাঠে কিনে খাচ্ছি।
যাইহোক এখানেই আজকে শেষ করলাম ।পরবর্তী পর্বে বাকি কথা শেয়ার করব।