পুরীর প্রথম দিন - সন্ধ্যের মুহূর্ত

in Incredible India5 days ago

নমস্কার বন্ধুরা, আশা করছি আপনারা সকলে সুস্থ আছেন। গতকাল আমি আপনাদের সকলের সাথে শেয়ার করছিলাম। আমার প্রথম দিনের পুরীতে কেমন কাটলো। বিকেল বেলার দিকে সমুদ্র সৈকতে যাওয়া হয়েছিল এবং কেমন আনন্দ করছিলাম ,সেটাই আগের পোস্টটাতে শেয়ার করছিলাম, আজকে তারপর থেকেই লিখছি।

1000464984.jpg

বীচে সেদিনকে আমি অনেকটা সময় কাটিয়েছি। অনেকটা মানে অনেকটা । গিয়েছিলাম হয়তো সাড়ে চারটে পাঁচটা নাগাদ। তারপরে সন্ধ্যেবেলা টুকু সময়টা ওখানে ছিলাম ।মানে ওই সাড়ে সাতটা আটটা অব্দি ওখানে ছিলাম। মা-বাবারা স্নান করে চলে যাওয়ার পরেও আমি আর ওই বোন অর্থাৎ ওর নাম দিশা ছিলাম ওখানেই। বাবা মা যখন স্নান করছিল প্রচুর ছবি তুলেছিলাম।

1000464924.jpg

কিছু কিছু হাস্যকর ছবিও উঠেছে। যেমন আমার মা-বাবা পুরো কুমিরের মতন জলের মধ্যে শুধু মাথার চোখ দুটো বার করে বসে আছে। অজান্তে এরকম একটা হাস্যকর ছবি উঠেছে। বাবা পেঙ্গুইনের মতন হেটে হেঁটে সমুদ্রের দিকে যাচ্ছে। কখনো বাবা ঈশান কে টেনে নিয়ে যাচ্ছে কখন মাকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। আরো বিভিন্ন ধরনের।

1000464925.jpg

যখন বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যের অন্ধকার আস্তে আস্তে আকাশটাকে ঢাকতে লাগলো তখন আকাশটা সত্যি সুন্দর লাগছিল। সূর্য ডোবার মুহূর্তটা একটা মায়াবী রূপ আমাকে দেখিয়ে দিল। আমি আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিলাম। সমুদ্র সৈকতে সূর্য ওঠা আর সূর্য অস্ত যাওয়া একটু অন্যরকম দেখতে লাগে। যেভাবে আমরা বাড়ি থেকে দেখি ,তার থেকে একেবারেই আলাদা ,যেন মনে হয় অনেক কাছে আছি। পাহাড়ে গেলেও এরকম হয়।

1000464988.jpg

দিশা আর আমি মিলে প্রচুর ছবি তুলেছি। আর বাবা-মা যখন স্নান করছিল তখন একজন ক্যামেরাম্যানকে দিয়ে কিছু ছবি তোলা হয়েছিল। ওই সময় ওখানে প্রচুর ক্যামেরাম্যান ঘুরে বেড়ায় ছবি তুলে দেওয়ার জন্য। ক্যামেরাম্যানের তুলে দেওয়া ছবিগুলো আমার ভীষণ পছন্দ হয়েছে।

1000464962.jpg

দিশা আর আমি অনেক গল্প করেছি একদম সমুদ্রের তীরে বসে ।লেবু চা খেয়েছি। সমুদ্রের একদম খোলা ঠান্ডা হাওয়া একদম প্রাণ জুড়িয়ে দিচ্ছিল। মনে হচ্ছিল এই জন্যই যেন এখানে আসা। সত্যিই তো আমরা এই কারণেই ওখানে যাই ,একটু শান্তির খোঁজে।

1000464976.jpg

বাবা মা স্নান করে উঠে হোটেলে ফিরে গিয়েছিল, ওরা বলেছিল যে আবার ফ্রেশ ট্রেশ হয়ে স্নান সেরে তারপরে আবার রেডি হয়ে আসবে।
আসলে সমুদ্র থেকে স্নান করে উঠে যদি আবার স্নান না করা হয় নরমাল জলে, তাহলে চুল ও স্কিনের ক্ষতি হয় প্রচন্ড পরিমাণে ।তাই এই কারণেই সমুদ্রের জল থেকে স্নান করে উঠে আবার স্নান করতে হয়।

1000464963.jpg

বাবা মা যতক্ষণে আসলো তার আগে অবধি আমরা ওখানেই বসে ছিলাম। আমি ,দিশা আর ওর বাবা মিলেই বসে ছিলাম ।ওখানেই গল্পগুজব করতে করতে সময় কিভাবে কেটে গেল বুঝতেই পারলাম না। দিশার বাবা আইসক্রিম কিনে দিল। সমুদ্রের খোলা হাওয়া খেতে খেতে আইসক্রিমও খেয়ে নিলাম। ওদিকে আমার বাবা-মাও চলে আসলো ।

1000464926.jpg

মা সমুদ্রে নেমেছিল চুড়িদার পরে ।কিন্তু এখন দেখছি শাড়ি পরে চলে এসেছে বাবার সাথে। বাবা মা যতক্ষণ না এসেছে, আমি, দিশা আর ওর বাবা মিলে একটু সমুদ্রের পাশেই যে মার্কেটটা ছিল ,মানে বালির ওপর মেলার মতন করে ছোট ছোট দোকান বসে।সেগুলো একটু ঘোরাঘুরি করছিলাম ।ওই দিনকে আমি দোকান থেকে সেরকম কিছু কিনিনি ।জাস্ট ঘুরে একটু দেখছিলাম। আর এই ভাবেই সময়টা কাটাতে ভালো লাগছিল।

1000464927.jpg

সেদিনকে আমি যে জামাটা পড়েছিলাম, ওটা একটা লং ড্রেস স্লিভলেস ।কখনো কখনো আমি আমার ব্ল্যাক কালারের শ্রাগ নিয়ে ছবি তুলছিলাম। আবার কখনো সেটা ছাড়া । তবে যদি হাতে টাইম থাকতো আমি অবশ্যই একটা হোয়াইট কালারের শ্রাগ কিনতাম, পুরীতে আসার আগে।

1000464980.jpg

ফেরার পথে দেখি সমুদ্র সৈকতে একটা কাপল বসে গল্প করছে। মুহূর্তটা দেখে খুব ভালো লাগলো। একটু মন খারাপ করছিল প্রিয় মানুষটার জন্য।। একদিন আমি আর সে মিলেও অবশ্যই আসবো। এভাবেই বসে গল্প করবো সমুদ্রের হাওয়া খেতে খেতে।

সময়টা ভালো কাটলো সেদিনকের মত অর্থাৎ রবিবার। পরের দিন সোমবার আমাদের প্ল্যান ছিল জগন্নাথ মন্দির যাওয়ার ,এ কারণে আমরা রবিবারের রাতে তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়েছিলাম খাওয়া-দাওয়া করে।

আজকে এখানেই শেষ করছি সকলে ভালো থাকুন। পরের দিন শেয়ার করব জগন্নাথ মন্দিরে পুজো দেওয়ার মুহূর্ত।

Sort:  
Loading...
Loading...