নবমীর দিন
নমস্কার বন্ধুরা, আশা করছি আপনারা সকলে সুস্থ আছেন। আজকে আমি আপনাদের সকলের সাথে শেয়ার করতে চলেছি দুর্গাপুজোর নবমীর দিনের মুহূর্তগুলো। দুর্গাপূজাতে আমার শরীর কি পরিমানে খারাপ করেছিল ,তা আপনাদের গত পোস্টগুলোতে আমি শেয়ার করেছিলাম।
অষ্টমীর পূজার অঞ্জলি দিতে গিয়ে নাজেহাল একটা অবস্থা হয়েছিল আমার। তারপরেও দিতে পেরেছি এটুকুই যথেষ্ট। বিকেলের দিকে ওষুধ খাওয়ার পর যখন শরীরটা অনেকটা সুস্থ হয় বাবা-মার সাথে একটু ঠাকুর দেখতে বেরিয়েছিলাম ।সেটা নিয়েও আপনাদের কাছে পোস্ট শেয়ার করেছি । আজ নবমীর দিন শেয়ার করছি।
জ্বর সর্দি লেগে থাকলে সকালে উঠতে স্বাভাবিকভাবেই দেরি হয়। শরীরটা খারাপ লাগে। নবমীর দিন সকালবেলাতে শরীরটা অনেকটাই সুস্থ লাগছিল ।ভেবেছিলাম সেদিনকে একটু বেরোবো। তবে শরীরটা কিন্তু অনেক দুর্বল ছিল । এ কারণে সকাল সকাল না বেরিয়ে একটু দেরি করে বেরোলাম।
দুপুরের দিকে মৌসুমী বৌদি আর ঈশানের সাথে ভাবলাম একটু রাজবাড়ী থেকে ঘুরে আসবো ।সাথে থাকবে আমার পার্টনার। যেহেতু অষ্টমীর দিন শাড়ি পড়তে পারিনি। এ কারণে মনে একটা চাপা কষ্ট ছিল।
তাই ভাবলাম নবমীর দিনকেই একটু শাড়ি পরে রাজবাড়ী থেকে ঘুরে আসি। আমি দু-তিনদিন ঠাকুর দেখতে পারিনি বলে আমার পার্টনারেরও মন খারাপ ।বেচারা ওই বা কি করবে। এই অসুস্থ শরীর নিয়ে আমাকে নিয়ে বেরোতে পারছে না।
তাই সেদিনকে আমাদের একটা প্ল্যান হলো রাজবাড়ীর দিকে যাওয়ার। আমি বেশ সুন্দর করে পছন্দমত শাড়িটা পড়লাম। যেটা আগে থেকে প্ল্যান করে রেখেছিলাম অষ্টমীতে পড়বো বলে।
চোখ মুখের বাজে অবস্থা ছিল ।তারপরেও শাড়িটা পড়ে বেশ ভালই লাগছিল । রেডি হয়ে যাওয়ার পর চলে গেলাম রাজবাড়ির উদ্দেশ্যে টোটো করে ।আমার পার্টনার ওর মামার বাড়িতে ছিল ।তাই ওখান থেকে ও আমাদের সাথে জয়েন করলো।
রাজবাড়ীতে পৌঁছে গিয়ে দেখি রাজবাড়ি বন্ধ ।সবাই ঘুরে যাচ্ছে। কি আশ্চর্যজনক ব্যাপার! প্রত্যেক বছর নবমীর দিন দুপুরবেলায় আসি রাজবাড়ীতে। এসে ছবি-টবি তুলি ।কোনদিনও রাজবাড়ী বন্ধ হতে দেখিনি। সেদিন হঠাৎ বন্ধ দেখলাম। আমার তো ওখানেই মাথা গরম হয়ে গেছে।।
ঠিকভাবে ঠাকুর দেখতে পাচ্ছি না তিন দিন ধরে। তার মধ্যে আজকে একটা প্ল্যান করলাম সবার সাথে ,সেটাও যদি ভেস্তে যায়, তাহলে আপনারাই বলুন কেমন খারাপ টা লাগে। আমার পার্টনার রাজবাড়ির গেট অবধি গিয়ে দেখে আসলো কথাটা সত্যি কিনা।
যখন বুঝল যে হ্যাঁ একটু আগে এনাউন্স করেছে আবার বিকেলের পরে অর্থাৎ চারটের পর রাজবাড়ী খুলবে, তখন আর কি করার। আমরা বেশ কিছুক্ষণ একটা ফুচকার দোকানের ছাতার তলায় বসে ডিসিশন নিলাম, কোথায় কি করা যায়।
মোটামুটি সবারই মাথা গরম হয়ে গিয়েছিল। অবশেষে প্রায় 5 থেকে 10 মিনিট ভাবনা চিন্তা করার পর সবাই মিলে ঠিক করলাম একটা রেস্টুরেন্টে বসা যাক ।হালকা পাতলা কিছু খাওয়া যাক।
সবাই এত সেজেগুজে এসেছি ।তাই এক জায়গায় কোথাও বসে গল্প করা যাক।। চলে গেলাম বাড়ির কাছে যে রেস্টুরেন্টটা আছে। যে রেস্টুরেন্ট এ বছরে নির্দিষ্ট একটা টাইমে আমি আর আমার পার্টনার প্রত্যেকবার যাবার চেষ্টা করি ।সেই রেস্টুরেন্টে। এটা রেস্টুরেন্ট কাম ক্যাফে। নাম জোনাকি ।
ক্যাফে তে গিয়ে ভেজ চাওমিন আর স্টিম মোমো অর্ডার করলাম সকলের জন্য। বাড়িতে গিয়ে ভাত খেতে হতোই। তাই অল্প অল্প করে অর্ডার করে নিলাম। তারপর ওখানে অনেকগুলো ছবি তুললাম। বেশ অনেকক্ষণ গল্প করলাম। এসব করতে করতে মনটা একটু হালকা হলো। আর ডিসিশন নিলাম বিকেল বেলার পরে সন্ধ্যার দিকে রাজবাড়ীর দিকে যাব আবার।
আজকের মত এখানেই শেষ করছি ।সকলে ভালো থাকবেন।।





