নববর্ষ - ১ম পর্ব
নমস্কার বন্ধুরা, আশা করছি আপনারা সকলে সুস্থ আছেন।আজকে আমি আপনাদের সকলের সাথে শেয়ার করতে চলেছি পহেলা বৈশাখের দিনের কিছু মুহূর্ত।
ইংরেজি মাসের প্রথম দিন অর্থাৎ নতুন বছরের নতুন দিন নিয়ে যে মাতামাতি থাকে সবার মধ্যে, সেটা আমরা সকলেই দেখতে পারি ।নতুন বছরকে সবাই বিভিন্ন পদ্ধতিতে বিভিন্ন রকম ভাবে নিজের মন মতন করে উদযাপন করার চেষ্টা করে। বাঙালি নববর্ষের দিনটাও বাঙ্গালীর কাছে অত্যন্ত স্পেশাল। তারাও খুবই উদযাপন করে এই দিনটা ,তবে সবাই সবার মতো করে।
বাঙালির কিছু কিছু বাড়িতে সেদিন বিভিন্ন রকম রান্না হয়ে থাকে ,যেগুলো বাঙালির স্পেশাল রান্না। কারো বাড়িতে সেদিন পুরোপুরি নিরামিষ পদ হয়, আবার কারো বাড়িতে আমিষ। তবে আমাদের বাড়িতে নিরামিষ হয়ে থাকে।
কিছু মানুষ বাড়িতে রান্না না করে সেদিনকে অন্য কোন ভাল রেস্টুরেন্টে গিয়ে উদযাপন করে। নববর্ষ আসার আগেই তো নতুন জামা হয়ে যায়। নববর্ষ আসার আগে প্রিয় মানুষদের কাছ থেকে আমরা নতুন পোশাক উপহারও পাই। দূরে থাকা বাঙালিরা ঘরে ফিরে আসে সেদিন বাড়ির মানুষের সাথে সময়টা কাটাতে ।আবার কেউ হয়তো কাজের সূত্রে বাংলার বাইরেই থাকতে হয়। সব মিলিয়ে নববর্ষটা একটু অন্যরকম কাটে ।
সন্ধ্যের দিকে হালখাতা করার একটা প্রচলন রয়েছে। সারা বছরের কোনরকম দেনা পাওনা থাকলে সেগুলো সেদিনকে মিটিয়ে দেওয়ার জন্য এই হালখাতা। এছাড়াও বছরের শুরুতে প্রত্যেক ব্যবসায়ীরা নতুন খাতা খোলে, তাই প্রত্যেক কাস্টমারকে এই উপলক্ষে নিমন্ত্রণ জানায় দোকানে। তাই ব্যবসায়ীদের জন্য নববর্ষের দিন লক্ষ্মী গণেশ পূজো হয়। প্রায় বেশিরভাগ ব্যবসায়ীরা তাদের কাস্টমারদের নিমন্ত্রণ করে থাকে সেদিন।
বাঙালির কাছে হালখাতা একটা বেশ মজার ব্যাপার ।সন্ধে লাগলেই সকলে সেজেগুজে বেরিয়ে পড়ে মার্কেটে ।যেসব দোকান থেকে তাদের নিমন্ত্রণ আসে, সেসব দোকানে তারা নিমন্ত্রণ রক্ষা করতে যায় এবং সাথে খাওয়া-দাওয়া এবং মিষ্টিমুখ আর নতুন বছরের নতুন ক্যালেন্ডার ।
এইবার নববর্ষ আমার কেমন কেটেছে ,আমি সেইটাই আজকে শেয়ার করছি। নববর্ষের আগেই অনেকগুলো জামা কেনা হয়েছিল আমার ,তো জামা কেনার তো শেষ থাকে না, সারা বছরই মোটামুটি জামা কিনতে থাকি। তবে নববর্ষের আগে নিজে জামা কাপড় বেশি না কিনলেও প্রিয় মানুষদের কাছে কাছ থেকে জামা কাপড় প্রচুর পেয়েছি।
সকাল বেলায় দিনটা বিভিন্ন রকম কাজে ব্যস্ততাই কেটে গিয়েছে। সকালবেলা উঠেই দেখি ঠাকুর ঘরে পুজো করছে মা। আর আমাদের গোপাল দাদা নতুন জামা পড়ে একদম ফিটফাট। মা গোপাল ঠাকুরের জন্য নববর্ষের আগে জামা কিনেছিল। জামাটা পড়ে ওকে একদম ছোট্ট বাচ্চা লাগছে। সাইট থেকে ছবিটা তুলেছি, বাচ্চারা যেমন বসে থাকে ,ঠিক সেরকম ভাবেই যেন আমাদের ঠাকুরটা বসে আছে। মা খুব সুন্দর করে ঠাকুর গুলোকে সাজিয়েছে ফুল দিয়ে। সকাল সকাল নববর্ষের দিন গোপু দাদার মুখটা দেখে মনটা ভরে গেল।



