লক্ষ্মীপুজো - তৃতীয় পর্ব
নমস্কার বন্ধুরা, আশা করছি আপনারা সকলে সুস্থ আছেন। প্রায় এক মাস ধরে আমাদের বাড়িতে একের পর এক সকলেই অসুস্থ হয়ে পড়ছে। আমার নিজের অসুস্থতা ভাইয়ের অসুস্থতা বাদ দিলাম।প্রশ্ন হল মাকে নিয়ে। বাড়িতে মা অসুস্থ হয়ে গেলে সত্যিই খুব খারাপ জায়গায় পৌঁছে যায় সবকিছু। মায়ের শরীর প্রচন্ড খারাপ থাকায় মাঝেমধ্যেই পোস্টে এতটা পরিমাণে গ্যাপ পরছে । যেহেতু সবকিছু আমাকেই সামলাতে হচ্ছে।
সপ্তাহে ২/৩ টের বেশি পোস্ট করতে পারিনি। এজন্য আমি সত্যিই দুঃখিত। আশা করছি আপনারা বিষয়টা বুঝবেন। আমি চেষ্টা করছি যতটা সম্ভব তাড়াতাড়ি আবার কাজের মধ্যে ফেরার। যাইহোক আজকে আমি আপনাদের সকলের সাথে শেয়ার করতে চলেছি লক্ষ্মী পূজার পরবর্তী মুহূর্তগুলো।
ব্রাহ্মণ পুজো করতে করতে এদিকে আমি ঠাকুর ঘরের জিনিসগুলো গোছাতে থাকি। সব কিছু এলোমেলো হয়ে থাকে সকালবেলা থেকে এত কাজ করার জন্য।
তারপরে পূজো শেষ হয়ে যাওয়ার পর প্রসাদ খেতে বসলে মায়ের কাছে বকুনি খেতে হয়। মা বলে সবার আগে প্রতিবেশীদের বা অন্যদের প্রসাদ আগে দিতে হবে, তারপর মুখে প্রসাদ দিবি। সকাল থেকে আমরা বাড়ির সকলেই না খেয়েছিলাম ।
সেদিন ঈশান শুধুমাত্র সকালবেলায় ভাত খেয়েছিল। বাকি আমরা সবাই পুরোপুরি উপোস। আমি তো এত উপোস করতে পারি না ।তাই ডাবের জল খেয়েছিলাম একবার। পূজো হয়ে যাওয়ার পর প্রত্যেক বছরই শরীরটা একদম ছেড়ে দেয়। এ বছরও তাই হয়েছিল।
সকলের জন্য বসে বসে প্রসাদ প্লেটে সাজাতে হয়। সিন্নি প্রসাদ টাকে সুন্দর ভাবে বাবা মেখে নেয়। তারপর কিছুটা সিন্নি আলাদা করে তুলে রাখি। যাতে পরবর্তীতে কম পড়লে একটু দুধ বা জল মিশিয়ে আরেকটু পাতলা করে দেওয়া যায়। আমাদের বাড়িতে বিনা নিমন্ত্রণে প্রত্যেক বছর প্রচুর মানুষ প্রসাদ খেতে আসে ।প্রায় ৬০/৭০ জন।। পাড়াতে কাউকেই পুজোর জন্য নিমন্ত্রণ করা থাকে না। মৌসুমী বৌদি কিংবা খুব ঘনিষ্ঠ কিছু জন ছাড়া। তা সত্ত্বেও সন্ধ্যেবেলার দিকে একবার হলেও পড়ার সকলে দেখা দেয় ।
আসলে ব্যাপারটা হল আমার ঠাম্মা দাদুর সময় থেকেই সকলেই আমাদের বাড়িতে প্রসাদ খায় এই পুজোর দিনকে। এটা যেন সকলের একটা অধিকার ।সেদিন সকলেই আমাদের বাড়িতে আসে। আত্মীয়-স্বজন সকলকেই মা আগের দিন ফোন করে বলে দেয়, তারা তো থাকেই। যারা যারা পাড়া থেকে বাড়ি অব্দি এসে পৌঁছাতে পারেনা অর্থাৎ বয়স্ক যারা।মা তাদের জন্য প্রসাদ পাঠিয়ে দেয়।
প্রসাদ বাড়তে বাড়তেই অনেকটা সময় চলে যায়। সন্ধ্যা থেকে প্রায় দশটা অব্দি খালি প্রসাদ বিতরণ করতেই হয়। কথায় আছে নর নারায়ণ । নারায়ন সেবার অর্থই হল মানুষের সেবা করা। ভগবান যে আমাদের সেই সেবা করার সুযোগ দেয়,এটার জন্য আমরা চির কৃতজ্ঞ।
প্রত্যেক বছরের মতন এ বছরেও বাড়ি ভর্তি লোকজন ছিল সন্ধ্যা বেলা থেকে।। আজ এখানেই শেষ করছি। সকলে ভালো থাকবেন। পরবর্তী পোস্টে বাকি কথা শেয়ার করব।


curated by: @ahsansharif